কোকাকোলা খাওয়া ফিলিস্তিনি মুসলমানদের রক্ত খাওয়ার শামিল-আল্লামা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, সন্ধ্যা ৭:০২, ১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

কোকাকোলা খাওয়া ফিলিস্তিনি মুসলমানদের রক্ত খাওয়ার শামিল-আল্লামা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন

editorbd
প্রকাশিত জুন ১৫, ২০২৪
কোকাকোলা খাওয়া ফিলিস্তিনি মুসলমানদের রক্ত খাওয়ার শামিল-আল্লামা ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক স্কলার ও বিশিষ্ট ইসলামি বুদ্ধিজীবী আল্লামা ড.আ.ফ.ম খালিদ হোসেন বলেছেন,আমরা বেশির ভাগ মানুষ স্বাস্থ্য-সচেতন নয়। ফলে যে-কোনো খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করবার পূর্বে এর স্বাস্থ্যগত সচেতনতাবোধ অতীব জরুরি।আপনি কি জানেন বছরের পর বছর কোকাকোলাসহ যে পানীয় বা ‘সফট ড্রিংকস’ আপনি সহজ-অনায়াসে গ্রহণ করছেন তা কতটুকু স্বাস্থ্যসম্মত? কি ক্ষয়-ক্ষতি আপনার শরীরের করছে এ পানীয়! গবেষক “মার্ক-পেন্ডারগ্রাস্ট’’ কোকাকোলার ওপর দীর্ঘ গবেষণা করে (ফর গড, কান্ট্রি এন্ড কোকাকোলা) “দ্য ডেফিনিটিভ হিস্ট্রি অফ দ্যা গ্রেট আমেরিকান সফট ড্রিংক এন্ড দ্য কোম্পানি দ্যাট মেকস ইট” শিরোনামে একটি বই লিখেছেন। এ বইতে তিনি শতাব্দীব্যাপী গোপন করে রাখা কোকের ফরমুলা প্রকাশ করে দিয়েছেন। এ ফরমুলার একটি উপাদান হলো হারাম ‘এলকোহল। সুতরাং আপনি যদি মুসলিম হয়ে থাকেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুন আপনি কি খাচ্ছেন আর আপনার সন্তানকেই বা কি খেতে উৎসাহিত করছেন!! সম্প্রতি চট্টগ্রামের একটি জামে মসজিদের খুৎবা পূর্ব বয়ানে এসব তথ্য তুলে ধরেন আল্লামা খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোকাকোলা বেশি পরিমাণ খেলে তা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন থেকে শুরু করে আতঙ্ক, উদ্বেগ প্রবণতা, পেশিতে টান লাগা, অসংলগ্ন কথাবার্তা, বিষণ্ণতা এবং উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভবতী মহিলা যারা সফট ড্রিংকস খেয়েছেন তাদের অসময়ে গর্ভপাত, সমযের আগেই প্রসব বা কম ওজনের বাচ্চা জন্ম দেয়ার অধিক ঝুঁকি বাড়ে। আল্লামা খালিদ হোসেন বলেন, একটি শিশু যদি প্রতিদিন একটা করে বাড়তি সফট ড্রিংকস খায়, তাহলে তার ওজন বাড়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় প্রায় ৬০%। আর এতে করে আপনার বাচ্চা বা আপনার শরীরে বহু রোগের বাসা বাঁধবে। এক বোতল বা এক ক্যান সফট ড্রিংকসে ক্যালরির পরিমাণ হলো, ১৬০ যা ১০ চামচ চিনির সমান। এ পরিমাণ ক্যালরি ঝরাতে প্রত্যহ আপনাকে ভারী ব্যায়াম করতে হবে সাড়ে ৪ ঘণ্টারও বেশি, কিন্তু আপনি কি তা করেন? তাহলে বুঝুন আপনি নিজেই আপনার কি পরিমান ক্ষতি করছেন?! কাকাকোলার কিছু অংশ যদি আপনি ঘণ্টাখানিক মুখ ভর্তি করে রাখেন তবে, আপনার ধবধবে সাদা মুক্তোর মতো দাঁতগুলোতে স্থায়ীভাবে হলুদ প্রলেপ পড়ে যাবে।যার কারণে দাঁতের এনামেল ক্ষয় হয়ে যাবে। কোকাকোলা তথা সফট ড্রিংকসের ঝাঁঝালো স্বাদ বাড়ানোর জন্য এতে ‘ফসফরিক’’ জাতীয় এসিড ব্যবহার করা হয়।এ-এসিড এত শক্তিশালী যে, একটা শক্ত নখ যদি এ এসিডের মধ্যে ৪ দিন ডুবিয়ে রাখা হয়, তবে চার দিন পর আর আপনি নখটাকে খুঁজে পাবেন না! নখটিকে এসিডের ক্রিয়ায় গলে যাবে । এবার চিন্তা করুন, এ সফট-ড্রিংকসগুলো আপনার পেটে কি পরিমাণ ক্ষয়-ক্ষতি করছে আপনার অজান্তেই? ফসফরিক এসিডের আরেকটি কাজ হলো, হাড়ের ক্যালসিয়ামকে ক্ষয় করা । ১৯৯৪ সালে টিনএজ মেয়েদের ওপর চালানো হার্ভার্ডের এক গবেষণায় দেখা যায় যে, মেয়েরা সফট ড্রিংকস পান করে অন্যদের তুলনায় তাদের হাড়ভাঙার প্রবণতা ৫গুণ বেশি বেড়ে যায়। তাছাড়া সফট ড্রিংকসে যে চিনি ব্যবহার করা হয়, ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে এটাও এসিড তৈরি করে। আমরা অনেকে মনে করি আমেশজাতীয় ভারী খাবার খাওয়ার পর সফট-ড্রিংকস খেলে খাবার দ্রুত হজম হয়!! অথচ এটা যে কত মারাত্মক ভুল ধারণা তা একটু বললেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। সাধারণত আমাদের দেহে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খাবার হজম হয়। মহান আল্লাহ এ সক্ষমতা-শক্তি দিয়ে-ই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সফট ড্রিংকস যখন আমরা গ্রহণ করি -তখন, পেটের তাপমাত্রা ৩৭ থেকে নেমে ৩/৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এসেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। কাজেই খাবার গ্রহণের পর যখন ঠাণ্ডা কোমল পানীয় পান করা হয়, তখন এ কোকাকোলা এবং সফট-ড্রিংকস হজমে তো সাহায্য করেই না, উল্টো পচন ধরায়। তাছাড়া এ সফট-ড্রিংকসগুলো এসিডিক হওয়ার কারণে সফট ড্রিংকস পাকস্থলীর সংবেদনশীল এলকালাইন ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে। ফলে পেট ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া, বদহজম. গ্যাস, টক ঢেকুরসহ ইত্যাদি নানা সমস্যার সৃষ্টি করে। ভারী খাবার খেলে পরে সফট-ড্রিংকস খেলে হজম দ্রত হয় এ মারাত্মক ভুল থেকে আজ-ই বেরিয়ে আসুন। আল্লামা খালিদ হোসেন বলেন, কোকাকোলা বহু দশক যাবত যায়োনবাদরে সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক! ফিলিস্তিনের দখল করা ভূমিতে ফ্যাক্টরি বানিয়েছে কোকাকোলা। এ কারণে ১৯৬৭ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত আরবলীগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোকাকোলা বয়কট করেছিল। ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও অবৈধ স্থাপনা থেকে মুনাফা করার কারণে কোকাকোলাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে খোদ জাতিসঙ্ঘ। কোকাকোলার সব চেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ‘‘ওয়ারেন বাফেট’’ যে কি না পৃথিবী সবচেয় প্রভাবশালী যায়োনবাদীদের অন্যতম। নিজের বিপুল অর্থ ব্যবহার করে সে নানাভাবে ইস্রাইলেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। যায়োনবাদ হল, ঐ মতবাদ এবং রাজনৈতিক আন্দোলন যার ভিত্তিতে মুসলিমদের ভূমি জবরদখল করে দখলদার ইসরাইলী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ কোকাকোলা খাওয়া মানেই হল মুসলিম ফিলিস্তিনদের রক্ত খাওয়ার শামিল!! আজই কোকাকোলা বর্জন করুন এবং বয়কট করুন।

সুত্র:এফএনএস ডটকম

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।