সিলেটে বাংলা ইশারা দিবস পালিত প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা ও হেল্পডেস্ক চালু হবে

প্রকাশিত February 17, 2019
সিলেটে বাংলা ইশারা দিবস পালিত প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে ৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা ও হেল্পডেস্ক চালু হবে

ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেটে পালিত হয়েছে বাংলা ইশারা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার নগরীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ইশারা ভাষা সকলের অধিকার’। সিলেট জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও সিলেট জেলার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি সংগঠনসমূহের যৌথ উদ্যোগে সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামন থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে জেলা ও শহর সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালনাধীন বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ, প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) আসলাম উদ্দিন। সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. লুৎফুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুর রফিক, গ্রামীণ জনকল্যাণ সংসদ সিলেটের সভাপতি জামিল চৌধুরী, সাবেক সিটি কাউন্সিলার মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, সিলেট বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সাংবাদিক মকসুদ আহমদ মকসুদ, প্রতিবন্ধী নাগরিক পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মাসুম আহমদ চৌধুরী, সাংবাদিক এম. আহমদ আলী, সিএসআইডি এর প্রকল্প ম্যানেজার খ.ম আবেদুল্লা, ব্রাক ডিসএ্যাবিলিটি শাখা প্রতিনিধি মোনায়েম আলম আজাদ, শাহজালাল রাগিব-রাবেয়া প্রতিবন্ধী সেবাকেন্দ্রের অধ্যক্ষ শামীমা নাসরিন, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আতাউর রহমান খান শামস, সিলেট বধির সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, শাহজালাল মুক ও বধির কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জহির আলম, সিলেট বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া নাসরিন। সভায় আলোচকরা বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) আসলাম উদ্দিন বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর পরিবারের অংশ। এদের উন্নয়ন ও কল্যাণে নিজেদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আগামী সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধীদের ব্যাপারে খুবই আবেগি এবং অনুরাগি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান প্রতিবন্ধীদেরকে সমাজের এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল শ্রোতধারায় নিয়ে আসতে। এক্ষেত্রে তার সরকার বাংলা ইশারা ভাষা দিবসের সীকৃতি প্রদানসহ নানামূখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সভায় তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি জেলার অংশ হিসেবে সিলেটের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন ও কল্যাণে ইতোমধ্যে ৩ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বছরভিত্তিক ৩টি স্তরে গৃহীত এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এ পরিকল্পনার আওতায় জেলার সকল প্রতিবন্ধীদের ডাটাবেস তৈরি করে তাদের সবধরণের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। প্রতিবন্ধীদের দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে সুস্থ এবং সুন্দরভাবে সমাজের বসবাসের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। সভায় সিলেট বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি সাংবাদিক মকসুদ আহমদ মকসুদ প্রতিবন্ধীদের যেকোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান ও তাদের যেকোনো বিষয়ে সহযোগিতা প্রদানের জন্য জেলা ভিত্তিক প্রতিবন্ধী হেল্পডেস্ক চালুর দাবি উত্থাপন করলে সভার প্রধান অতিথি এ প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, এটি খুবই ভাল একটি ধারণা। সিলেটে আমরা প্রথমে হেল্পডেস্ক চালু করবো এবং সিলেট হবে এক্ষেত্রে দেশের মডেল। অনুষ্ঠানটি ইশারা ভাষায় উপস্থাপন করেন সিলেট সরকারি বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাঈম খান।

এই সংবাদটি 1,225 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।

ভাল নেই হবিগঞ্জের চার উপজেলার মানুষ, প্লাবিত হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম মনসুর আহমেদ, হবিগঞ্জ:- হবিগঞ্জে বাড়ছে থই থই পানি! চোখ রাঙাচ্ছে খোয়াই, কালনী, কুশিয়ারা শহরবাসী, হাওরবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ! ইতিমধ্যে ডুবে গেছে জেলার নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, লাখাই উপজেলা। প্রতিদিনই নতুন করে কোন না কোন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। লাখাই উপজেলার মোড়াকরি গ্রামের বাজারে যাওয়ার রাস্তায় অবস্থিত একমাত্র পাকা ব্রীজটি বন্যার পানিতে সম্পুর্ণ ধ্বসে গেছে। আজমিরীগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে তারা মিয়া (৫০) নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার ৪টি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় চার শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। দূর্ভোগে পড়েছে লাখ-লাখ মানুষ। এর মধ্যে গত কয়েকদিন যাবত বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার ও তীব্র বিশুদ্ধ পানি সংকট। যদিও জেলা প্রশাসন বলছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে ত্রাণ সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে। সবশেষ জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন পুরোপুরি বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। আর এসব এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৪ হাজার ৫৮১টি পরিবার। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ১৮ হাজার ৪১০ জন মানুষ। তাদের জন্য এরই মধ্যে সরকার থেকে ৭৬৩ টন চাল, ২০ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা, ২ হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, সিলেট ও সুনাগঞ্জের বন্যার পানি কালনি-কুশিয়ারা দিয়ে নামছে হবিগঞ্জে। অন্যদিকে মেঘনা নদীর পানি বেড়ে বইছে উজানে। এতে উজান-ভাটি দু’দিক থেকেই হবিগঞ্জে ঢুকছে পানি। সেই সাথে তীব্র হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় গত তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাড়তে থাকে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি। এরই মধ্যে কালনি-কুশিয়ারা ও খোয়াই নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ফলে সোমবার থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। এদিকে, আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, নবীগঞ্জ ও লাখাই উপজেলার প্লাবিত হওয়া গ্রামগুলোর বেশ কিছু পরিবার স্থান নিয়েছে আশ্রয় কেন্দ্রে। বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুপাখি নিয়েও অনেকে পড়েছেন বিপাকে। ডুবে গেছে টিউবওয়েল ও টয়লেটও। যে কারণে দূর্ভোগের মাত্রা চরম আকার ধারণ করছে। দেখা দিয়েছে খাবার ও তীব্র বিশুদ্ধ পানি সংকট। অনেককেই আবার যে সব স্থানে টিউবওয়েল ডুবে যায়নি সেই সব স্থান থেকে নৌকা অথবা কলা গাছের ভেড়া করে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্যমতে, এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। সেখানেও রয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানি সংকট। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া আমির আলী নামে এক ব্যক্তি জানান, বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তার ঘর-বাড়ি। পরে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি স্কুলে। শুধু তিনিই নন সেখানে অবস্থান করছে আরো প্রায় ৩০টি পরিবার। তিনি বলেন, কোন রকম দু’বেলা দু’মুটো ভাত রান্না করে খেতে পারলেও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রামের দূরবর্তী অন্যএকটি বাড়ি থেকে প্রতিদিন দুই বার নৌকা করে গিয়ে পানি আনতে হচ্ছে। শরিফা খাতুন নামে এক নারী জানান, পানির সংকটতো রয়েছেই। তারমধ্যে আমাদের ঘরের খাবারও পুরিয়ে যাচ্ছে। দুইদিন হল আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছি কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন ত্রাণ পাইনি। খাদিজা আক্তার নামে অপর আরেক নারী বলেন, চার দিন হয়েছে আমি আমার পরিবার নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি। এখন পর্যন্ত খাদ্য সহায়তা পাইনি। খাবার পানিরও সংকট রয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানি বিশুদ্ধিকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কুপি ও মোমবাতি জ্বালাতে হচ্ছে আমাদের। হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যে কারো জরুরী ভিত্তিতে খাবারের প্রয়োজন হলে ৩৩৩ হটলাইনে কল দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবারের প্যাকেট দেয়া হচ্ছে। এতে চিড়া, চিনি, মুড়ি, বিস্কুট, মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যবলেট, খাবার স্যালাইন ও দিয়াশলাই দেওয়া হয়েছে।