অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু করবে রাশিয়া-ইউক্রেন: ট্রাম্প

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন ‘অবিলম্বে’ যুদ্ধবিরতি ও যুদ্ধাবসানের জন্য আলোচনা শুরু করবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপকে ‘খুব ভালো’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, শান্তির শর্ত উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করতে হবে। পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপের পর তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, পুতিন বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে ‘সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তিসংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি’ নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, জেলেনস্কি এটিকে ‘একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনা থেকে দূরে না থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ৩০ দিনের নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির দাবি প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। ট্রাম্পের সঙ্গে একান্তে কথা বলার পর জেলেনস্কি ইউক্রেনের ‘পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি’র আকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, মস্কো প্রস্তুত না থাকলে রাশিয়ার ওপর ‘আরও শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করতে হবে।

Manual1 Ad Code

ট্রাম্প-পুতিন আলোচনার আগে জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে যেন কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, কারণ এটি ইউক্রেনের ‘নীতিগত বিষয়’। তিনি আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতির ‘স্মারকলিপি’ সম্পর্কে তাঁর কাছে কোনো বিশদ বিবরণ নেই। তবে রাশিয়ার কাছ থেকে কিছু পেলে তারা ‘সেই অনুযায়ী তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সক্ষম হবেন।’

Manual5 Ad Code

ট্রাম্প নিজ মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যালে শেয়ার করা এক পোস্টে ফোনালাপের পর লিখেছেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেন অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আরও গুরুত্বপূর্ণভাবে, যুদ্ধের অবসানের জন্য আলোচনা শুরু করবে।’ তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় কলে তিনি জেলেনস্কিকেও এ কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এর (যুদ্ধবিরতির) শর্তগুলো উভয় পক্ষেরই আলোচনা করা হবে। কারণ, এটি কেবল তাদের পক্ষেই সম্ভব।’

তবে জেলেনস্কি বলেছেন, আলোচনা প্রক্রিয়ায় ‘উপযুক্ত পর্যায়ে আমেরিকান ও ইউরোপীয় উভয় প্রতিনিধিকে জড়িত থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা এবং শান্তি প্রচেষ্টায় নিজেদের দূরে না সরিয়ে রাখে। কারণ, এতে কেবল পুতিনেরই লাভ হবে।’

ফোনকলের পর হোয়াইট হাউসের একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা মধ্যস্থতা থেকে সরে আসবে না। তবে কখন তিনি উভয়কে চাপ দেওয়া বন্ধ করবেন, সে বিষয়ে তাঁর ‘মাথায় একটি চূড়ান্ত সময়সীমা’ রয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, শান্তি স্থাপনে মস্কো ও কিয়েভের পক্ষ থেকে অগ্রগতির অভাব দেখে তিনি ক্রমশ হতাশ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা থেকে সরে আসবে। রাশিয়া সম্পর্কে তাঁর বিশ্বাস জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন—তিনি মনে করেন, পুতিন যুদ্ধের যথেষ্ট দেখেছেন এবং এটি শেষ করতে চান।

Manual7 Ad Code

এদিকে, পুতিন ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপকে ‘খোলামেলা, তথ্যবহুল ও গঠনমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একমত হয়েছি যে, রাশিয়া একটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ শান্তি চুক্তি সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি ইউক্রেনকে প্রস্তাব করবে এবং তার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, এটি ‘বেশ কয়েকটি অবস্থান’ সংজ্ঞায়িত করবে, যার মধ্যে রয়েছে ‘নিষ্পত্তির নীতি এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি শেষ করার সময়সীমা…একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিসহ।’

ট্রাম্প পুতিনের সঙ্গে কথা বলার পর জেলেনস্কি ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিতীয়বার কথা বলেন। সে সময় জেলেনস্কির পাশে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন এবং ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি ও ফিনল্যান্ডের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। ভন ডার লেয়ন বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অক্লান্ত প্রচেষ্টার জন্য আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা আয়োজনের জন্য পোপ লিওর প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্র এবং কলে থাকা অন্য নেতারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং ‘ইতিবাচকভাবে বিচার করেছেন।’ এ মাসের শুরুতে নতুন পোপ সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার জন্য ভ্যাটিকানকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন।

ডেস্ক: এন

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code