মানবতার দার্শনিক অভিযাত্রী প্রফেসর ড. জাহিদ সিরাজ চৌধুরী আত্মজাগরণ, জ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের সীমা পেরিয়ে এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধানে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

Manual3 Ad Code

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া

সামাজিক বিজ্ঞান কেবল একাডেমিক গবেষণা নয়—এটি হতে পারে মানবতার আত্মসন্ধান। এই বিশ্বাস থেকেই মালয়েশিয়ার লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও লিংকন–ইউনুস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টারের উপপরিচালক প্রফেসর ড. জাহিদ সিরাজ চৌধুরী কাজ করছেন জ্ঞান, দর্শন ও নৈতিকতার এক সমন্বিত দৃষ্টিকোণ গড়ে তুলতে।

Manual1 Ad Code

ড. জাহিদ মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন। তাঁর রচিত “রেসিপ্রসিটি ইন সোশ্যাল রিসার্চ ” গ্রন্থটি ৮০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যক্রমের অংশ।

এছাড়া “উবুন্টু ফিলোসফি ইন দ্য নিউ নরম্যালসি” গ্রন্থে তিনি ব্যক্তিবাদ পেরিয়ে বিশ্বজনীন সংহতির দর্শন উপস্থাপন করেছেন। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৭টি এবং গবেষণা অধ্যায় ২৬টি।

 

বাংলাদেশের রাখাইন জনগোষ্ঠীর উদ্ভিদভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত। তাঁর প্রস্তাবিত “বায়ো ব্যাংক অব প্ল্যান্ট-বেইসড ইনডিজিনাস মেডিসিনাল নলেজ” প্রকল্পের মাধ্যমে আদিবাসী চিকিৎসা জ্ঞানকে সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ান সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

Manual8 Ad Code

ড. জাহিদের উপস্থাপিত “ রেসিপ্রোকাল থিওরি ” জ্ঞানের পারস্পরিক ও মানবিক বিনিময়ের ধারণাকে তুলে ধরে। অন্যদিকে “ইন্ডিজিনাস গ্নোসিওলজি” স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানবিকতাকে গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন করে—যা পশ্চিমা নিরপেক্ষতা ধারণার বিকল্প দর্শন হিসেবে উদ্ভাসিত।

Manual2 Ad Code

তিনি বিশ্বাস করেন, বিজ্ঞান যদি নৈতিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, তবে তা আত্মাহীন হয়ে পড়ে। তাঁর গবেষণায় কুরআনের শিক্ষা, তাতাব্বুর ও ইহসান দর্শনের সঙ্গে পশ্চিমা ন্যায়বিচার তত্ত্বের তুলনামূলক বিশ্লেষণ স্থান পেয়েছে। ইবনে সিনার চিকিৎসা ও দর্শনকেও তিনি সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে একীভূত করেছেন।

ড. জাহিদ প্রতিষ্ঠা করেছেন একটি পূর্ণ তহবিলভিত্তিক পিএইচডি স্কলারশিপ স্কিম, যার আওতায় ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষক ও গবেষক ইতোমধ্যে উচ্চতর শিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গণমাধ্যম গবেষকরা।

 

 

লিংকন ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রেসিডেন্ট ড. অমিয় ভৌমিকের দিকনির্দেশনায় প্রতিষ্ঠিত এই সেন্টারটি বিশ্বের ১১৪টি ইউনুস সেন্টারের মধ্যে ১১২তম। এর লক্ষ্য—সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবসা ও মানবিকতার সমন্বয়ে সমাজমুখী উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়ন। এখানে চলছে গবেষণা অনুদান, নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, ও সামাজিক উদ্ভাবন কর্মসূচি। সেন্টারটি ইতিমধ্যে, ক্লিন্টন ফাউন্ডেশন, বান কি–মুন ফাউন্ডেশন, কোফি আনান ফাউন্ডেশন–এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু করেছে।

তাঁর সর্বশেষ চিন্তাধারা “সেল্‌ফোসফি ” বা আত্ম-দর্শন—যা মানুষকে নিজেকে চেনা, আত্মিকভাবে সুস্থ হওয়া ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে উদ্বুদ্ধ করে। এর মূল ধারণা “সেল্‌ফ–রিপেয়ারিং মডেল”, যেখানে আত্মসচেতনতা সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত। যদিও ড. জাহিদ আন্তর্জাতিক গবেষণার নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাঁর হৃদয় এখনো বাংলাদেশে প্রোথিত।
রাখাইন, খাসি, সাঁওতালসহ আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনচর্চা তাঁর গবেষণার মূল অনুপ্রেরণা। তাঁর বিশ্বাস—বাংলাদেশ আমার ল্যাবরেটরি নয়; এটি আমার মাতৃভূমি, আমার অনুপ্রেরণা।

প্রফেসর ড. জাহিদ সিরাজ চৌধুরী দেখিয়েছেন, শিক্ষা ও গবেষণা কেবল জ্ঞানের অনুশীলন নয়—এটি মানবতার জাগরণ। তাঁর দর্শন প্রমাণ করে, যখন জ্ঞান নৈতিকতার সঙ্গে মেলে, তখনই সমাজ ও সভ্যতা আলোকিত হয়।

Manual2 Ad Code

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  • জ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের সীমা পেরিয়ে এক মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সন্ধানে
  • মানবতার দার্শনিক অভিযাত্রী প্রফেসর ড. জাহিদ সিরাজ চৌধুরী আত্মজাগরণ
  • Manual1 Ad Code
    Manual8 Ad Code