

ফাইল ছবি
সংগ্রাম দত্ত
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে পৃথক দুটি ঘটনায় দু’দিনে তিনজন নারী খুন হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ৩ জুন বিকাল ৫টায় কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯নং ইসলামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাঠালকান্দি গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে চাচার ২ ভাতিজিকে কূপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত ভাবীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে গ্রামের মৃত আইয়ুব আলীর ছেলে মাসুক আলী (৫২) ও রাহেনা বেগম (৪৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কূপিয়ে নিজের ২ ভাতিজি মাছুমা বেগম (২৫) ও শারমিন আক্তার (২৮) কে হত্যা করেন। নিহতরা গ্রামের আবু মিয়ার কন্যা। মাসুক আলীর অস্ত্রের আঘাতে তাঁর আপন বড় ভাই আবু মিয়ার স্ত্রী হাজিরা বেগম (৫৫) কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইসলামপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক আহমদ গণমাধ্যম কর্মীদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলেই মাছুমা বেগম ও শারমিন আক্তার নিহত হয়েছে। তাদের মা হাজিরা বেগমকে গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু জাফর মো. মাহফুজুল কবির বলেন, হত্যাকান্ডের সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। ঘাতক মাসুক আলীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে ২৬ মে বেলা ১১টায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কমলগঞ্জ উপজেলার ভাষানীগাঁও গ্রামে রেজাউল করিম সাগরের নেতৃত্বে সশস্ত্র দলবল নিয়ে ভেকু মেশিন দিয়ে কৃষিজমির মাটি কাটাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে জালাল মিয়া প্রতিপক্ষকে আপত্তিকৃত জমিতে মাটি কাটায় বাঁধা দেন। এসময়ে দা দিয়ে জালাল আহমেদের হাতে পায়ে কূপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে জালাল মিয়াকে রক্ষায় হারুন মিয়া, তার স্ত্রী নুরুন নাহার লুবনা ও ছোট বোন শিক্ষিকা রোজিনা বেগম দৌঁড়ে সেখানে গেলে আব্দুর রহিম ও তার ছেলে সাগর, মনির মিয়া, সাগরের মামা আজিবুর রহমান ও আবুল হোসেন দা ও বল্লম দিয়ে সবাইকে এলোপাতাড়ি কূপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। পরে স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যান্য আহতদের আশঙ্কা জনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
ঘটনার রাতে নিহত স্কুল শিক্ষিকার বড় ভাই শাহজাহান আহমেদ বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চার জনকে গ্রেফতার করা হলেও মূল ঘাতক রেজাউল করিম সাগরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কমলগঞ্জে স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা বেগম (৩২) কে হত্যার পর একমাত্র শিশু সন্তান বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। হত্যাকারী মূল ঘাতক রেজাউল করিম সাগর পলাতক রয়েছে। গ্রেফতার চার আসামীর মধ্যে তিন জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মূল ঘাতককে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কমলগঞ্জ থানার এসআই জিয়াউল হক গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, প্রধান আসামী রেজাউল করিম সাগরকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। সে যাতে দেশের বাইরে যেতে না পারে সে বিষয়েও আমরা ভূমিকা পালন করছি। তাছাড়া ঘটনার সময় ব্যবহৃত ভেকু মেশিন ও ২টি মোটর সাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
কমলগঞ্জ থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আবু জাফর মো: মাহফুজুল কবির গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, স্কুল শিক্ষিকা রোজিনা বেগম হত্যা মামলার গ্রেফতার চার আসামীর মধ্যে তিন জনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। হত্যাকারী মূল ঘাতক রেজাউল করিম সাগরকে খোঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করছে। ডেস্ক বিজে