কুষ্টিয়ায় ভিজিডি’র চাল আত্মসাতের দায়ে আদালতে মামলা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual2 Ad Code

কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ায় দরিদ্রদের ভিজিডি’র চাল বিক্রয় ও আত্মসাতের দায়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরের বিরুদ্ধে আদালত স্বপ্রনোদিত মামলা করেছেন। আজ সোমবার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক সেলিনা খাতুন পৃথক দু’টি এ মামলা দায়ের করেন। যার ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১৯০(১)(সি) এর এখতিয়ার বলে ক্রিমিনাল মিস কেস নং যথাক্রমে ০২/২০২০ এবং ০১/২০২০।
মামলার আদেশে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের এক মহিলার নামে মহিলা অধিদপ্তরের দেওয়া ভিজিডি কার্ড হলেও তিনি কার্ড সম্পর্কে জানেন না এবং তার নামে কে চাল উত্তোলন করেছেন তাও তিনি অবগত নন। উক্ত চাল খলিশাকুন্ডি ইউনিয় পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বিশ^াস এর একটি দল আত্মসাত করেছে বলে ভূক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেছেন। আদেশে আরও উল্লেখ করা হয় ইউপি চেয়ারম্যান এবং মেম্বর কতৃক এলাকার অসহায় মানুষের চাল আত্মসাত এর ঘটনা নতুন নয় মর্মে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১০/০৬/২০২০ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দৌলতপুর থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
অপরদিকে কুষ্টিয়ারখালী উপজেলার সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. অনছার আলী ও তার ভাই হানিফ দীর্ঘদিন ধরে সরকারী চাল বিক্রয় করছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন। ইহা একটি ফৌজদারী অপরাধ। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আগামী ১০/০৬/২০২০ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কুমারখালী থানাকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
এ ব্যপারে অভিযুক্ত দৌলতপুর উ্পজেলার খলিশাকুন্ডি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল বিশ^াস বলেন, একটি মহল যোগসাজস করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত মিথ্যা বানোয়াট নিউজ করানোয় আমার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে। এখন আমি জানতে পারছি ওই মহিলা তার চাল পান না। তাছাড়া ওই মহিলাও কোন দিন আমার কাছে আসেননি।
এছাড়া কুমারখালী উপজেলার ৪নং সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়ে বলেন, আমার বাড়িতে কোন সরকারী চাল বিক্রী হয়নি; আমি নির্দোষ, মামলা হলে আর আমি কি করব ? যা হয় হোক।
দৌলতপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, ভিজিডির চাল আত্মসাতের বিষয়টি তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছি। এছাড়া শুনেছি ইতোমধ্যে আদালতও স্ব-প্রনোদিত মামলা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আশা করছি এই বিষয়টি নিয়ে আমরা সমন্বিত ভাবে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারব।
সংশ্লিষ্ট দৌলতপুর ও কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্ত যথাক্রমে এস এম আরিফুর রহমান এবং মজিবুর রহমান জানান, সরকারী চাল আত্মসাতের ব্যাপারে আদালত কর্তৃক মামলার বিষয়টি শুনেছি। তবে আদেশের কপি এখনও হাতে পায়নি। হাতে পেলে নির্দেশনানুযায়ী তদন্তসহ আইনগত ব্যব্যবস্থা নেয়া হবে।
মামলার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code