‘জয়বাংলা’ স্লোগানে নদী সাঁতরিয়ে শহরে আসে মানুষ

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual5 Ad Code
মাহমুদ এইচ খান::আজ ৮ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সনের এই দিনে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস হানাদার বাহিনীা কবলে থাকার পর তৎকালীন মৌলভীবাজার মহকুমা সদর সাড়াশী আক্রমনের মুখে হানাদার মুক্ত হয়।  বিজয় আনন্দে সেদিন উড্ডীন হয় স্বাধীন বাংলার গর্বিত পতাকা।
ভারতের কৈলাশহর এবং ধর্মনগর সিমান্ত ঘেষা পাকবাহিনীর বিওপি ধ্বংশ করার জন্য যৌথবাহিনী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে পর্যায়ক্রমে আক্রমন শুরু করেছিল এই অঞ্চলে। যুদ্ধের ছক অনুযায়ী ভারতীয় ৮১ মাউন্টেন ব্রিগেডের উপর দায়িত্ব বর্তেছিল। সমশেরনগর হয়ে মৌলভীবাজার অভিমুখে অগ্রাভিযান পরিচালন করা। সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় মূলত মৌলভীবাজার মুক্ত হয়।
জানা যায়, ৩ডিসেম্বর রাতে সি,ইন, সি স্পেশাল গ্রুপের ৩৫০জন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আহাদ চৌধুরী (অধ্যক্ষ আহাদ চৌধুরী) এবং সহ অধিনায়ক সৈয়দ মহসীন আলী (প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী)র নেতৃত্বে  মুন্সিবাজারে পাকবাহিনীর সাথে রাত ৯টা থেকে যুদ্ধ শুরু হয়।  এ যুদ্ধ চলে ৪,৫, এবং ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুমুল ভাবে। কিন্তু মুক্তিবাহিনী সফলতার মুখ দেখতে পারেন নি।
মৌলভীবাজারে ছিল পাকবাহিনীর ব্রিগেড হেড কোয়ার্টার যার ফলে অত্র অঞ্চল মুক্তিবাহিনী দখল নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবস্থা পর্যবেক্ষণে ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার মেজর জেনারেল অরোরা যে কোন মুল্যে পরবর্তি ২৪ঘন্টার মধ্যে মৌলভীবাজার শহর দখলের নির্দেশ দেন। ফলে যৌথবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার লক্ষণ সিং আরো শানিত হয়ে উঠেন। ৭ ডিসেম্বর যৌথবাহিনী ব্যাপক হামলা চালালে ঐদিন দুপুর থেকেই হানাদার বাহিনী ব্রিগেড হেডকোয়ার্টার (পিটিআই এবং মৌলভীবাজার কলেজ) থেকে পিছু হটতে শুরু করে। ৭ ডিসেম্বর রাত ১০টার মধ্যেই এ পিছু হটা সম্পন্ন হয়। মুক্ত হতে থাকে মৌলভীবাজার।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ আনসার আলী সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ৬ ডিসেম্বর জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলো থেকে পাক বাহিনীকে হটিয়ে আমরা ৭ডিসেম্বর মৌলভীবাজার শহরের দিকে রওয়ানা হলাম। এর মধ্যে মুন্সিবাজারে পাক আর্মির মুখোমুখি ছিলো আমাদের যোদ্ধারা। কুলাউড়া, শমশেরনগর, শ্রীমঙ্গল থেকে ৩টি গ্রুপ শহরের আশপাশে অবস্থান করছিলো। তখনই আমাদের কাছে খবর আসল পাক বাহিনী সিলেটের দিকে পালিয়া যাচ্ছে। আমরা তখন একটা টিম পাঠালাম শহরের দিকে। তারা শহরে এসে চাঁদনীঘাট মনু ব্রিজে এসে ফায়ারিং করে কিন্তু পাক বাহিনীর কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যান্য এলাকায় মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনীর যৌথ আক্রমনে পাকবাহিনী নিহত হওয়ার খবর পেয়ে প্রাণভয়ে তারা তখন জেলা শহর ছেড়ে পালাচ্ছিল। সেদিন রাতেই আমরা শহর দখল করেছিলাম।
তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর সকালে মনু নদের শহরের বিপরীত পাড়ে কৌতুহলী জনতা  ভীড় জমাতে থাকে। আজিজ বেগ হাত উচিয়ে হাঁকদেন-“মৌলভীবাজার শহর মুক্ত হয়ে গেছে”। আবেগাপ্লুত জনতা তখন নদী সাতরিয়ে এবং জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে শহরে এসে বিজয় মিছিল বের করে। এ সময় পশ্চিমবাজারস্থ ট্রাফিক পোষ্টে দাড়িয়ে  আজিজ বেগ বক্তব্য রাখেন জনতার উদ্দেশ্যে। পরে বর্তমান কোট ভবন (তৎকালীন এসডিও অফিস) এর সামনে বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code