ঢাকা থেকে নিখোঁজের ৬ বছর পর চুনারুঘাটের কাজের মেয়ে তাসলিমাকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-

লেখক:
প্রকাশ: ১০ years ago

Manual8 Ad Code

চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ ঢাকার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ৬ বছর পর চুনারুঘাটের কাজের বুয়া তাসলিমাকে গত রবিবার রাত ৯টায় মিরপুর ১ নম্বর শাহ আলীর মাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৪ সদস্যরা। এ সময় তাসলিমার কোলে জান্নাত নামে ৩ বছরের একটি মেয়ে ছিল। নিখোঁজ হওয়া বাসার মালিক জামাল আহম্মদ রনি এ খবর জানতে পেরে র‌্যাব ক্যাম্পে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। পরে ঢাকা থেকে চুনারুঘাট থানায় এসে ওসির সাথে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানান। ওসি নির্মলেন্দু চক্রবর্তী ঢাকা থেকে তাসলিমাকে আনার জন্য এএসআই মলাইকে দায়িত্ব দেন। মলাই পুলিশ নিয়ে বাসার মালিক ও অন্যান্যদেরকে নিয়ে মিরপুর র‌্যাব-৪ ক্যাম্প থেকে তাসলিমাকে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে আসে।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে চুনারুঘাট উপজেলার ঢুলনা গ্রামের রইছ উল্লাহ ও মরিয়মের ১২ বছরের মেয়ে তাসলিমাকে দারিদ্রতার কারণে পার্শ্ববর্তী জারুলিয়া গ্রামের ছুবা মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুনের কাছে সমজে দেন। আম্বিয়া খাতুন ঢাকার কাজির বাজারে জালাল আহাম্মদ রনির বাসায় তাকে কাজের মেয়ে হিসেবে দেন। এখানে প্রায় ৩ বছর থাকার পর তাসলিমা হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। বাসার মালিক অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার বাবার বাড়িতে খবর জানান। সেখানেও তাসলিমা যায়নি। নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে তাসলিমার মা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে তাসলিমার সন্ধান না পাওয়ায় নিরুপায় হয়ে জারুলিয়া গ্রামের ছুবা মিয়ার স্ত্রীকে ১নং, ছুবা মিয়া ২নং, সেকুল আক্তার ৩নং ও ঢাকার বাসার মালিক জালাল আহম্মদ রনিকে ৪নং আসামী করে হবিগঞ্জ আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন তাসলিমার মা। মামলার আসামী আম্বিয়া খাতুন ও বাসার মালিক জালাল আহম্মদ রনি ৩ মাস জেল খেটে পরে জামিনে বেরিয়ে আসেন।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া তাসলিমার কাছে নিখোঁজ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, তাকে জালাল আহম্মদ রনির বাসায় দেয়ার পর থেকে রনির স্ত্রী কাজকর্মে বিভিন্নভাবে তাকে নির্যাতন করত। অনেক ধৈর্য্য ধারণ করে প্রায় ৩ বছর থাকার পর তার ধৈর্যের বাধ ভেঙ্গে যায়। পরে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়ে মিরপুর গার্মেন্টস শ্রমিক লাকি নামে ১ মহিলার বাসায় আশ্রয় নেয়। পরে লাকি তাকে মিরপুর ১নং এলাকায় গেঞ্জির ফ্যাক্টরীতে আড়াই হাজার টাকা বেতনে চাকুরী দেন। সেখানে চাকুরীর সুবাদে বরিশালের বাসিন্দা গার্মেন্টস শ্রমিক রাসেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এক পর্যায়ে বিয়ে করে শাহ আলীর মাজার এলাকায় ৩ হাজার টাকা বাসা ভাড়া নিয়ে তারা দাম্পত্য জীবন শুরু করে। এক বছর পর তাসলিমার গর্ভে ১টি মেয়ে সন্তান জন্ম হয়। তার নাম রাখা হয় জান্নাত। বর্তমানে তার বয়স ৩ বছর। গত সোমবার থানা থেকে তাসলিমাকে হবিগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রনির স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, তাসলিমার ১টি ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল। প্রায়ই মোবাইল ফোনে কথা বলতো এবং তার মায়ের সাথেও যোগাযোগ ছিল তাসলিমার। এদিকে এলাকায় যোগাযোগ করা হলে এলাকাবাসী জানান, তাসলিমার বাবা মারা গেছেন। তাসলিমা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মা অনেকটা পাগলপ্রায় হয়ে পড়েন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code