দেশসেরা উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual6 Ad Code

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া):
ভাগ্য বিধাতা সর্বদাই কর্মঠ আর সাহসীদের পক্ষে থাকেন। চিরন্তন এই বাণীকে সত্য প্রমাণ করে অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে এগিয়ে চলছে ২১ বছর বয়সী রেজওয়ানুল ইসলাম। লেখাপড়া শেষ করে আর দশজনের মতো তিনিও পারতেন কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির জীবন বেছে নিতে। কিন্তু না, কিছু মানুষ ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন। নিজের উদ্যম, সাহস আর সৃষ্টিশীলতা দিয়ে তৈরি করেন নতুন পথ। রেজওয়ানুল এ গোত্রেরই।

রেজওয়ানুল এ বছর দেশ সেরা শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার পুরস্কার পেয়েছেন। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) উদ্ভাবিত ‘ট্রাইকোডার্মা প্রযুক্তি’ ব্যবহার করে ‘ট্রাইকো-জৈব সার’ উৎপাদন ও বিপনন তাকে এনে দিয়েছে এই পুরস্কার। তবে এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও আনন্দ সুখের এক উপাখ্যান। তিনি জানিয়েছেন নিছক শখের বসে কাজ করতে গিয়ে তার সফল উদ্যোক্তা হওয়ার সেই গল্প।

Manual4 Ad Code

রেজওয়ানুল ইসলাম বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। স্ব-উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যয়ে ২০১২ সালে ৮ম শ্রেণীতে পড়ার সময় রেজওয়ান কৃষিতে সফল হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের গ্রামে শুরু করেন ছোট্ট পরিসরে মাছ চাষ দিয়ে। পরে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষন ইনস্টিটিউটে ৪ বছর মেয়াদী কৃষি ডিপ্লোমা শেষে পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে ‘ট্রাইকো জৈব সার’ উৎপাদনের প্রশিক্ষণ নেন।

Manual6 Ad Code

এরপর নিজ গ্রামে ২০শতক জায়গার উপর সাড়ে ৪লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলেন গ্রীন এগ্রো ফার্ম। সেখানে তিনি উৎপাদন শুরু করেন ট্রাইকো জৈব সার। ‘ট্রাইকো জৈব সার’ মাটিতে বসবাসকারী উপকারী অনুজীবের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্ষতিকর ছত্রাককে ধ্বংস করে ফসলের উৎপাদন ও গুণগতমান বাড়িয়ে কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

২০১৬ সাল থেকে তিনি ঢাকায় ছাদ বাগান নিয়ে কাজ শুরু করেন। ছাদ বাগানগুলোতে পেয়ারা, আম, ডালিম, মালটা, পেঁপে, তরমুজ, বরইসহ নানা ফলের চাষ করা হয়। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়া, ঝিঙা, টমেটো, মরিচ, আলু, পেঁয়াজ, বেগুন চাষ করা হয়। ট্রাইকো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করায় উৎপাদিন ফসলগুলো হয় একদম বিষমুক্ত (অর্গানিক)।

Manual4 Ad Code

শুধু ঢাকার ছাদ বাগানগুলোতেই নয় রেজওয়ানুলের নিজ গ্রামসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কৃষকরা কিনে নেন ট্রাইকো কম্পোস্ট সার। গ্রীন এগ্রো ফার্ম থেকে প্রতি বছর প্রায় ১০০ টন সার বিক্রি করা হয়। বর্তমানে এ ফার্মে নারী-পুরুষসহ ৮ জন শ্রমিক কাজ করেন। সার উৎপাদন ছাড়াও তার রয়েছে গরুর খামার ও ৪টি পুকুর। পুকুর গুলোতেও রেজওয়ানুল অর্গানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করছেন।

তরুন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা রেজওয়ানুল ইসলাম জানান, সিটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-২০১৮ এর জরিপে শ্রেষ্ঠ তরুণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ায় ২৯ সেপ্টেম্বর ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক পুরস্কারের পাশাপাশি ক্রেস্ট দেওয়া হয় তাকে। ২০০টির মতো ছাদ বাগানে ট্রাইকো জৈব সার সরবরাহ করার জন্য ঢাকার রামপুরার বনশ্রীতে অফিস রয়েছে তার। ট্রাইকো জৈব সার, গরুর খামার ও পুকুরে মাছ চাষ করে তার মাসিক গড় আয় প্রায় ১ লাখ টাকা। তরুণ এ উদ্যোক্তাকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) ও ধুনট উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code