স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার, ১৪ ফেব্রু ২০১৯ ০৩:০২

স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট :: পবিত্র কোরআন হাদিসের আলোকে স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গে কী আরচণ করবে এ বিষয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে। প্রথম পর্বের পর আজ দ্বিতীয় পর্ব দেয়া হলো-

বিশ্বস্থ হওয়া: স্বামী তার স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্থ থাকতে হবে। সন্দেহ সংশয় ভেতরে না রাখা। সন্দেহ যেখানে অশান্তি সেখানে। এটা শুধু সাংসারিক জীবনে নয়, জীবন সমাজ ও রাষ্ট্রের সকলে ক্ষেত্রে এ কথা সমানভাবে প্রযোজ্য যে, দায়িত্বশীলগণ একে অপরকে বিশ্বস্থ হতে হবে। পারস্পরিক বিশ্বস্থ বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হবে।

যদি অবিশ্বাসের কোনো দানা কারো ভেতরে জেগে উঠে তাহলে পুরোটা কাজই হবে অসুন্দর অসফল অকৃতকার্য। আর সেই অবিশ্বাস যদি দানা বাঁধে স্বামীর মনে স্ত্রীর বিশ্বাস নিয়ে, আর স্ত্রীর মনে স্বামীর বিশ্বাস নিয়ে; তাহলে নির্ঘাত এমন সংসার হতে নরকই ভালো। সম্পর্ক হবে বিনষ্ট। সম্পর্ক হবে ভাঙ্গা ভাঙ্গা।

আমাদের সমাজের অধিকাংশ বিচ্ছিন্নতার মূলে রয়েছে এই অবিশ্বাস ও সন্দেহ। কারো মাঝে সন্দেহের একটি রোগই আছে। সে অযথা সন্দেহ করতেই থাকে। আর এই সন্দেহে সে জ্বলে পুড়ে নিজেও মরে অন্যকেও মারে। এই কুঅভ্যাস স্বামী-স্ত্রী কারো মাঝে থাকাই শুভকর নয়।

মুসনাদে আহমদের হাদিস এখানে প্রনিধানযোগ্য আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নববিবাহিত কাউকে অভিবাদন জানাতেন বা দোয়া করতেন তখন তিনি বলতেন ‘আল্লাহ তোমাদের উভয়কে বরকত দান করুন এবং তোমাদের দুজনের মধ্যে কল্যাণময় সম্পর্ক বজায় রাখুন’ (মিশকাতের হাওয়ায় মুসনাদে আহমাদ থেকে)

ভালোবাসা: কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, ভালোবাসা মানে? স্বামী তার স্ত্রীকে তো ভালোবাসবেই, স্ত্রীও তার স্বামীকে ভালোবাসবেই। আপনি আমি যে ভালোবাসার সংজ্ঞায় স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসাকে ফেলতে চাই; এমন ভালোবাসার কারণেই বিচ্ছিন্নতার ঘটনাগুলো ঘটে। স্বামী-স্ত্রীর সব আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে, পূরণ করার পরও আরো কিছু অতিরিক্ত দেয়, একটি চাইলে দুইটি দেয়, কিন্তু স্বামী তার ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বা অন্য কোনো ব্যস্ততার কারণে একমুহূর্ত সময় স্ত্রীকে দিতে পারে না’ এটাকে ভালোবাসা বলে না।

আজ আমাদের উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে পুরুষ থাকে সারাদিন বিজনেস আর রাজনৈতিক ব্যস্ততায়। স্ত্রীকে সময় দেবার কথাও ভাবে না। এই সুযোগে পরপুরুষের সঙ্গে স্ত্রী সময় কাটায়। স্বামী তার স্ত্রীকে খাঁটি ভালোবাসার আলামতই হলো সে পরনারীর প্রতি দৃষ্টি ফেলবে না। পরনারীর সঙ্গে হাসি রসিকতায় মজবে না।

অফিস সহকারি, ক্লাসমেট, চাচাতো বোন, খালাতো বোন বা ভিন্ন সম্পর্কীয় কোনো বোনের সাঙ্গে খোশগল্পে মেতে থাকবে না। শ্যালিকার সাঙ্গে প্রচুর সময় কাটায়, ঘুরতে নিয়ে যায় আর স্ত্রীর বেলায় কিছুই না। এটা কোনো ভালোবাসা হতে পারে না। নারীর প্রতি পুরুষের যে সহজাত টান এটা শুধু স্ত্রীকে কেন্দ্র করেই হতে হবে। ভিন্ন নারী অন্য নারীতে নয়।

এই উম্মতকে শিক্ষাদানের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীতে এমন একটি ঘটনা পাওয়া যায়। হজরত জাবির রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একবার রাস্তায় অন্য নারীর উপর রাসূলের চোখ পড়লো। তিনি দ্রুত ঘরে ফিরে আসলেন। আম্মাজান হজরত যয়নব রাযিআল্লাহু আনহার কাছে যে ভাবের উদ্রেক হলো তা মিটালেন।

এরপর সাহাবিদের সামনে এসে বললেন- নিশ্চয় নারী শয়তানের সুরুতে সামনের দিক দিয়ে আসে, আবার শয়তানের সুরুতে পিছনের দিক দিয়ে বের হয়ে যায়। সুতরাং তোমাদের কারো দৃষ্টি যদি অনিচ্ছাকৃত কোনো নারীর উপর পড়ে যায়, সে যেন তার বৈধ স্ত্রীর কাছে চলে যায় এবং তার মনোবৃত্তি পূরণ করে। কেননা এই মনোবৃত্তি পূরণের দ্বারা তার অন্তরে দুষ্টকামভাব জাগ্রত হয়েছিল; তা সম্পূণ দূর হয়ে হয়েছে। (মিশকাতের সূত্রে তিরমিযি)নারীর প্রতি আকর্ষণ থাকবেই। তবে সেই আকর্ষণকে মজাতে হবে বৈধ স্ত্রীর সঙ্গে। আর অন্যথা হলেই বুঝতে হবে আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন না। আপনি যতই দাবি করেন; আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন আর সর্বক্ষণ অন্যনারীর সঙ্গে থাকেন। এটা ভালোবাসা হতে পারে না।

ঘৃণা না করা: একজন মানুষের সবগুলো গুণই যে আপনার ভালো লাগবে এমন কিন্তু নয়। মানুষের মাঝে দোষ থাকবে গুণও থাকবে। ভালোও থাকবে খারাপও থাকবে। ভালো-মন্দ মিলেই মানুষ। আপনি চিন্তা করেন; আপনার সবগুলো স্বভাব বা আচারণ তার ভালো লাগে কিনা? আর দশ-বারো জন সুদর্শন পুরুষের কাতারে আপনাকে রেখে যদি আপনার স্ত্রীকে বলা হয় নিরপক্ষভাবে তোমার পছন্দমত পুরুষ বেছে নাও! আপনাকে বেছে নিবে কিনা? তাই প্রতিজন স্বামীর উচিত তার স্ত্রীর ভালো গুণগুলোর প্রতি লক্ষ করে জীবনসংসার পাড়ি দেয়া।

দেখুন আল্লাহ কি বলে, وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِنْ كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا

‘হে মানুষ সকল! তোমরা স্ত্রীদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। যদি তোমরা তাদের (কিছু) অপছন্দ করো, তবে এর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে যে, তোমরা কোনো জিনিসকে অপছন্দ করছো অথচ আল্লাহ তাতে প্রভূত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন’ (সূরা: নিসা, আয়াত: ১৯)।

এই থেকে একথা প্রতিয়মান হয় যে, স্ত্রীর কোনো বিষয় অপছন্দ হলেও তার সঙ্গে ঘরসংসার করতে থাকলে এতেই আল্লাহ বহুকল্যাণ নিহিত রেখেছেন। মুসলিম শরীফের এক হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, মুমিন পুরুষ যেন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষপরায়ণ না হয়, কেননা তার কোনো আচরণ অপছন্দ করলে অন্য কোনো আচরণে সে সন্তুষ্ট হবে।

উক্ত দুটি আয়াত দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম- সব আচরণই মন্দ হবেনা, আবার সব আচরণই ভালো হবে না। সব মিলিয়ে থাকবে। স্বামীর উচিৎ তার ভালো আচরণগুলোতে দৃষ্টি দিয়ে মন্দগুলো নিভিয়ে দেয়া। স্বামীরও চিন্তা করা উচিৎ তার থেকে আমি যেমন আচরণ কামনা করি, আমি কি তার সঙ্গে তেমন আচরণ করি কিনা?। স্ত্রীকে ঘৃণা না করা এটা স্ত্রীর হক যা স্বামী আদায় করতেই হবে।

যদি এটা আদায় করতে না পারে সেই সংসার সুখী হবে না। তবে হ্যাঁ, তার সে আচরণ সংশোধনের জন্য স্বামী স্ত্রী উভয়ে মিলে চেষ্টা করতে হবে, দুজনে একসঙ্গে বসে আলাপ করতে হবে। দুজনে পরামর্শ করে নিলে বদাচরণও দূর হবে মহাব্বাত আর ভালোবাসাও বাড়বে। আরবি একটি কিতাব রয়েছে كيف تصل الي قلب زوجتك তাতে উল্লেখ আছে لا تطلب منها المعجزات স্ত্রীর কাছ থেকে মুযেজার তালাশ করো না

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাজা: প্রতিজন স্বামীই চায় স্ত্রী তার সামনে সেজেগুজে আসুক বা সেজেগুজে থাকুক। সবসময় যেন স্ত্রীর চেহারা রূপ লাবণ্যয় ভরা থাকে। সুন্দর ও পরিপাটি থাকে। একবার সাহাবায়েকেরাম যুদ্ধ থেকে ফিরে এসেই বাড়ীতে যাবার জন্য তাড়াহুড়া শুরু করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন قال فلما قدمنا ذهبنا لندخل فقال امهلوا حتى تدخلوا ليلا – أي عشاء – لكي تمتشط الشعثة وتستحد المغيبة তাড়াহুড়া করো না, রাত্রি পর্যন্ত বিলম্ব করো, যেন তারা তাদের অগোছালো চুলগুলো আচড়িয়ে নিতে পারে, এবং অবারিত পশমগুলো ছেটে নিতে পারে’ (বুখারি ৪৯৪৭)

এমনভাবে স্ত্রীও চায় তার স্বামী স্মার্ট থাকুক। এজন্যে উচিৎ স্বামীরা যেন স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাজগুজ করে। আর কোরআন শরীফে তো আছেই وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ অর্থাৎ আর স্ত্রীদেরও ন্যায়সঙ্গত অধিকার রয়েছে, যেমন তাদের প্রতি (স্বামীদের) অধিকার রয়েছে। অবশ্য তাদের উপর পুরুষদের এক স্তরের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। আল্লাহ পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়’ (সূরা বাকারাহ আয়াত নং ২২৮)।

এই আয়াতের ব্যাখ্যাতে হজরত ইবনে আব্বাস বলেন- আমি আমার স্ত্রীর জন্য সাজসজ্জা করতে পছন্দ করি। যেমন আমি পছন্দ করি স্ত্রী আমার জন্য সাজসজ্জা করুক। কারণ আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন বলে’ তিনি উপরোক্ত আয়াতটি তেলাওয়াত করেছেন। উপরোক্ত হাদিস আয়াত ও তার ব্যাখ্যা দ্বারা বুঝা যায়, স্বামী স্ত্রীর উদ্দেশ্যে সাজগুজ করা জরুরি। বিশেষ করে মিলনের মুহূর্তগুলোতে যেন অবশ্যই ভালো পোশাক শরীরের ফিটনেস ভালো থাকে। ঘর্মাক্ত ও অপ্রস্তুত শরীর নিয়ে স্ত্রীর কাছে যাওয়া বিরাট দোষের বিষয়।

এর কারণে স্ত্রীর কষ্ট হয়, ঘৃণাবোধ জাগ্রত হয় যদিও মুখ ফোটে কিছু বলে না। কিন্তু বাস্তবে সে স্ত্রী ভেতরে ভেতরে খুব অসহ্যবোধ করে। স্বামীকে সেজে থাকার আরো অনেক কারণের মধ্যে এটাও একটি কারণ; শুধু কারণ নয় শক্তিশালী একটি কারণও এই যে, অন্য কোনো পুরুষের আর্কষণে স্ত্রী পড়বে না। স্ত্রী সব সময় দেখে তার স্বামী আনস্মার্ট অথচ পাশের বাড়ীর পুরুষ লোকটি সবসময় স্মার্ট।

আরো একটি বিষয় এমন থাকতে পারে স্ত্রীর পছন্দসই পোশাক পরিধান করা। স্ত্রীর পছন্দসহ বিশেষ মুহূর্ত যাপন করা। মোদ্দাকথা; শরীয়তের মধ্যে থেকে স্ত্রীর মনোরঞ্জন করা, তার পছন্দ অপছন্দের মূল্যায়ন করা, ভালোমন্দের বিবেচনা করা।

স্ত্রীর মনোরঞ্জন: স্ত্রীর সঙ্গে হাসি মজা রসিকতা করা স্বামীর কর্তব্য। স্বামীর যেসব অধিকার স্ত্রীকে দিতে হয়, এই অধিকারের অন্যতম একটি হলো স্ত্রীর সঙ্গে স্বামী রসিকতা করবে। এব্যাপারে আমাদের সমাজ বড়ো উদাসীন। আমাদের সমাজে মনে করা হয় স্ত্রীকে তিনবেলা খাওয়া আর ভরণপোষণ দিলেই স্বামীর দায়িত্ব পালন হয়ে যায়।

স্ত্রীর সঙ্গে একটু মিষ্টি সময় পাড় করাও যে তার প্রাপ্য অধিকার এই বিষয়ই আমাদের সমাজের স্বামী ও দায়িত্বশীলদের মাথায় নেই। দেখবেন প্রচুর নামাজ পড়ে, দান করে, রোজা রাখে কিন্তু স্ত্রীর অধিকার আদায়ের ব্যাপারে বড় উদাসীন। প্রতিদিন একটি নির্জন সময় কাটানো স্ত্রীর সঙ্গে এটা স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার। প্রাসঙ্গিক একটি হাদিস বলি-

عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ ، قَالَ : رَأَيْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، وَجَابِرَ بْنَ عُمَيْرٍ الأَنْصَارِيَّيْنِ يَرْمِيَانِ ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : ” كُلُّ شَيْءٍ لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ اللَّهِ ، فَهُوَ لَهُوٌ وَلَعِبٌ ، إِلا أَرْبَعَ : مُلاعَبَةُ الرَّجُلِ امْرَأَتَهُ ، وَتَأْدِيبُ الرَّجُلِ فَرَسَهُ ، وَمَشْيُهُ بَيْنَ الْغَرَضَيْنِ ، وَتَعْلِيمُ الرَّجُلِ السَّبَّاحَةَ

অর্থাৎ দুইজন আনসারী একজন অপরজনকে বলছে, আমি শুনেছি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর জিকির ব্যতীত পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব অনর্থ অর্থহীন বেকার। কিন্তু চারটি বস্তু ব্যতীত; তন্মধ্যে একটি হলো স্বামী তার স্ত্রী সঙ্গে হাসিরসিকতা করবে’ (সুনানে কুবরা লিননাসায়ী, হাদিস নং ৮৬১৬)।

যদি আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের দাম্পত্যাংশটুকু অধ্যয়ন করেন, দেখবেন রাসূল স্ত্রীদের সঙ্গে বেশ মজা করতো। কখনো তাদের সঙ্গে খোশগল্পে মেতে উঠতো, কখনো তাদের সঙ্গে ঘরোয়া কাজে সাহায্য করতো, কখনো কৌতুক করতো, আবার খেলাও করতো। আম্মাজান হজরত আয়েশার রাযিআল্লাহু আনহার সঙ্গে খেলার ঘটনাতো প্রসিদ্ধ।

সেই হাদিসটুকু আবার শুনি عَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِىِّ -صلى الله عليه وسلم- فِى سَفَرٍ قَالَتْ فَسَابَقْتُهُ فَسَبَقْتُهُ عَلَى رِجْلَىَّ فَلَمَّا حَمَلْتُ اللَّحْمَ سَابَقْتُهُ فَسَبَقَنِى فَقَالَ هَذِهِ بِتِلْكَ السَّبْقَةِ. হজরত আয়েশা রাযিআল্লাহু আনহা বর্ণিত, আমরা কোনো সফরে ছিলাম। ওই সময় আমার শরীর ছিল হালকা ক্ষীণকায়। আমার দুজন (আমি আর রাসূল) দৌড় প্রতিযোগিতা করলাম। আমি জয়ী হলাম। আবার আমার শরীর যখন গোসতে পূর্ণ হয়ে ভারি হলো। তখন তিনি জয়ী হলেন আমি হেরে গেলাম। স্ত্রীর মনোরঞ্জনের এর থেকে আরো বড় কি উদাহরণ হতে পারে!

আপনার স্ত্রীর সাথে কয়দিন খেলেছেন? এবার ইমাম গাযালী (রহ.) এর কথা বলি- স্ত্রীর হকসমূহে একটি হক হলো তার সঙ্গে হাসিরসিকতা করা। এসব আচরণে স্ত্রী আনন্দিত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীদের সঙ্গে হাসিরসিকতা করতেন (আমরা এখনই যা দেখলাম) স্ত্রীর আকল ও মেধা বুঝে তার সঙ্গে আচরণ করা (ইয়াহইয়াউ উলুমুদ্দিন ৫/৩৫৪)।

প্রহার করা বা কটুকথা না বলা: স্ত্রীকে মারধর করা নির্যাতন করা একটি অসভ্য ও নিরেট মূর্খতার পরিচায়ক। মারধর করাই শাসন না’ এই বিষয়টা আমাদের অনেকের মেধাতেই থাকে না। সবখানে সকল ক্ষেত্রে বেত্রাঘাত করাই শাসন নয়। রাগের বশে স্ত্রীর গায়ে হাত তোলা এখন একটি স্বাভাবিক বিষয়। এই মারামারির কাতারে মূর্খ রিক্সাচালক যেমন আছে, ইউনিভার্সিটির প্রফেসরও আছেন বেশ। শিক্ষিত মানুষের অবস্থা দেখলে মনে হয় সব শিক্ষা আর ভদ্রতা ঘরের বাহিরে, ঘরের ভেতরে কোনো শিক্ষা বা সভ্যতার প্রয়োজন নেই।

স্ত্রীকে প্রহার কেউ কেউ আবার বাহাদুরী ভাবে। বন্ধুদের কাছে গর্বের সঙ্গে বলে- বউকে মারার কথা। হাকিমুল উম্মত হজরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী (রহ.) বলেন- যদি বাহাদুরি ও ক্ষমতা প্রয়োগের শখ হয়, তাহলে যাও শক্তিসামর্থ্যবান ব্যক্তির সাঙ্গে করো, দুর্বল স্ত্রীর উপর নয়। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রেম ভালোবাসার প্রণয় প্রীতি আর বিরহের এখানে মারামারি একদম অপছন্দ। হজরত মুআবিয়া কুশাইরি রাযিআল্লাহু আনহু বলেন- হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো স্ত্রী সম্পর্কে আপনার আদেশ কী? তিনি বলেন-

عَنْ جَدِّهِ مُعَاوِيَةَ الْقُشَيْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : أَتَيْتُ رسول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : فَقَالَ : وَمَا نَفْعَلُ فِي نِسَائِنَا ؟ قَالَ : أَطْعِمُوهُنَّ مِمَّا تَأْكُلُونَ وَاكْسُوهُنَّ مِمَّا تَكْتَسُونَ وَلا تَضْرِبُوهُنَّ ، وَلا تُقَبِّحُوهُنّ

অর্থাৎ তোমরা যেমন খাও তাদেরকে তেমন খাওয়াও, তোমরা যেমন পরো তাদেরকেও তেমন পরাও। তাদেরকে প্রহার করো না ও কটু কথা বলো না।
অনুরূপ আরেকটি হাদিস- عن بهز بن حكيم بن معاوية بن حيدة القشيري حدثني أبي عن جدي قال قلت : يا رسول الله نساؤنا ما نأتي منهن أم ما نذر قال حرثك ائت حرثك انى شئت في أن لا تضرب الوجه ولا تقبح وأطعم إذا أطعمت واكس إذا اكتسيت ولا تهجر الا في البيت كيف وقد أفضى بعضكم إلى بعض الا بما حل عليهن

হে রাসূল স্ত্রীদের সম্পর্কে আমাদের আদেশ কী? তিনি (সা.) উত্তরে বলেন, স্ত্রী তোমাদের শস্যভূমি, তোমরা যেভাবে ইচ্ছে ব্যবহার করতে পারো, তবে তার চেহারায় আঘাত করো না, তাকে গালমন্দ করো না, তুমি যা খাও তাকে তাই খাওয়াও, তুমি যা পর তাকে তাই পরাও। (মুসনাদে আহমদ ইবনে হাম্বল, হাদিস নং ২০০৫৭)

কটু কথা না বলা মানে স্ত্রীকে আঘাত করে কোনো কথা বলা। কটুকথার মধ্যে তার রূপ সৌন্দর্য নিয়ে উপহাসও হতে পারে। তার বংশ গরিমা, তার বাপের বাড়ী, তার ভাই-বোন সম্পর্কেও হতে পারে। অর্থাৎ এমন কোনো কথা না বলা যা, তার মান সম্মানে লাগে।

যদি কোনো স্বামী হাদিসে দেখানো পথে চলে, স্ত্রীও হাদিসে দেখানো পথে সংসার সাজায়’ সেই সংসার অঢেল ধনসম্পদ না থাকতে পারে কিন্তু সুখ-শান্তি অবশ্য স্থায়ী হবে। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এই বিষয়গুলো সামনে রেখে সংসার করার তৌফিক দান করুক। আল্লাহুম্মা আমিন। সূত্র: অনলাইন।

এই সংবাদটি 1,277 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •