হুমকীর মুখে উপকুলের ফুসফুস বন কেটে নির্মাণ হচ্ছে বাড়িঘর

প্রকাশিত:শনিবার, ১৭ এপ্রি ২০২১ ০৯:০৪

হুমকীর মুখে উপকুলের ফুসফুস বন কেটে নির্মাণ হচ্ছে বাড়িঘর

 

আনোয়ার হোসেন আনু, কলাপাড়া(পটুয়াখালী) সংবাদদাতা॥
পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার সবুজ বেস্টনী. সংরক্ষিত ও ম্যানগ্রোভ বন কেটে তৈরী করা হচ্ছে চাষাবাদের জমি। বন দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে বন এলাকায় ইটেরভাটা তৈরীর হিড়িক পরেছে। আর এসব কাজে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করছেন সংশ্লিষ্ঠ এলাকার বন কর্মকর্তারা এমনটাই দাবী স্থানীয়দের।

সমুদ্র উপকুলের মানুষ প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ঝড় বন্যা মাথায় নিয়ে বসবাস করে আসছে বহুকাল ধরে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় বন সমুদ্র উপকুলের মানুষকে রক্ষা করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেছে। অক্সিজেন দিয়ে মানুষকে বাচিঁয়ে রেখেছে। ছায়া দিয়ে রেখেছে। যার কারনে বনকে মানুষের ফুসফুস বলা হয়ে থাকে।
প্রতিবছর প্রাকৃতিক দূর্যোগে ও ঝড় বন্যায় সমুদ্র উপকুলের সংরক্ষিত বন ও ম্যানগ্রোভ বনের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে। আম্ফানে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, ফাতরার বন,টেংরাগিরি, চর মৌডুবী ,সোনার চরে শত শত একর বনভূমির ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিঁয়ে সবুজ অরণ্য তৈরীর পাশাপাশি উপকুলীয় এলাকার উপকার ভোগীদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই মনুষ্য তৈরী দূর্যোগে ধ্বংসের মুখে সবুজ অরণ্য ভূমি। হুমকীর মখে পরেছে পরিবেশ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সংরক্ষিত বন, গঙ্গামতি বন ,কাউয়ার চর ,লেম্বুর বন ও টেংরাগিরি বনাঞ্চল কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়িঘর। বন কেটে তৈরী করা হচ্ছে চাষাবাদের জমি। আন্দারমানিক নদী,রাবনাবাদ চ্যানেল,খাপড়াভাঙ্গা ও নীলগঞ্জ নদীর দুই ধারে বন এলাকায় গড়ে ওঠেছে অর্ধ শতাধিক ইটের ভাটা। রয়েছে প্রায় শতাধিক করাত কল। পরিবেশ ও বন আইনের তোয়াক্কা না করে এসব করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর মাঝে মধ্যে দু’য়েকটি অভিযান চালালেও তা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।
ইটভাটা মালিক, করাত কল মালিক, ইমারত ভবন নির্মানকারী কাজের সাথে জড়িত প্রভাবশালীরা বন উজাড়ে সক্রিয় থাকায় বন আইন স্পর্শ করছে না তাদের । একটি সংঘবদ্ধ বনদস্যু চক্র গাছ পাচারের নেট ওয়ার্ক গড়ে তুলেছে সমগ্র উপকূল জুড়ে। আবার এক শ্রেনীর মানুষ রয়েছে যারা বন কর্মকর্তাদের সাথে আতাঁত করে বন পুড়িয়ে ফেলছে। এরপর মালিকানার দাবী নিয়ে বনের মধ্যে চাষাবাদসহ বনের গাছ কেটে নিয়ে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে।
সম্প্রতি মহিপুর বনবিভাগের গঙ্গামতি,খাজুরা ও খাপড়াভাঙ্গা নদীর কোল ঘেষে প্রায় এক’শ বিঘা বনভূমি দখলে নিয়ে বাড়িঘর.ডগইয়ার্ড,িশল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে প্রভাবশালী চক্র। বন কেটে চাষাবাদ করছে বনদস্যুরা। এসব ঘটছে বনবিভাগের সম্মুখেই। বন কর্মকর্তাদের এসব নিয়ে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।
আর এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। এ বন ধ্বংসের বিষয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা গনমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলতে নারাজ। বন উজাড় হওয়া সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত কিংবা এর সাথে কারা জড়িত এমন কোন তথ্য বনবিভাগের কাছে নেই। বন ধ্বংসের সাথে জরিড়দের বিরুদ্ধে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার প্রমান মেলেনি। লোকবলের সংকট দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার কৌশল ব্যবহার করছেন বন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বনপ্রহরীরা। বন কর্মকর্তাদের এমন রহস্যজনক ভূমিকায় প্রতিনিয়ত উজাড় হয়ে যাচ্ছে বন। নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির কারনে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের গৃহিত সবুজ বেস্টনী প্রকল্প।

তবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সংরক্ষক সাংবাদিকদের বলেন করাতকল গুলোতে আমাদের বনাঞ্চলের গাছ চেরাই করা হলে আপনারা আমাদের লিখিত ভাবে জানান। তখন আমরা এটি দেখবো। বন কর্মকর্তাদের এমন দায়সারা জবাবে সংশ্লিস্ট এলাকার অসাধু বন কর্মকর্তাসহ বন খেকোরা বন উজাড়ে আরও উৎসাহিত হচ্ছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। পরিবেশবাদীদের মন্তব্য এমন অবস্থা দাড়িয়েছে যেন বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ার মত অবস্থা।

পটুয়াখালী উপকূলীয় বন সংরক্ষক মোঃ আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ইট পোড়ানো আইন অনুয়ায়ী ইট ভাটায় গাছ পোড়ানো হলে সেটি ডিসি সাহেব ও ইউএনওকে জানাতে হবে। এছাড়া করাতকল গুলোতে আমাদের বনাঞ্চলের গাছ চেরাই করা হলে আপনারা আমাদের লিখিত ভাবে জানান। তখন আমরা এটি দেখবো এবং তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি 1,240 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •