শরীয়তপুর জেলা পরিষদ টাওয়ার নির্মান কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual7 Ad Code

শরীয়তপুর:
শরীয়তপুর শহরে আধুনিক সুবিধা সংবলিত সরকালী খালের উপর নির্মিত জেলা পরিষদ টাওয়ার নির্মান কাজে ঠিকাদারের গাফলতিতে কাজে ধীরগতি ও জেলা পরিষদের উদাসিনতার কারনে ৮ বছরেও নির্মান কাজ শেষ হয়নি। ফলে টাওয়ারের বরাদ্ধকৃত দোকান মালিক সহ জনগনের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। জেলা পরিষদ কতৃপক্ষ বলছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পরোক্ষভাবে টাওয়ারের বেশীর ভাগ দোকান বরাদ্ধ নিয়ে সেলামীর টাকা পরিশোধ করছে না। এ কারনে পরিষদ ঠিকাদারের বিল পরিশোধ করতে পারছে না।
জেলা পরিষদ অফিস সূত্র ও ব্যবসায়ী মাসুমা আকতার নুরেআলম বাবু,ঈমাম হোসেন ফকির, জানাযায়, শরীয়তপুর জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গী মোড়ে পুরাতন ডাকবাংলা নামক স্থানে সরকালী খালের উপর ২০১২ সালে শরীয়তপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহদাকারে ৭ম তলা বিশিষ্ট জেলা পরিষদ টাওয়ার নামে একটি (মার্কেট) টাওয়ার নির্মানের জন্য ৪২ কোটি ৭২ লাখ ২৮ হাজার ৩ শত ৩১ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরে দরপত্র আহবান করে। ফলে টাওয়ারটি নির্মাণ কাজের জন্য (স্থানীয় বাসিন্দা) ঢাকাস্থ কিংডম বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে। এরপর ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী সর্বনিম্মদরদাতা হিসেবে ঢাকাস্থ কিংডম বিল্ডার্স নামে ঐ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠা কে কার্যাদেশ দেয়া হয়। দরপত্র মোতাবেক ঠিকারীদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয় ৩৯ কোটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪ শত ৮৯ টাকায়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে। কাজের শুরুতে একক ভাবে প্রায় ২০ জন মালিক ২০টি দোকান বরাদ্ধ নিয়ে জেলা পরিষদের তহবিলে সেলামীর টাকা জমা দেন। বাকি সব দোকান গুলো ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী নুসরাত হোসেন লিটন পরোক্ষভাবে নাসির ট্রেডার্স নামে এক কেম্পানীর নাম করে নিজেই বরাদ্ধ নেয়। এ টাওয়ারে মোট দোকানের সংখা হবে ৫০৬টি। এরমধ্যে ১ম তলায় ৫৩টি, ২য় তলায় ৬৯টি, ৩য় তলায় ৭২টি, ৪র্থ তলায় ৭৩টি ৫ম তলায় ১৯ হাজার ৩১১ দশমিক ৭১ বর্গফুটের একক দোকান, ৬ষ্ট তলায় ১৯ হাজার ৩১৩ দশমিক ৪৪ বর্গফুটের একক দোকান এবং ৭ম তলায় ১৪টি দোকান তৈরী করা হওয়ার কথা রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিংডম বিল্ডার্স চুক্তি অনুযায়ী কাজ শুরু করলে ও কাজের এতই ধীরগতি যে ৩ বছর সময় সীমার (২০১৫ সালে) কার্যাদেশে থাকলে ও ৩ বছরে টাওয়ার নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি। গত ৮ বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩৬%। ইতোমধ্যে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে জেলা পরিষদ ৭ কোটি ৩৬ লাখ ১৬ হাজার ৬০৬ টাকা বিল পরিশোধ করেছে। যদিও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজের আনুপাতিক হারে আরো বিল পাওনা রয়েছে বলে জানায়। জেলা পরিষদের দাবী পরোক্ষভাবে জেলা পরিষদ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নুসরাত হোসেন লিটনের কাছে দোকান বরাদ্ধের টাকা পাওনা থাকায় এবং দোকান বরাদ্ধের সেলামীর টাকা নুসরাত হোসেন লিটন জেলা পরিষদের তহবিলে জমা না দেয়ার কারনে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ন বিল পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের গাফলতি ও জেলা পরিষদের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের উদাসিনতার কারনে শরীয়তপুর জেলার সর্ববৃহৎ ও আধুনিক টাওয়ার নির্মানের কাজ বিলম্বিত হওয়ায় বরাদ্ধকৃত সাধারন দোকান মালিকগন চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। অধিকাংশ দোকান মালিকগন অনেক কষ্ট করে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা একসাথে যোগাড় করে লাভের আশায় ধার দেনা করে জেলা পরিষদের সেলামীর টাকা পরিশাধ করেছেন। কবে নাগাদ টাওয়ার নির্মান কাজ শেষ হবে সঠিক করে কেউ বলতে পারছেন না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের টানাটানির অবসান ঘটিয়ে জরুরী ভিত্তিতে টাওয়ার নির্মান কাজ শেষ করে দোকান মালিকদের কে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা আবশ্যকীয় হয়ে দাড়িয়েছে। এ দিকে সরকার গত ২৩ ডিসেম্বর সারাদেশ ব্যাপী সরকারী খালের উপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অংশ হিসেবে শরীয়তপুরে ও খালের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড শরীয়তপুর জেলা পরিষদের নির্মানাধীন টাওয়ারটি সরকারী খালের উপর বিদ্যমান বলে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কে সাফ জানিয়ে দেয়। সরকারী নির্দেশনা পেলে অচিরেই এ ভবনটির খালের উপরের অংশ ভেঙ্গে দেয়া হতে পারে। এ খবরে এলাকাবাসী ও টাওয়ারে বরাদ্ধ নেয়া ব্যবসায়ীরা আতংকে রয়েছে।
জেলা পরিষদের দোকান বরাদ্ধের জন্য সেলামীর টাকা জমা দেয়া ব্যবসায়ী সোলায়মান সিকদার বলেন, আমরা আতœীয় স্বজন মিলে নির্মানাধীন টাওয়ারের ৭/৮টি দোকান নিয়ে সেলামীর কিয়দাংশ জমা করেছি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নুসরাত হোসেন লিটন তালবাহানা করে কাজ নিয়ে ফেলে রেখে। এতে কওে আমরা যারা দোকান বরাদ্ধেও টাকা জমা দিয়েছি তাদেও খুবই কণ্ট হচ্ছে। কাজ শেস করছেনা। টাকা ও ফেরত দিচ্ছেনা।
এ বাপারে কিংডম বিল্ডার্স ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক নুসরাত হোসেন লিটন দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

Manual3 Ad Code

শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নূরহোসেন বলেন, জেলা পরিষদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কিংডম টাওয়ার এর অংগ প্রতিষ্ঠান নাসির ট্রেডার্স টাওয়ারের সব দোকান ভাড়া নিয়েছে। সে সেলামীর টাকা পরিশোধ করছেনা। তাই জেলা পরিষদ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাজের পাওয়ানা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছেনা। এ অজুহাতে কাজ বন্ধ রয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী সুখদেব বিশ্বাস বলেন, আমি নুতন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার জানা নেই। শরীয়তপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেদুর রহমান খোকা শিকদার বলেন, এ টাওয়ারটি নির্মান কাজ আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার আগেই কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। এ ভবনের কাজ আংশিক করার পর ফেলে রেখেছে। বিষয়ে আমি আর কিছু জানিনা।
শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তারেক হাসান বলেন, জেলা পরিষদের টাওয়ারটি সরকারী খালের উপর নির্মাণ করা হয়েছে। এ তালিকা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের নিকট দেয়া হয়েছে। তালিকা অনুমোদন পেলে টাওয়ারের যে অংশ খালের উপর সেটা ভেঙ্গে ফেলা হবে।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code