

আমতলী (বরগুনা)
: বরগুনার আমতলীতে ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগে মানববন্দন বিক্ষাভ মিছিল শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপÍরের মহাপরিচালক ও বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারক লিপি দিয়েছেন। আমতলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একে হাইসংলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকবৃন্দ।
রবিবার দুপুর ১ টায় আমতলী উপজেলা পরিষদের সামনে প্রায় দু ঘন্টা অনুষ্ঠিত মানববন্দন কর্মসূচীতে বক্তারা বলেন, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত পিএস সি পরীক্ষায় আমতদলী বন্দর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোল নং১ থেকে ১৪ পর্যন্ত জিপিএ ৫ পায়নি। এটিকে গভীর ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন। অপর দিকে আমতলী একে হাইসলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মার্ক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ জন্য তারা আমতলীর একটি প্রাইভেট বিদ্যালয়কে দায়ী করেন। অভিভাবক জাকিয়া বেগম বলেন প্রাইভেট বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বরগুনায় যেখানে বসে পেপার দেখা হয়েছে সেখানে যোগাযোগ করে ঐ প্রাইভেট বিদ্যালয় ব্যাতিত আমতলী বন্দর মডেল ও একে হাইসলগ্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মার্ক কময়ি দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবক শাহানাজ বেগম বলেন, একটি স্বার্থন্বেষী মহল জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন করে তাদের স্কুলের সুনাম ধরে রাখার চষ্টা করছেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভেঙ্গে পড়েছে এবং এরকম ঘটনার প্রায় প্রতি বছরই হয়ে থাকে বলে জানান। এমতাবস্থায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে এবং অন্যায়ের বিচার চেয়ে তারা তাদের সন্তানদের খাতা পুনঃমূল্যায়নের দাবী করেন। এসময় উপস্থিত অভিভাবক বৃন্দ বলেন, তাদের সন্তানদের খাতা পুনঃমূল্যায়ন করা হলে প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে এবং বহু শিক্ষার্থীদের ফলাফল কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় অর্জিত হবে। এ বিষয়ে অভিভাবকবৃন্দ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও বরগুনা জেলা প্রশাসক বরাবর আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসাররের মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েেেছন।
এ বিষয়ে আমতলী বন্দর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন বলেন, ০১-১৪ নং রোল পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীই জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য। আমতলীরই শিক্ষক মহলের কেউ জালিয়াতির মাধ্যমে তাদের ফলাফল পরিবর্তন করেছে।
আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মজিবর রহমান বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন, স্মারকলিপি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।