ডেঙ্গুর মতো আবার সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক?

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

ডেঙ্গুর মতো আবারো দেখা দিয়েছে সোয়াইন ফ্লু আতঙ্ক! গতকাল বৃহস্পতিবার সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হয়ে একজন মারা যাওয়ায় এই আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, এই রোগ এখন ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখ্য চিকিত্সক উপমহাদেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ জানান, সোয়াইন ফ্লু শ্বাসনালীর মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। তাই সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আফ্রিকা-পশ্চিমা দেশে সোয়াইন ফ্লু বেশি হয়। তাই এয়ারপোর্টে মেডিক্যাল চেকিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে। জ্বর, হাঁচি-কাশি নিয়ে কেউ আসছে কিনা সেটি দেখতে হবে।

Manual4 Ad Code

 

Manual2 Ad Code

ডা. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা বলেন, এই রোগটিকে এখন সোয়াইন ফ্লু নাম দেওয়া যথাযথ হবে না, কারণ শূকর থেকেই যে এই রোগের ভাইরাস ছড়াতে হবে, এমনটি নয়। মানুষের দেহেই এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়। সারাদেশে নিয়মিত ভিত্তিতে এই ফ্লু’র পরীক্ষা নিরীক্ষা চলে বলে নিশ্চিত করেন সাবরিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই রোগের হার বেশি থাকে। এই রোগের প্রতিষেধক সরকারের কাছেও রয়েছে, আবার কয়েকটা প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবেও তৈরি করছে বলে জানান ডাক্তার ফ্লোরা।

Manual7 Ad Code

সোয়াইন ফ্লু সাধারণত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে থাকলে, তার ব্যবহূত পাত্রে খাবার খেলে বা ঐ ব্যক্তির কাপড় পড়লে ফ্লু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। সাধারণ সোয়াইন ফ্লু’র উপসর্গ সাধারণ ফ্লু’র মতই হয়ে থাকে। জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা, শরীরে ব্যাথা, ঠান্ডা ও অবসাদের মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে ফ্লু হলে। পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, র‌্যাশ বা পাতলা পায়খানাও হতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি বা কোনো ধরণের অসুখে ভুগতে থাকা ব্যক্তি ফ্লু’তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। সিংহভাগ ক্ষেত্রেই সোয়াইন ফ্লু নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এর ফলে বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফ্লু’র ভাইরাসগুলো নিজেদের মধ্যে জিনগত উপাদান অদল বদল করতে পারার সক্ষমতা রয়েছে, তাই কোন ধরণের সোয়াইন ফ্লু বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেন না চিকিত্সকরা।

 

Manual8 Ad Code

২০০৯ সালে মেক্সিকোতে ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর প্রায় মহামারি আকারে এই ফ্লু ছড়িয়ে পড়ে নানা দেশে। ধারণা করা হয়, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ২ লাখ মানুষ সোয়াইন ফ্লু’তে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ২০০৯ সালে সোয়াইন ফ্লু ছড়ানোর পর বিমানবন্দরে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে ফ্লু’র পরীক্ষা চালানো হয় এবং সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। খুব বেশি সংখ্যায় না হলেও দেশেই এই ফ্লুর রোগী দেখতে পাওয়া যায়। ২০১০ সালে বাংলাদেশে সোয়াইন ফ্লুর টিকাদান কর্মসূচি চালানো হয়। ২০১৫ সালে ভারতের কয়েকটি রাজ্যে সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর এই বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসে। ফ্লু যেন ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তা নিশ্চিত করতে সেসময় নানারকম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে। ফ্লু প্রতিরোধে সেসময় অনেক চিকিত্সককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয় বন্দরগুলোতে। থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়া হয়।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code