

সম্প্রতি দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ, নৈতিকতা, ব্যক্তিগত সততা সবকিছুকে কাজে লাগিয়ে “থিংক ট্যাংক” হিসাবে কাজ করতে ৪২ জন সাবেক সচিবদের নিয়ে বৈঠক করার প্রেক্ষাপঠকে কেন্দ্র করে বাম গণতান্ত্রিক জোট দুদক চেয়ারম্যানের যে পদত্যাগ দাবী করেছেন-সে প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার পক্ষ থেকে দেশ ও প্রবাসের বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বাঙালীদের সংগঠন কানেক্ট বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও প্রবাসীগণের অনেকেই বলেছেন দুদক একটি স্বায়ত্বশাসিত স্বাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাবেক সচিবদের সাথে বৈঠক করে তাঁর বর্তমান পদের শপথ ভঙ্গ করেননি। রাষ্ট্রের কল্যাণে সমাজ জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে থাকা দূর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে দুদক চেয়ারম্যান যে কারো সাথে কথা বলার অধিকার সংরক্ষণ করার কথা।
দুদক প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত যত চেয়ারম্যান এসেছেন তন্মধ্যে ইকবাল মাহমুদের পরিশ্রম ও ত্যাগ সর্বজনবিদিত। তিনি বছর কয়েক আগে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দুদুকের পক্ষ থেকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ণের জন্য যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন-তা আদৌ বাস্তবায়ণ করা হয়েছে কিনা জানা যায়নি। গ্রামগঞ্জ তথা তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্ব্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতির বিষবাষ্প যেভাবে ছড়িয়ে গেছে শুধু তাই নয় হাইব্রীড নামক দানবরা যেভাবে সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একা একজন ইকবাল মাহমুদের পক্ষে সবকিছু সামাল দেয়া সম্ভব কি? তাছাড়াও জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কারণে অনেক কিছুই কি সকলের পক্ষে জানা সম্ভব? জনগণের কাছে জবাবদিহিতার জন্য বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো স্বাধীন ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান দুদকের পক্ষে দুদক চেয়ারম্যান প্রতি মাসে সাংবাদিক সম্মেলনের যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন তা অনুরণীয় দৃষ্টান্ত নয় কি?দুদককে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে দুদকের দেওয়া প্রস্তাবগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ণের বিষয়টি জনগণের জানাও অতীব প্রয়োজনীয় বলে দেশ ও প্রবাসের বিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞজনেরা মনে করেন। স্বাধীন ও স্বায়ত্বশাসিত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য সাংবিধানিক ভিত্তি, আর্থিক ও জনবলের বিষয়েও অনেক বিজ্ঞজনদের বলতে দেখা গেছে।
দেশের চতুর্দিকে লুঠেরা, অর্থ পাচারকারী ও সকল সেক্টরের ফ্রাঙ্কেনষ্টাইনদের দমনে দুদক চেয়ারম্যানকে আরো শক্ত হাতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দেশ ও প্রবাসের সচেতন মহল। প্রয়োজনে সরকারের উন্নয়ন কর্মের সামগ্রিক স্বচ্ছতা জনস্বার্থে জনগণের হৃদয়ে গ্রহণযোগ্যতাকে বিবেচনায় নিয়ে সংসদে আইন পাশ করে দুদককে আরো শক্তিশালী করে তোলার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ গ্রহণের কথাও অনেক বিজ্ঞজনদের বলতে দেখা গেছে। অভিজ্ঞ ও নৈতিক মনোবলে বলীয়ান আরো দক্ষ লোকবল ছাড়া শাখা প্রশাখায় দুর্নীতির সাথে যুক্ত মাফিয়াদের, হাইব্রীডদের যে দরিয়ানগর ও সিন্ডিকেটের চতুর্দিকে যে দাপাদাপি তা আদৌ দুদক ও দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে নির্মূল সম্ভব নয় বলে সচেতনমহল বাপসনিউজকে জানান।