পর্যটকের জন্য বাঁশের বোতল

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual1 Ad Code

প্লাস্টিক, বর্তমান সময়ে পরিবেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। এরপরও আমাদের প্রতিদিনের জীবনে এর উপস্থিতি প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে। পানির বোতল থেকে শুরু করে বাজারের ব্যাগ পর্যন্ত প্রায় সবখানেই এর অবাধ বিচরণ। ফলে নিজেদের অজান্তেই আমরা প্রতিদিন একটু একটু করে দূষিত করছি আমাদের চারপাশের পরিবেশকে। পুরো পৃথিবীজুড়েই চলছে এই দূষণ। তবে ভালো বিষয়টা হলো, প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে চলছে নানা ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম। পাশাপাশি দেশ ও দেশের বাইরের পর্যটন এলাকাগুলোতেই প্রায়ই দেখা যাচ্ছে সচেতন মানুষদের নানা উদ্যোগ। তেমনি পরিবেশ দূষণ রোধে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতের সিকিম রাজ্যের নাগরিকরা।

Manual4 Ad Code

চারদিকে পাহারের বিশালতা, শুভ্র বরফ আর নদী, এই নিয়েই কখনো শুভ্র, আবার কখনো সবুজ রাজ্য সিকিম। পৃথিবীর বুকে এই মনোরম দৃশ্য দেখতে এখানে প্রতিবছর ভিড় জমান ভারতসহ বিশ্বের অগণিত পর্যটক। আর এই বিশাল পর্যটকদের সঙ্গে থাকা প্লাস্টিকের পানির বোতলই এই অঞ্চলের পরিবেশের জন্য একটা বড় হুমকি। সে কারণেই এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের প্লাস্টিকের বোতলের বিকল্প হিসেবে বাঁশের বোতলের ব্যবস্থা করেছে লাচিন শহরের অধিবাসীরা।

Manual5 Ad Code

প্রতিবছর কয়েক লাখ পর্যটক আসেন সিকিম ভ্রমণে। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই পানি বহন করেন সবচেয়ে সহজলভ্য ও প্রচলিত প্লাস্টিকের বোতলে। ভ্রমণ শেষে এই বিশালসংখ্যক পর্যটন নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও এখানেই রয়ে যায় তাদের নিয়ে আসা প্লাস্টিকের বোতলগুলো। পর্যটকদের ফেলে যাওয়া এই বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিকই স্থানীয়দের প্লাস্টিকের বোতলের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা দিতে বাধ্য করে। এমনকি লাচিন শহরে মাঝে মধ্যেই এখানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের গাড়িতে চালানো হয় তল্লাশি। মাদকের খোঁজে নয়, প্লাস্টিকের বোতলের খোঁজে।

Manual1 Ad Code

 

প্লাস্টিকওসেনস ডটকম নামের একটি সংস্থার জরিপে দেখা গিয়েছে যে, প্রতিবছর গোটা বিশ্বে প্রায় ৩শ’ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক উত্পাদন করা হয়। এর প্রায় অর্ধেক প্লাস্টিক শুধুমাত্র একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়ে থাকে। আর মোট উত্পাদিত প্লাস্টিকের প্রায় ৮ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক সমুদ্রের পানিতে গিয়ে মিশেছে প্রতিবছর।

Manual2 Ad Code

প্লাস্টিকের বোতলের বিকল্প হিসেবে প্রথম ধাপে আনা হয়েছে ১ হাজার বাঁশের বোতল। তবে এখানেই শেষ নয়, বরং এই এক হাজার বোতল নিয়ে আসাটা একটা শুরু মাত্র। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। আসাম থেকে এই বাঁশের বোতল নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন সিকিম রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিশে লাচুঙপা।

১৯৯৮ সালে সিকিমে সর্বপ্রথম প্লাস্টিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে এই রাজ্যের সকম সরকারি অফিস ও অনুষ্ঠানে প্লাস্টিকের বোতলের ব্যবহার বন্ধ করা হয়। এর পাশাপাশি লাচিনের নগরবাসীরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন ওয়েফার, চকলেট এবং বিস্কুটের প্যাকেটের বিরুদ্ধে। কেননা তারা জানেন, শুধুমাত্র সচেতনতাই পারে তাদের চারপাশের পরিবেশকে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code