রাণীনগরে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের ঘর নিয়ে নয়-ছয়

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

নওগাঁ প্রতিনিধি :
নওগাঁর রাণীনগরে ভিক্ষুক পুর্নবাসনের আওতায় নির্মিত গুচ্ছগ্রামের ঘর নিয়ে নয়-ছয় করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চেয়ারম্যানের চাহিদা মাফিক অর্থ যোগান না দেওয়ায় অনেকেই ঘর পাওয়ার যোগ্যতা রাখলেও তাদেরকে দেওয়া হয় নাই ঘর। প্রতিটি ঘর বরাদ্দ দেওয়ার নামে চেয়ারম্যানের পছন্দের ব্যক্তি আব্দুস সামাদ ধলুর মাধ্যমে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রায় কোটি টাকার অর্থায়নে উপজেলার ভিক্ষুকদের পুর্নবাসনের লক্ষ্যে বড়গাছা ইউনিয়নের চামটা গ্রামে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়। এই প্রকল্পের অধিনে ১১০টি ঘর নির্মাণ করার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহনে কিছু ব্যক্তি আদালতে মামলা করলে ৭০টি ঘর নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এই গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো নির্মাণ করা হলেও সেই সব ঘরের মধ্যে মাটি ভরাট করা, পর্যাপ্ত পরিমাণ টিউবয়েল স্থাপন না করা, চলাচলের রাস্তা তৈরি না করা, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকাসহ অনেক কাজই এখন পর্যন্ত সম্পন্ন করা হয় নাই। কিন্তু তালিকায় থাকা কিছু ভিক্ষুক পরিবারের রাত্রিযাপনের কোন ঠাঁই না থাকায় তারা অনুমতি নিয়ে হস্তান্তরের আগেই নিজেরাই ঘরের মধ্যে মাটি ভরাট করে কোন রকম জীবন-যাপন করছেন। এছাড়া তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ঘর প্রতি চেয়ারম্যানের চাহিদা অনুযায়ী অর্থের যোগান দিয়েছেন তাদের নাম চ’ড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছে আর যারা ঘর প্রতি ১০-২০হাজার টাকা দিতে পারেন নাই তারা প্রকৃত যোগ্য হলেও কপালে জোটেনি গুচ্ছগ্রামের ঘর।

এছাড়াও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনোও হস্তান্তর করা হয়নি যার কারণে ঘরগুলোর দরজা-জানালা খুলে পড়ছে। এছাড়াও বড়গাছা ইউনিয়নের সকল কাজে চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি ও যে কোন সনদপত্র তোলার বিষয়ে অধিক পরিমাণ টাকা নেওয়া এবং সাধারন মানুষদের হয়রানী করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ওই ইউনিয়ন পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে আর ভেঙ্গে পড়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সুষ্ঠু পরিবেশ।

Manual7 Ad Code

গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, পরিবার নিয়ে কোথাও থাকার জায়গা নেই বলে নিজেরাই ঘরের মাটি ভরাট করে কোনমতে রাত কাটাচ্ছি। গুচ্ছগ্রামে যাওয়ার কোন রাস্তা নেই, নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ টিউবয়েল, নেই কোন বিদ্যুৎ। সকাল হলেই একটি টিউবয়েলে ভিড় জমায় কয়েকটি পরিবারের মানুষরা। এছাড়া এখনই কিছু কিছু ঘরের দরজা-জানালা খুলে পড়ছে।

Manual8 Ad Code

চামটা গ্রামের ভ’মিহীন জাহাঙ্গির আলম বলেন, আমি দিনমজুরের কাজ করে কোনমতে বেঁচে আছি। চেয়ারম্যানের মাধ্যম ধলু ঘরের জন্য আমার কাছে ১৩হাজার টাকা দাবী করে। কিন্তু আমি ৬হাজার টাকা দিয়েছিলাম। বাকি টাকা দিতে পারি নাই বলে আমাকে তারা ঘর না দিয়ে অন্য ব্যক্তির নাম তালিকায় দিয়েছে। তারা এখনও আমার কাছ থেকে নেওয়া ৬হাজার টাকাও ফেরত দেয় নাই। আরও অনেকের কাছেই এরকম অভিযোগ পাওয়া গেছে।

Manual8 Ad Code

শফিকপুর গ্রামের আব্দুস সামাদ ধলু বলেন, আমার সম্পর্কে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যে ও বানোয়াট। গুচ্ছগ্রামের ঘর ও চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

বড়গাছা ইউপি চেয়ারম্যান শফিউল আলম (শফু) বলেন, গুচ্ছগ্রামের ঘর দেওয়ার নামে কারো কাছ থেকে কোন টাকা নেওয়া হয়নি। আমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য কিছু মানুষ মিথ্যে ও বানোয়াট কথাগুলো প্রচার করছে। বরং যাচাই-বাছাই করে ঘর পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের নামই চ’ড়ান্ত করা হয়েছে। অচিরেই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, আমি এই উপজেলায় যোগদানের আগে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। আমি আসার পর কিছু জটিলতার কারণে প্রকল্প সম্পন্ন করতে সময় লেগে যায়। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আশা করছি দ্রুতই ঘরগুলো হস্তান্তর করা হবে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code