BengaliEnglishFrenchSpanish
শিবগঞ্জে ৮৬৬ হতদরিদ্রের চালে অনিয়ম-কার্ড সম্পর্কে জানেন না ভুক্তভোগীরা - BANGLANEWSUS.COM
  • ৫ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ


 

শিবগঞ্জে ৮৬৬ হতদরিদ্রের চালে অনিয়ম-কার্ড সম্পর্কে জানেন না ভুক্তভোগীরা

STAFF USBD
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২০
শিবগঞ্জে ৮৬৬ হতদরিদ্রের চালে অনিয়ম-কার্ড সম্পর্কে জানেন না ভুক্তভোগীরা

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাবাদদাতা:
শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযো ্উঠে।ে ।গত ২০১৭ সাল থেকে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের ৮৬৬ জন হতদরিদ্রের নামে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগীদে নাম থাকলেও তারাকে জানানো হয়নি এবং কোন দিন চাউল দেয়া হয়নি। সূত্রমতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে চালের ডিলার শরিফুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম হতদরিদ্রদের চাল অন্যত্র বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে নিয়মিত ঘুষ দিয়ে তারা এ অপকর্ম করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। করোনা পরিস্থিতিতে এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষদের বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে সম্প্রতি পাঁকা ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে দুর্নীতির খবরটি জানতে পারেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক। প্রশাসন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ চাল দুর্নীতি তদন্তের নির্দেশ দেন। দোষী ডিলার ও খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। তবে হতদরিদ্রদের কাছে তিনি কার্ড ও খাদ্য পৌঁছানোর কাজটা আগে করতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, পাঁকার অভিযোগ খুবই গুরুতর। চাল ডিলারের সঙ্গে খাদ্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদের কারা জড়িত তাদের শনাক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোনোভাবেই কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। জানা গেছে, কদমতলা গ্রামের ইসলামের ছেলে মোস্তফা হোসেন, সোহরাব আলীর ছেলে শাজাহান, তমুরুদ্দিনের ছেলে সোনার্দ্দি, গোবিন্দ সাহার ছেলে নগেন সাহা, হরিপদ কর্মকারের ছেলে ডালিম কুমার কর্মকার, দয়াময় প্রামাণিকের ছেলে গণপতি প্রামাণিক, শচীন্দ্র নাথ দাসের ছেলে সুবল রবিদাস, ফারাস উদ্দিনের ছেলে আলম হোসেন, তৈয়ব আলীর ছেলে আনারুল ইসলাম, একরামুল হকের ছেলে টুটুল হক, ইসলাম আলীর ছেলে মানারুল ইসলামসহ শ’ শ’ হতদরিদ্রের নামে কার্ড থাকলেও তারা ৩ বছরে তা জানতেই পারেননি।এ দুই ডিলার অবশ্য ভুয়া কার্ড তৈরি করে চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কার্ডগুলো ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। তারা দিয়েছেন কি-না তারা জানেন না। সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, পাঁকা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের ৮৬৬ জনের নামে ১০ টাকা কেজি চালের কার্ড রয়েছে। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডিলার আশরাফুল ইসলাম ও যুগ্ন সম্পাদক ডিলার শরিফুল ইসলাম। ৩ বছর ধরে এলাকার বিভিন্ন জনের নামে শ’ শ’ ভুয়া কার্ডে চাল তুলে তা তারা বিক্রি করে এসেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্প্রতি কার্ডের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেন। এতে হতদরিদ্র এসব মানুষ জানতে পারেন তাদের নামে কার্ড আছে। চর বিশ রশিয়ার গণপতি প্রামাণিক বলেন, তিনি জানেনই না তার নামে চালের কার্ড আছে। এলাকার এক যুবকের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন। টুটুল হোসেনও জানান, তিন বছর ধরে তার নামে ভুয়া কার্ড বানিয়ে চাল আত্মসাৎ করে আসছে ডিলার। তিনি আর চাল নিতে চান না, তবে ডিলারসহ জড়িতদের শাস্তি দেখতে চান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল আকতার জানান, ১০ টাকার কেজি চালের কার্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ এখানে। তিনি সম্প্রতি যোগদান করে বিষয়টি জানতে পারেন। ফলে একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়নের সকল কার্ডধারীর তালিকা সরকারি ওয়েবসাইটে দেন। এরপর থেকে অভিযোগ আসছে। আপাতত আমরা প্রকৃত মালিকদের কাছে কার্ড ও খাদ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছি। যারা দীর্ঘদিন ধরে এ অপকর্ম করে এসেছে তারা কেউই ছাড়া পাবে না। সরজমিনে গিয়ে আরও জানা গেছে, শুধু পাঁকা ইউনিয়ন নয়, মনাকষা উজিরপুর, বিনোদপুর, মোবারকপুর, দাইপুকুরিয়া, চককীর্তি, ধাইনগর, নয়লাভাঙা, ছত্রাজিতপুরসহ প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে নজিরবিহীন অনিয়ম হয়েছে। উপজেলায় ২১ হাজার ৪২৫টি কার্ড রয়েছে। সাম্প্রতিককালে ১০টাকা কেজির চাউল বিতরনে মনাকষা একজন ডিলার কার্ডধারীদের নিকট হতে কার্ডের খরচ বাবদ ৩০ টাকা করে আদায় করেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। তিন মাস পর পর ৬৪৩ টন করে চাল বরাদ্দ আসে। প্রতি কার্ডের বিপরীতে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। এসব বিতরণের জন্য উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে প্রতিটি ইউনিয়নে তিন সদস্যের একটি তদারকি কমিটি আছে। পাঁকা ইউনিয়নের মহিলা সদস্য বিউটি খাতুন বলেন, তার কোটায় ৬০টি কার্ড থাকলেও তাকে সেসব কার্ড তিন বছরেও বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। ফলে তার এলাকার কার্ডধারীরা কেউই চাল পাননি। অথচ তাদের নামে কার্ড রয়েছে। একই ইউনিয়নের তদারকি কমিটির সদস্য আইনজীবী আশফাকুর রহমান রাসেল জানান, তার এলাকার ডিলারের কোনো দোকান নেই। ডিলার শরিফুল ইসলাম তিন বছরে উপজেলা সদরে তিনতলা বাড়ি বানিয়েছে। চাল তুলে গুদাম থেকে বিক্রি করে দিয়ে শরিফুল এখন কোটিপতি। আইনজীবী আরও জানান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জান মোহাম্মদ ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে ডিলারদের গভীর লেনদেনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রত্যেক বরাদ্দে আসা গরিব মানুষদের চাল বিক্রি থেকে খাদ্য কর্মকর্তারা নির্দিষ্ট হারে ঘুষ নেন। আর এ কারণেই ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে উপজেলাজুড়ে নজিরবিহীন অনিময় ও দুর্নীতি হয়ে আসছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা জান মোহাম্মদ জানান, ডিলারদের চাল সরবরাহ করা খাদ্য বিভাগের দায়িত্ব। ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের হাতে কার্ডগুলো সরবরাহ করা হয়েছে। তারা দিয়েছেন কি-না সেটা আমরা নিশ্চিত নই। তবে কার্ড দেখে দেখে ডিলারের উচিত ছিল চাল দেয়া। সেটা তারা করেছেন কি-না আমি নিশ্চিত নই।

এই সংবাদটি 1,233 বার পড়া হয়েছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।