

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ঃ
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে জমজমাটভাবে চলছে বিভিন্ন হাট-বাজার। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলা ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজারে বসছে সাপ্তাহিক হাট। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই হাটে চলে জমজমাট কেনাবেচা।
জানাযায়, উপজেলার সুবিদখালী বাজারে সাপ্তাহিক হাট ছাড়াও অন্যান্য দিনে ও দেখা যায় মানুষের ভিড়। সরেজমিনে রবিবার সুবিদখালী সাপ্তাহিক হাটে দেখা যায়, গ্রামের মানুষ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে এসেছে বাজারে বিক্রি করতে। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে শত শত মানুষ মাস্ক বা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া সাভাবিকভাবেই চলাফেরা, কেনাকাটা করছে। দেখে মনে হয় করোনা নিয়ে তাদের কোনো অনুভূতিই নেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে গাঁ ঠাসাঠাসি করে চলছে বেচা-কেনা।
স্থানীয় কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরকার করোনা প্রতিরোধে সারা দেশের সাপ্তাহিক হাট স্থান পরিবর্তন করে খোলা মাঠে হাট স্থানন্তর করলে ও সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই দেখা যায় না সুবিদখালী সাপ্তাহিক হাট-বাজারে। মির্জাগঞ্জের মানুষ আইনের তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে হাট বাজার। ঔষধের দোকান ছাড়া অন্য সকল দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ থাকলে ও বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় গার্মেন্ট, টিভি – ফ্রীজের দোকানসহ সকল দোকান খোলা রেখে করছে বেঁচা-কেনা। দেখার যেন কেউ নাই। পরিচালনা কমিটির অজ্ঞতার কারণে করোনা দুর্যোগের মধ্যে ও বাজারগুলোতে বেঁচা – কেনা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে এলাকার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে চলছে বহিরাগতদের আগমন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশদ্বার বন্ধের ঘোষণা দিলেও বন্ধ হচ্ছে না বহিরাগতদের আগমন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ থেকে আসছে বহিরাগতরা। চওড়া ভাড়া দিলেই পায়রাকুঞ্জ খেয়ে পার হয়ে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন উপজেলার লোকজন অতিসহজেই আসতে পাড়ছে মির্জাগঞ্জ। কোন কিছু যেন থেমে নেই। সবই চলছে ঠিকঠাক। মির্জাগঞ্জ থানার ওসি এম আর শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, বহিরাগতদের আগমন বন্ধের জন্য সকল প্রবেশদ্বার বন্ধ করে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। চেকপোস্ট আরও জোরদার করা হবে।
মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সরোয়ার হোসেন বলেন, গোটা উপজেলায় ঔষধের দোকান ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধসহ জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য মানুষকে বার বার সতর্ক করা হয়েছে। মোবাইলকোর্ট অব্যাহত রয়েছে। দোকান খোলা রাখার অপরাধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। কেউ নির্দশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।