লকডাউনে অনলাইনেই কবিতার আড্ডা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

আফগানিস্তানে করোনাভাইরাস লকডাউনের মধ্যে অনলাইনে বসছে কবিতার আসর। স্মার্টফোন ব্যবহার করে ঘরে বসেই চলছে কবিতা আবৃতি। চলে সাহিত্য বিষয়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কও। এসব আসরে পুরুষের পাশাপাশি এখন দেশটির বহু নারীও অংশ নিচ্ছে।

Manual1 Ad Code

 

আফগানিস্তানে নারীদের উল্লেখযোগ্য সাহিত্যবিষয়ক সমিতি মিরমান বাহির। করোনার আগে সাধারণত রাজধানী কাবুলে নিজেদের অফিসেই আড্ডায় বসতেন এর সদস্যরা। এছাড়া বিভিন্ন গোপন স্থানেও বসত তাদের আড্ডা। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না।

প্রায় ছয় বছর ধরে কাবুল ইউনিভার্সিটি পোয়েট্রি অ্যাসোসিয়েশন শের-ই-দানেশগাহ’র একজন সক্রিয় সদস্য লিমা আফসিদ। সংগঠনটির বেশিরভাগ সদস্যই শিক্ষার্থী। শহরের ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি থেকে আসা এসব শিক্ষার্থীর সবার বয়সই ২০ এর কাছাকাছি।

কাবুলের তৃতীয় জাঁকজমকপূর্ণ জেলাশহর পোল-ই-সুরখ’র একটি ক্যাফেতে আড্ডা বসাতেন তারা। আরও অনেকের সঙ্গে ক্যাফের এই আড্ডাগুলোতেই যোগ দিতেন আফসিদও। আফসিদ বলেন, শৈশব থেকেই কবিতা লিখছি আমি।

এরপর আমি যখন কাবুল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর শের-ই-দানেশগাহ’তে যোগ দিই। যাতে আমার কবিতার ব্যাপারে অন্যরা সমালোচনা করতে পারে। করোনাভাইরাস লকডাউনের মধ্যে ভেস্তে গেছে তাদের এই আড্ডা। কিন্তু উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির কল্যাণে নতুন রূপে ফিরে এসেছে সেই আড্ডা।

 

Manual1 Ad Code

করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে গত ২৮ মার্চ রাজধানী কাবুলে লকডাউন ঘোষণা করে আফগান সরকার। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অনলাইনে কবিতা আসর আয়োজন শুরু করে শের-ই-দানেশগাহ।

দেশজুড়ে স্বাস্থ্য সংকট সত্ত্বেও একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকার সুযোগ পায় সংগঠনের সদস্যরা। আফসিদ বলেন, ভার্চুয়াল আসরটি রাতারাতি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার কথায়, ‘টেলিগ্রামে আমরা একটি গ্রুপ খুললাম।

শুরুতে হাতেগোনা কয়েকজন সদস্য নিয়ে শুরু হলেও এখন এর সদস্য সংখ্যা দুই শতাধিক। এই গ্রুপে আমরা সপ্তাহে একদিন কবিতা নিয়ে বসি। আবৃত্তি করি ও শুনি। এটাও অনেকটাই মুখোমুখি বৈঠকের মতোই।’

২০০১ সালে বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের পতনের পর মোবাইল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

Manual2 Ad Code

২০১৮ সালের এক রিপোর্ট মতে, দেশটির জনসংখ্যার ১০ শতাংশই এখন হোয়াটসঅ্যাপসের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে। এই সংখ্যা ২০০৪ সালে মাত্র ০.১ শতাংশ ছিল।

২০১৯ সালের একটি রিপোর্ট মতে, দেশটির ৯০ শতাংশ পরিবারেই মোবাইল ফোন আছে এবং এর মধ্যে ৪৬.৩ শতাংশেরই ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে।

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code