মান্দায় রাস্তার পাশে জঙ্গলের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল!

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

 

মাহবুবুজ্জামান সেতু নওগাঁ প্রতিনিধি:

নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর মোড় হয়ে আঁয়াপুর- পাঁঠাকাটা ঘাটে যাতায়াতের রাস্তার দু’পাশে এবং ভালাইন ইউপির বৈদ্যপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন মোড়ের দুই পাশে জঙ্গলের কারণে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জঙ্গলের কারণে প্রায়ই দূর্ঘটনা এবং ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। কতৃপক্ষ নিয়মিত ওইসব জঙ্গল পরিষ্কার করে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

Manual1 Ad Code

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মান্দা উপজেলার কালিকাপুর মোড় হয়ে আঁয়াপুর- পাঁঠাকাটা ঘাটে যাতায়াতের রাস্তার দু’পাশে এবং ভালাইন ইউপির বৈদ্যপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার রাস্তার পর্যন্ত পাকা রাস্তার দুইপাশে জঙ্গলে পরিপূর্ণ। পাকা রাস্তার প্রস্থ ১৩ ফিট এবং রাস্তার দু’পাশের মাটির প্রস্থ প্রায় তিন ফিট করে। পাকা রাস্তার নিচের মাটিতে প্রায় ৩/৪ ফিট উঁচু হয়ে বেড়ার মতো করে ঝিটকানি, আটিশ্বর, বিধি, এলাং, বুমবরই, বরই, বিছাতু এবং বাইনা জাতীয় গাছে পরিপূর্ণ।

জঙ্গলের কারণে পাশাপাশি বড় দুটি গাড়ি চলাচলের সময় ভ্যান, মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাশ কাটতে হয়। এছাড়া দুই লেনের এই রাস্তায় প্রায় ট্রাক ও ভটভটি নষ্ট হয়ে এক লেনের রাস্তা জুড়ে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকে। ফলে তখন রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। পথচারীদের তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পাশ কাটাতে হয়।

পাশ কাটার সময় যখন আবার বড় ধরনের গাড়ি চলে আসে তখন দাঁড়ানোর কোনো জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকতে হয় এবং পাকা রাস্তার উপর দিয়েই পথচারীকে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে।

Manual1 Ad Code

জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়লে এলাং, বুমবরই, বরই গাছের কাটা লেগে পোশাক ছিঁড়ে যায় ও গায়ে আঁচড় লাগে। এছাড়া রাস্তার দুপাশে জঙ্গল থাকায় ছিনতাইকারীরা ওঁৎ পেতে থাকে। ফলে অনেক সময় পথচারীদের ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হয়।

Manual5 Ad Code

ভ্যানচালক নয়ন বলেন, বড় কোনো গাড়ি আসলে মানুষ মাটিতে দাঁড়ানোর জায়গা পায় না। বাধ্য হয়ে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়তে হয়।

স্থানীয় জংলীপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, বাস-ট্রাক আসলে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকতে হয়। গত কয়েকদিন আগে এক ডিম বিক্রেতা বাসের ধাক্কার ভয়ে জঙ্গলে মধ্যে ঢুকে প্পড়ে। এতে তার ২০০ পিসের মতো ডিম ভেঙে গেছে।

Manual5 Ad Code

তিনি আরো বলেন, গত ২/৩ বছর হলো রাস্তার দুপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করা হয় না। জঙ্গলের কারণে প্রায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে থাকে। কর্তৃপক্ষের জঙ্গল পরিষ্কার করার নিয়ম থাকলেও তারা করে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ট্রাক মালিক নাসির উদ্দিন বলেন, জঙ্গলের কারণে রাস্তার মাপ বোঝা যায় না। বিপরীতমুখি দুই গাড়ি আসলে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটার উপক্রম হয়। এছাড়া প্রায় গাড়ি নষ্ট হয়ে রাস্তার বেশিভাগ জায়গা জুড়ে পড়ে থাকে। তখন চলাচল করতে আরো সমস্যা হয়।

নওগাঁ সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, পাকা রাস্তার প্রস্থ প্রায় ১৩ ফিট এবং রাস্তার দু’পার্শ্বের মাটির প্রস্থ রয়েছে প্রায় তিন ফিট করে। আর রাস্তার পাশে জঙ্গল হলে তা পরিষ্কার করা হয়। প্রতি বছর বর্ষার আগে এবং পরে পরিষ্কার করা হয়। বেশি জঙ্গলের কারণে যদি রাস্তা দেখা না যায় তাহলে সেখানে নিয়মিত জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code