রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘকে এগিয়ে আসতে হবে

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

সম্পাদকীয়: ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। বাংলাদেশ সংলাপের মাধ্যমে এ সংকট নিরসনের জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছে, এমনকি বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক, মিয়ানমার সেই চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক না হয়ে উল্টো রাখাইনে সংঘটিত গণহত্যাকে আড়াল করার জন্য প্রকৃত ঘটনা বিকৃতসহ মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে, যা কোনোমতেই মেনে নেয়া যায় না। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর যা ঘটেছে, তা গণহত্যার শামিল। ইতোমধ্যে মিয়ানমারের চার সেনাসদস্য স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গাদের নির্মূল করার লক্ষ্য নিয়েই অভিযানে নেমেছিল দেশটির সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযান শুরু হলে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়টির ওপর চালানো হয় নিষ্ঠুর নির্যাতন। নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ ছাড়াও বাড়িঘরে আগুন দিয়ে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো হয়। বর্বরোচিত নির্যাতনের ফলে ওই সময় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

Manual2 Ad Code

গত কয়েক দশকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গাদের মিলে বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ১১ লাখ। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দীর্ঘসূত্রতা ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য যে বিরাট বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বলাই বাহুল্য। মিয়ানমারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে রোহিঙ্গা সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এক্ষেত্রে ফেরত যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সুশাসন ও আইনি পদক্ষেপ। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তার বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ সংকট নিরসনে জাতিসংঘকে এগিয়ে আসতে হবে।

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code