লৌহজংয়ে আলু চাষ বিলম্ব : খাল পুনঃখননের দাবি কৃষকের

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

মো. মানিক মিয়া, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) :
দেশের সিংহভাগ আলু উৎপাদন হয় মুন্সীগঞ্জ জেলায় তথা বিক্রমপুরে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে জেলায় প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে ১৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে। রাজধানীর নিকটবর্তী এ জেলার লৌহজং উপজেলার কৃষকরা আলু উচ্চমূল্যে বিক্রি করার কারণে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নিয়েছে। তাই এ বছর আলু চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। পাশর্^বর্তী উপজেলা সিরাজদিখান, শ্রীনগর, টঙ্গীবাড়ীতে ইতিমধ্যেই আলুর বীজ বপন করতে শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লৌহজং উপজেলায় এখনো আলুর জমি প্রস্তুত করা ও সম্ভব হয়নি। তথ্য নিয়ে জানা যায়, লৌহজং উপজেলার বেশিরভাগ খালের প্রবেশমুখে পদ্মার বালুমাটি দিয়ে ভরাট হয়ে গিয়েছে। এতে করে বর্ষার পানি জমি থেকে নামতে পারেনি। তাই এখনও অনেক জমিতে পানি জমে রয়েছে। জমি থেকে বর্ষার পানি নামতে না পারার কারণে খিদিরপাড়া, বাউসার, চাঁইনপাড়া, মিঠুসার, পয়শা, নওপাড়া, বৌলতলী, গাওদিয়া, বেজগাও, ঘোলতলী, কলমা, নাগেরহাটসহ বেশ কিছু এলাকার জমি গুলো এখনও প্রস্তুত করা সম্ভব হয়নি।
কৃষক মো. শাহজাহান বেপারী বলেন, ধারার হাট-বালিগাঁও খালটি পুনঃখনন করা হলে কৃষি জমিতে পানি জমে থাকবে না। এতে করে আমরা সঠিক সময়ে চাষাবাদ করতে পারবো। আরেক আলু চাষী ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার মো. সিরাজ হাওলাদার জানান, আমাদের জমি গুলোতে তিন ফসলী চাষাবাদ করতে পারতাম। যদি জমিতে সঠিক সময়ে চাষাবাদ করা যেতো। বর্ষার পানি জমি থেকে নামার ব্যবস্থা করতে হলে খালগুলোকে পুনঃখনন করতে হবে। লৌহজং এলাকার কৃষকের দাবি অতিসত্ত্বর খালগুলোকে দখল মুক্ত ও পুনঃখনন করা করা হোক।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এখন আলু রোপণের মৌসুম। কিন্তু আলু ক্ষেতে পানি জমে থাকার কারণে লৌহজংয়ের চাষীরা এখনও আলু রোপণ করতে পারছে না। লৌহজংয়ের বেশিরভাগ খাল বালু দিয়ে ভরাট ও দখল হয়ে গিয়েছে। ফলে বর্ষায় পানি প্রবেশ করতে পারে কিন্তু পানি বের হতে দেড়ি হয়। এখন যদি লৌহজংয়ের খাল গুলো অতিদ্রুত খনন করা যেতো তাহলে লৌহজংয়ের কৃষকেরা সঠিক সময়ে আল রোপণ করতে পারতো। এ বছর ১ মাস পিছিয়ে যাচ্ছে আলু রোপণে। এতে ফলন হবে তবে ভালো ফলনের আশা করা অসম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code