জুমআর দিনের যে আমলে জাহান্নাম হারাম!

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্ক, নিউইয়র্ক: জুমআর দিনের অন্যতম একটি আমল মসজিদে যাওয়া। নামাজের উদ্দেশ্যে মসজিদে রওয়ানা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর রহমত নাজিল হয়। কোনো বান্দা যদি জুমআর আজান শোনার পর পাঁয়ে হেটে মসজিদের দিকে ধাবিত হয়, ওই বান্দার জন্য জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়।

এ কারণেই নামাজের সময় হলে দেরি না করে ধীরস্থিরভাবে মসজিদের দিকে পাঁয়ে হেটে রওয়ানা হওয়া। জাহান্নামকে নিজের জন্য হারাম করে নেয়া জরুরি। হাদিসে এসেছে-
– হজরত আবায়া ইব্‌নু রিফাআ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আমি জুমআর নামাজে যাওয়র সময় হজরত আবু আব‌স‌ রাদিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, ‌যার দুই পা আল্লাহর পথে (চলে) ধূলি ধূসরিত হয়; আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেন।’ (বুখারি)

Manual1 Ad Code

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন নামাজ শুরু হয়, তখন দৌড়ে গিয়ে নামাজে যোগদান করবে না, বরং হেঁটে গিয়ে নামাজে যোগদান করবে। নামাজে ধীর-স্থিরভাবে যাওয়া তোমাদের জন্য অপরিহার্য। কাজেই জামাআতের সঙ্গে যতটুকু নামাজ পাও আদায় কর। আর যা ছুটে গেছে, তা পরে পূর্ণ করে নাও।’ (বুখারি)

Manual4 Ad Code

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী যে বিষয়গুলো সুস্পষ্ট-
প্রথমত : নামাজে তাড়াহুড়ো করে দ্রুতবেগে না যাওয়া। তবে এমনভাবে মসজিদে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া জরুরি, যাতে মসজিদে গিয়ে উপস্থিত হতে দেরি না হয়। জামাআতে নামাজ ছুটে না যায়। যদি কোনো কারণে জামাআত নামাজের সময়ও হয়ে যায় তাতেও তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই। তবে জামাআতে যাওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব থাকা জরুরি।

Manual3 Ad Code

দ্বিতীয়ত : যারা জুমআ আদায়ের উদ্দেশ্যে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে ধাবিত হবেন, হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী তাদের জন্য জাহান্নাম হারাম। নামাজ আদায়ে মসজিদের দিকে যাওয়ার সময় প্রত্যেক নামাজির এ নিয়ত রাখা এবং আমল করা আবশ্যক।

তৃতীয়ত : জুমআর নামাজের উদ্দেশ্যে আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাঁয়ে হেটে মসজিদে যাওয়া জরুরি। জুমআর আজানের পর নামাজের প্রস্তুতি ছাড়া দুনিয়ার বেচা-কেনাসহ কোনো কাজকর্ম করা বৈধ নয়। তাই আজানের সঙ্গে সঙ্গে পায়ে হেঁটে মসজিদের দিকে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম কাজ।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, জুমআর দিন পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার মাধ্যমে জাহান্নামকে নিজের জন্য হারাম করে নেয়ার চেষ্টা করা। শুধু জুমআর উদ্দেশ্যেই নয়, প্রতিদিন জামাআতে নামাজের জন্য নিজেকে মসজিদমুখী করার চেষ্টা করা।

Manual4 Ad Code

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের দিকে পাঁয়ে হেটে যাওয়ার মাধ্যমে নিজেদের জন্য জাহান্নামকে হারাম করে নেয়ার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code