করোনা পরিস্থিতির বিপর্যয়ের আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual1 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতি এখনই নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে সংক্রমণের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

Manual5 Ad Code

শুক্রবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬ হাজার ৮৩০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর আগের দিনি আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছিল ৬ হাজার ৪৬৯ জন এবং মারা গেছেন ৫৯ জন। গত ৩১ মার্চ আক্রান্ত ৫ হাজার ৩৫৮ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫২ জনের।

প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। পরিস্থিতি মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।

Manual7 Ad Code

জনস্বাস্থ্য বিশেজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে এবং দেশে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। যে গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে তাতে একটা বিস্ফোরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দ্রুত কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা, হাত ধোয়া, দূরত্ব বজায় রাখার মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। পাশাপাশি সব ধরনের সভা-সমাবেশ, জনসমাগম, জমায়েত নিষিদ্ধ, দোকানপাট ও মার্কেট খোলা রাখার সময় ৬ ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া, রাত্রিকালীন কারফিউ দেওয়াসহ কঠোর পদক্ষেপে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক প্রফেসর এ বি এম আব্দুল্লাহ বাংলানিউজকে বলেন, গত ৫/৬ দিন ধরে করোনা সংক্রমণ খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ যেহেতু বাড়ছে সেই সঙ্গে মুত্যুও বাড়তেই থাকবে। আমরা মহাসংকটের মধ্যে আছি। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে ঠেকবে বলা যাচ্ছে না। এক মাসে সংক্রমণ কম ছিলো, সংক্রমণ ৫ ভাগের নিচে নেমে এসেছিল। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, বিয়ের অনুষ্ঠান, পর্যটন সর্বত্র জনসমাগম ও উদাসিনতা লক্ষ্য করা গেছে। হাত ধুচ্ছে না, মাস্ক পরছে না, দূরুত্ব বজায় রাখছে না। প্রসাশন এবং সরকারও মনে করেছিল নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে, একটা ঢিলেঢালা ভাব ছিল। যদিও সরকার আবার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে পরিস্থিতির লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, মারাত্মক বিপর্যয়ের দিকে যাবে।

Manual6 Ad Code

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেল্থ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেনিন চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, নিয়ন্ত্রণের জন্য যে পদক্ষেপ ও কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে সেটা দেরি হয়ে গেছে, আরও আগে নেওয়া উচিত ছিল। যেটা নেওয়া হয়েছে সেটাও আংশিক। যদি এখনই সংক্রমণের গতি থামানো না যায় তাহলে একটা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হবে। সব রকমের সভা-সমাবেশ, জমায়েত বন্ধ করে দিতে হবে। দোকানপাট, মার্কেট ৬ ঘণ্টার বেশি খোলা রাখা উচিত নয়। মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাস্তায় নামানো উচিত। সেই সঙ্গে পাড়া-মহল্লায় গণতদারকি কমিটি করে তাদের মাধ্যমে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। এছাড়া রাত্রিকালীন কারফিউ এবং এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়া উচিত। হাসপাতালে রোগী ধারণের ক্ষমতা না থাকলে বাইরে ব্যবস্থা করে সেনাবাহিনী ও রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এগুলো নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি একটা মহাবিপর্যয়ের দিকে চলে যাবে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, পরিস্থিতি খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত গতিতে সংক্রমণ বাড়ছে ও পরিস্তিতির অবনতি হচ্ছে। এখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এটাকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা সংক্রমণের বিস্ফোরণের মধ্যে আছি। এটাকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করতে হবে। কারণ লাফিয়ে লাফিয়ে সংক্রমণ বাড়ছে, সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মৃত্যু বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও বাড়বে এবং ইউরোপের মতো বিস্ফোরণ ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code