বেনাপোলে ভারতীয় শ্রমিকদের কারণে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual3 Ad Code

বিশেষ প্রতিনিধিঃ 

বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারত থেকে আসা ট্রাক শ্রমিকরা কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এতে বন্দরে কর্মরতরা করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। এছাড়া বেনাপোল বন্দরে ভারত থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে ট্রাক চালকদের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা না থাকায় করোনার নতুন ধরণ ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বন্দর এলাকার মানুষ। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সকল বিধি মেনেই বন্দরে পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশ অংশে পণ্য প্রবেশ দ্বারে ট্রাকে জীবাণুনাশক স্প্রে ও ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।

তবে স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়াই অনভিজ্ঞ আনসার সদস্য দিয়ে চলছে এসব ট্রাক চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের তেমন তদারকি না থাকায় সমাজিক দূরত্বের বালাই নেই বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা এসব ট্রাকচালক ও তাদের সহযোগীদের। কারো কারো কাছে মাস্ক থাকলেও তা মুখে না দিয়ে রেখেছে পকেটে বা কানে ঝুলিয়ে। এতে করে করোনা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে বন্দরে কর্মরত শ্রমিকরা ও স্থানীয়রা।

করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সংক্রমণ রোধে গত ২৬ এপ্রিল সীমান্তে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ। এরপর বিশেষ অনুমতি নিয়ে কেউ কেউ দেশে ফিরলেও তাদের ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে। এসব যাত্রীর কোয়ারেন্টাইন নিয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করছে আমদানি পণ্যবাহী আড়াইশ থেকে তিনশ ভারতীয় ট্রাক। এই ট্রাকচালক ও শ্রমিকদের অধিকাংশই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা ভারতে মাস্ক ও পিপিই পরে থাকলেও বাংলাদেশে ঢুকেই সেসব খুলে ফেলছেন এবং বন্দরের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই ভারতীয় চালক-শ্রমিকদের এমন অবাধ চলাচলে ঝুঁকিতে পড়েছেন বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা।

 

Manual2 Ad Code

 

বন্দর এলাকায় বসবাসকারীরা জানান, ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে ট্রাক চালকরা আমদানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসছে। এসময় ট্রাক চালকেরা পিপিই-মাস্ক পরে বেনাপোল বন্দরে আসলেও বন্দরে ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে পৌঁছানোর পর পিপিই ও মাস্ক খুলে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে যত্রতত্রভাবে বন্দর এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।

এতে করে এসব ট্রাকচালকদের মাধ্যমে করোনার নতুন ধরণ ভারতীয় ভেরিয়েন্ট সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে তাদের। এবং এসব ট্রাকচালকেরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করে সেজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তারা।

সাইফুল নামে বাংলাদেশি এক ট্রাক শ্রমিক বলেন, পণ্য লোডের জন্য দীর্ঘক্ষণ বন্দর এলাকায় অবস্থান করতে হয়। তারা মাস্ক পরে ঘুরলেও ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকরা খোলামেলা চলাফেরা করছেন। সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজ করতে হচ্ছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, যেহেতু ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পণ্য নিয়ে ট্রাকচালকেরা বেনাপোল বন্দরে আসছে। আবার বাংলাদেশর বিভিন্ন এলাকা থেকে ও পণ্য নিয়ে ট্রাকচালকেরা ভারতে যাচ্ছে। এসব ট্রাকচালকদের স্বাস্থ্য সচেতনত না বাড়ালে এদের মাধ্যমে ভারতের করোনা ভেরিয়েন্ট সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা বেশি। তাই বন্দরের কর্মকর্তাদের দ্রুত সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে জানান তিনি।

 

 

Manual3 Ad Code

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবির তরফদার জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানতে এসব ট্রাকচালক ও বন্দরের শ্রমিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তারা তদারকি করছেন বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, দু’দেশে যাতায়াতকারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকদের নির্ধারিত এলাকার বাইরে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই।

Manual4 Ad Code

 

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code