সন্তানকে শেখাতে হবে শৃঙ্খলা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual8 Ad Code

সন্তানকে শৃঙ্খলা শেখানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, অভিভাবকদের নিজেদের নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন। যখন সন্তান দেখবে তার মা–বাবা নিয়ম মেনে শৃঙ্খলার সঙ্গে যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করছেন, তখন নিজেরাও নিয়ম মানতে উৎসাহী হবে।
যে নিয়মগুলো সন্তানকে মানাতে হবে নিয়মিত, বাবা–মায়েরও উচিত সন্তানের পাশাপাশি নিজেদেরও সেই নিয়মগুলো মেনে চলা। আপনি যদি সময়ে–অসময়ে টিভি চালিয়ে দেন বা ফোনে আড্ডা দেন, তাহলে কখনোই আশা করবেন না যে আপনার ছেলেমেয়ে সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করবে। নিজে সময়ের কাজ সময়ে করুন, সন্তানেরা আপনাকে দেখেই শিখবে। তবে কখনো কখনো এমনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়, যখন এই নিয়ম হয়তো কাজে আসবে না। সে ক্ষেত্রে আরও কিছু টিপস মনে রাখুন।

আপনি যদি সন্তানের থেকে সম্মান আশা করেন, তাহলে আপনারও তাকে সম্মান করতে হবে। তার মতামতকে গুরুত্ব দিন, কথা শুনুন। সন্তান যত ছোটই হোক না কেন, সে যে পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, এই বোধ যেন তার ছোট থেকেই জেগে ওঠে। যদি তার অভিমত মানার মতো না হয়, তাহলে বুঝিয়ে বলুন কেন তা সম্ভব নয়। নিজের মতামত জোর করে চাপিয়ে দেবেন না।

সন্তানকে শাসন করার সময় খেয়াল রাখবেন, মা-বাবা দুজনই একসঙ্গে শাসন করবেন না যেন। একজন বকাঝকা করলেন, আরেকজন রেগে না গিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করবেন। সন্তানকে শাসন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করবেন না। তাকে বোঝাতে হবে ভুলটা ভুলই। সে যেন বুঝতে পারে অন্যায় করলে মা–বাবা দুজনেই রাগ করেন। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সন্তানের পছন্দ–অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। কেন আপনি সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন, সেটা বুঝলে ওর নিজেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হবে।
ভাষা বা শব্দ প্রয়োগে সচেতন থাকুন। সন্তানকে বকার প্রয়োজন হলে কখনো কোনো খারাপ শব্দ প্রয়োগ করবেন না। এতে সন্তানের সুস্থ মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তার মধ্যেও নোংরা শব্দ প্রয়োগের ঝোঁক সৃষ্টি হবে। অন্য কারোর সঙ্গে তুলনা করে কথা বলবেন না। এতে তার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। যেমন ‘অমুক কত বুদ্ধিমান। তোমার মাথায় একেবারেই বুদ্ধি নেই’, এ ধরনের তুলনা করবেন না। বরং বলুন, এটা কি বুদ্ধিমান ছেলের মতো কাজ হয়েছে?

একেক শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য একেক রকম। সেই অনুযায়ী আপনার পরিকল্পনা তৈরি করুন। সন্তান কীভাবে সময় কাটাতে ভালোবাসে, কোন সময়ে পড়তে বসতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, এই সবকিছু মাথায় রেখে দিনের রুটিন নির্দিষ্ট করুন। আলোচনা করে রুটিন করুন।

Manual3 Ad Code

অতিরিক্ত নিয়মকানুন সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেবেন না। স্কুল থেকে ফিরে অন্তত দুই ঘণ্টা যেন ছোটাছুটি করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারে। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, গাছের পরিচর্যার মতো নিজস্ব কিছু শখ থাকলে উৎসাহিত করুন।

কোনো অন্যায় করতে দেখলে প্রথমে সতর্ক করুন, বুঝিয়ে বলুন, তারপর শাস্তি দিন। শাস্তি মানে কিন্তু উচ্চ স্বরে রাগান্বিত বা গায়ে হাত তোলা নয় একেবারেই। কিছুদিনের জন্য ওর পছন্দের কোনো জিনিস দেওয়া বন্ধ করে দিন বা ওর সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিন।

সবার সামনে সন্তানের সমালোচনা বা নিন্দা করবেন না, এতে ওর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। এমনকি এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে। অনেক সন্তান বড় হয়েও শৈশবে তার প্রতি বাবা–মায়ের যে সমালোচনা ছিল, তা নিয়ে মনে কষ্ট থেকে যায়। কথাবার্তায়, আচার–আচরণে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলে সন্তান উৎসাহিত বোধ করবে।

Manual2 Ad Code

একইভাবে ওর সামনে কখনোই কোনো গুরুজনের সমালোচনা বা মিথ্যাচার করবেন না, তাহলে সে তাঁদের প্রতি ধীরে ধীরে শ্রদ্ধা তো হারাবেই, আপনাকেও শ্রদ্ধা করতে শিখবে না।

সন্তানকে সময় দিন, যেন আপনারা একে অপরকে ভালো করে চিনতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে সুস্থ রুচি, সামাজিকতার খুঁটিনাটি তার মধ্যে গেঁথে দিন।

Manual3 Ad Code

কোনো উপলক্ষ ছাড়াই সন্তানকে পছন্দমতো ছোট কোনো উপহার দিন, যাতে ও বুঝতে পারে ওর ব্যবহারে এবং কাজকর্মে আপনারা খুশি।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সপরিবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘুরে আসুন। সবুজ প্রকৃতি মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code