১০৫ দিনেই কাটা যায় ব্রি ধান৭৫, সুযোগ বাড়ছে একাধিক ফসল চাষের

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual6 Ad Code

সম্ভাবনাময় স্বল্প-মেয়াদী এবং আগাম আমন ধানের জাত ধানের জাত ব্রি ধান৭৫ মাঠ পর্যায়ে ভালো সফলতা পেয়েছে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্বল্প মেয়াদি এ জাতের ধান আবাদের পর শীতকালীন বিভিন্ন ফসল চাষ করতে পারবেন কৃষকেরা।

Manual6 Ad Code

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনা খাতুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ জাতের ধান সংগ্রহের পর রবি শস্য যেমন- গম, মসুর, সরিষা, ভুট্টা ও অন্যান্য শীতকালীন ফসলের চাষের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

ব্রি সূত্র জানায়, ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত সিরিয়াল সিস্টেম ইনিশিয়েটিভ ফর সাউথ এশিয়া (সিএসআইএসএ III) প্রকল্পের অধীনে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগ মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষায় ভালো ফল পেয়েছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ইরি) সহযোগিতায় ঝিনাইদহ জেলার ফুলহরি গ্রামে কৃষক মো. লিয়াকত আলীর জমিতে এ মাঠপরীক্ষা বাস্তবায়ন করা হয়।

Manual1 Ad Code

ব্রির ট্রায়াল প্লটে ইতোমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। ব্রি কুষ্টিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. মাহবুবুর রহমান দেওয়ান বলেন, মাঠ পরীক্ষার ফলাফলে আমরা দেখতে পেয়েছি, ২০ দিনের চারা ব্যবহার করে ১০৫ দিনেই ব্রি ধান৭৫ কাটা যায়। ফলন হেক্টরপ্রতি ৫ টনের অধিক হয়েছে। ২০ জুন থেকে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে পর্যন্ত এই ধানের বীজতলা বপন করা হয়।

ব্রির রাইস ফার্মিং সিস্টেমস বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনা খাতুন এবং এই কর্মসূচির প্রধান গবেষক জানান, ব্রি এই জাতের সর্বোচ্চ ফলনের জন্য ২০ জুলাই থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে ধান বপনের সুপারিশ করে থাকে। তবে জুনের শেষে বা জুলাইয়ের প্রথম দিকে বপন করে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ধান কাটার পরেও বেশ ভাল ফলন পাওয়া যাচ্ছে।

Manual7 Ad Code

এ ধান গবেষক বলেন, জাতটি অন্যান্য উচ্চ ফলনশীল দীর্ঘ মেয়াদী জাতের তুলনায় আগাম উচ্চ ফলন দিতে পারে। আগাম পরিপক্কতার কারণে কৃষকরা সহজে ও সময়মত মসুর ডাল, সরিষা, ভুট্টা বা অন্যান্য উচ্চ মূল্যের শীতকালীন ফসল চাষ করতে পারেন। ফলে, এটি জাতীয় শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

কৃষক মো. লিয়াকত আলী জানান, এই জাতের আগাম ফসল ও ফলন দেখে তিনি খুশি। এ জাতের ধানের পাশাপাশি খড়ের উচ্চ দামও পাওয়া যাবে।

Manual5 Ad Code

ইরি সিনিয়র স্পেশালিস্ট ড. শরীফ আহমেদ বলেন, সিএসআইএসএ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা গত তিন বছর ধরে এ জাতের সম্প্রসারণ, বাজার উন্নয়ন, সংযোগ ও ব্র্যান্ড সৃষ্টির জন্য কাজ করছি। এই অঞ্চলের কৃষকরা (যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর) ইতোমধ্যেই এই জাতটি চাষাবাদ করতে অনেক বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, এই জাতের ধানের চাল আকারে লম্বা ও চিকন। এছাড়াও, রান্নার সময় ও পরে ধানটি থেকে হালকা ঘ্রাণ বের হয়। ধানটি লম্বা ও চিকন হওয়ার কারণে, কৃষকরা এই জাতের ধান বেশি মূল্যে বিক্রি করতে পারছেন। ফলে তারা এ জাতটি চাষ করতে আরও বেশি আগ্রহী।

ড. শরীফ আহমেদ বলেন, প্রকল্প থেকে আমরা স্থানীয় বীজ কোম্পানিগুলোর সঙ্গেও কাজ করছি। কৃষকদের নেতৃত্ব দিচ্ছি যাতে এর বীজ স্থানীয় পর্যায়ে পাওয়া যায়। তিনটি অটো রাইস মিলের সঙ্গেও আমাদের কাজ চলমান। আমনের ফসল কাটার পর তারা এই চালকে প্রিমিয়াম রাইস ব্রি ধান৭৫ নামে ব্র্যান্ডি করতে সম্মত হয়েছে। আশা করছি নভেম্বরের শুরুতে, ভোক্তারা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই জাতের চাল কিনতে পারবেন।

এ বিষয়ে ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, এই জাতের উচ্চ ফলনশীলতার সম্ভাবনার পাশাপাশি চাষের স্বল্প মেয়াদকাল কৃষকদের জন্য একটি নতুন জাত চাষের দুয়ার খুলে দেবে। এর ফলে কৃষকরা তাড়াতাড়ি ফসল কেটে বেশি মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী রবি শস্য সময়মত রোপণ করতে পারবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code