আফগানিস্তানে দুমুঠো খাবার জোগাতে সন্তান বিক্রি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

তালেবান আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক সহায়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে, ধসে পড়েছে দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। এতে খাবারের মতো দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পারছে না অনেকে। পারওয়ানা তার পরিবারে প্রথম নয়, কয়েক মাস আগে তার তিন বছরের বড় বোনকে বিক্রি করা হয়।

২৪ অক্টোবর পারওয়ানার ঘরে আসে কোরবান নামের ওই ‘বুড়ো’ লোক। ভেড়া, জমি ও অর্থ মিলিয়ে পারওয়ানার বাবাকে দুই লাখ আফগানি মুদ্রা দেন। এ অর্থ মাত্র ২ হাজার ২০০ মার্কিন ডলারের সমান। পারওয়ানার হাত ধরে দরজা পেরিয়ে চলে যায় কোরবান। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িতে বাড়ি ছেড়ে চলে যায় পারওয়ানা।

পারওয়ানার বাবা আবদুল মালিক সিএনএকে জানান, তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না। লজ্জা, অপরাধবোধ আর দুশ্চিন্তায় মন ভেঙে যাচ্ছে তাঁর। মেয়েকে বিক্রি না করার সব চেষ্টা তিনি করেছেন। অনেক জায়গায় কাজ খুঁজেও পাননি। আত্মীয়স্বজনের কাছে ধার করেছেন। তাঁর স্ত্রী অন্যদের কাছে খাবার ভিক্ষা করেছেন।

Manual1 Ad Code

এত কিছু করেও পরিবারের জন্য দুমুঠো খাবার জোগাতে পারছিলেন না আবদুল মালিক। পরিবারের জন্য খাবার জোগাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া তাঁর আর কোনো উপায় ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিবারের সদস্য আটজন। পরিবারের অন্যদের বাঁচাতে হলে (মেয়েকে) বিক্রি করতেই হতো।’

Manual3 Ad Code

পারওয়ানার ক্রয়কে কোরবান ‘বিয়ে’ বলতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী আছে। সেই পারওয়ানাকে দেখাশোনা করবে। পারওয়ানাকে সে নিজের সন্তানের মতোই দেখবে। পারওয়ানার বাবা গরিব, তাঁর অর্থের প্রয়োজন। সে আমার বাসায় কাজ করবে। আমরা তাঁকে পেটাব না। সে আমাদের পরিবারের একজন হয়েই থাকবে।’

বাদগিসের পাশের ঘোর প্রদেশের ১০ বছরের শিশু মাগুল। প্রতিদিন সে কান্না করে। তার পরিবার ঋণ শোধ করতে ৭০ বছরের এক বৃদ্ধের কাছে তাকে বিক্রির কথা জানিয়েছে। পাশের গ্রামের একজনের কাছে দুই লাখ আফগানি ধার করেছিল তার পরিবার। কাজ বা সঞ্চয় না থাকায় ঋণ শোধের আর কোনো উপায় নেই।

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code