

নিউজ ডেস্কঃ
কর্পোরেট কাজ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা, সবখানে ভালো ইংরেজি জানা এখন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ইংরেজি শেখার প্রতি আগ্রহীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে ঠিক তেমনি ইংরেজি শেখানো মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে।
কখনো হাসিমুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান প্রিপজিশন আর ভোকাবুলারি পড়াতে, আবার কখনোবা নিত্যদিনের কথোপকথনে ব্যবহারিক দশটি ইংরেজি বাক্য থেকে উচ্চারণের খুঁটিনাটি শেখানোর জন্য। ইংরেজির এমন খুঁটিনাটি বিষয় থেকে বিচিত্র সব বিষয়ের উপর সহজ ও অভিনব কৌশলে শেখানো তাঁর ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে। বলছিলাম ‘ওয়ান মিনিট ইংলিশ উইথ মীম’ এর নূরে জান্নাত মীম-এর কথা।
করোনায় থাবায় যখন সারাবিশ্ব স্থবির, পড়ালেখা বন্ধ প্রায়, তখন নিজের দক্ষতা ঝালিয়ে নিতে ও অন্যদের শেখানোর তাগিদে মীম তৈরি করলেন অনলাইন ভিত্তিক ইংরেজি শেখার স্কুল ‘ওয়ান মিনিট ইংলিশ উইথ মীম’। মীম জানালেন তাঁর শুরুর দিকের গল্প—’মহামারীর কারণে একটানা ঘরে বসে থাকাটা সবার জন্যই কষ্টকর, সে সময়টাতে কিছু করার তাগিদ অনুভব করলাম। ভাবলাম আমি যেহেতু ইংরেজিতে পড়ছি, নিজের চর্চার সাথে অন্যকেও যদি সহজে শেখানো যায় তাহলে ভালো হয়। আমার আশপাশের বন্ধুবান্ধবরাও আমাকে উৎসাহ দিতে লাগল, অবশ্য এর মধ্যে আমি হেডম্যান একাডেমি ইংরেজির লাইভ ক্লাসগুলোতে ইমাম স্যারের সাথে জয়েন করতাম। তখন মাঝেমধ্যে ভিডিও বানাতাম, মানুষের আগ্রহ দেখে চিন্তা করলাম সবগুলো ভিডিও যদি একসঙ্গে সিরিজ আকারে তুলে ধরা যেতো তবে সবার জন্য সুবিধা হতো।’
সময়ের সাথে বাড়তে লাগল মীমের অনলাইন শিক্ষার্থীর সংখ্যা। ইতোমধ্যে ইউটিউবে এক লক্ষ সাবস্ক্রাইবার যুক্ত হওয়ায় পেয়েছেন সিলভার প্লে বাটন। মীম সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস নিয়ে থাকেন। বর্তমানে তার প্রতিটি লাইভ ক্লাসে গড়ে স্টুডেন্টদের সংখ্যা প্রায় বিশ-পঁচিশ হাজার। এক মিনিটে কি আসলে ইংরেজি আসলে শেখা যায়—এমন প্রশ্নে মীম বললেন, ‘তা অবশ্য না, তবে শুরুর দিকে আমি নির্দিষ্ট টপিকে ছোটছোট ভিডিও বানাতাম, যেগুলোর দৈর্ঘ্য এক মিনিটের মতো হতো। আমার মাথায় তখন আইডিয়া আসলো ওয়ান মিনিট ইংলিশ উইথ মীম নামটা ব্যতিক্রমী মনে হচ্ছে, এটি দিয়ে নিয়মিত কন্টেন্ট বানাতে পারি।’
তবে নাম ওয়ান মিনিট ইংলিশ হলেও এখানে পড়ালেখা এক মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। টপিক এবং শিক্ষার্থীদের বোঝানোর আলোকে কখনো কখনো সে ভিডিওগুলো দশ মিনিট থেকে আধা ঘন্টাও দীর্ঘ হচ্ছে।
মীম রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে ইংরেজি বিভাগে পড়ালেখা করছেন। তার মতে, ‘ইংরেজিতে আমাদের সবার মাঝে একটা ভীতি কাজ করে, কথা বলতে গিয়ে আমরা খুব নার্ভাস হয়ে যাই, ফলে আমরা নিজের জানাটুকুও ঠিকমতো উপস্থাপন করতে পারি না। আমি চাইছি এই ভীতি দূর করে সহজে ইংরেজি শেখার ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে। সেজন্য আমি প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি গ্রামারের জটিলতা ছাড়াই সহজে ইংরেজি শেখাতে। আমাদের আশপাশের বিষয়বস্তু দিয়ে উদাহরণ হিসেবে বুঝাই যাতে সহজে দর্শকরা শিখতে পারে।’
ওয়ান মিনিট ইংলিশ উইথ মীম নিয়ে ভবিষ্যতে পরিকল্পনা জানতে চাইলে মীম বলেন, ‘যেহেতু ভার্চুয়ালি প্ল্যাটফর্মটি বড় হচ্ছে, প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, তাই ভবিষ্যতে এটিকে বাস্তব একটি প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে চাই।’ আর শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান এই তরুণী।