

গ্রেট বৃটেন ডেস্কঃ
ব্রিটেন আগতরা এখন নিজে নিজেই তাদের বায়োমেট্রিক ডাটা অর্থাৎ আঙুলের ছাপ, মুখের ছবি ঘরে বসেই আপলোড করতে পারবেন। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ যাতে ভিজিটরদের ফরেনসিক আইডেন্টিটি বা আদ্যোপান্ত পরিচয় কম সময়ের মধ্যে সনাক্ত করতে পারে, সেজন্য হোম অফিস তাদের বহুদিনের পরিকল্পনাকে এবার বাস্তবে রূপ দিতে যাচ্ছে। নতুন এই সিস্টেম কার্যকর করার একটি রূপরেখা এরই মধ্যে ঘোষনা করেছে হোম অফিস।
ব্রিটেন সফরের আগেই ভিসা লাভকারীদেরকে ‘বায়োমেট্রিক সেল্ফ-এনরোলমেন্ট’ অর্থাৎ নিজে নিজেই নিজের বায়োমেট্রিক ডাটা (ছবি, আঙ্গুলের ছাপ) আপলোড করার সুযোগ দেয়ার একটি সম্ভাব্যতা পরীক্ষা খুব শিগগিরই করতে যাচ্ছে হোম অফিস। বায়োমেট্রিক ডাটা কতটা সহজে ও কার্যকরভাবে ধারন করা যায়, তা-ই পরীক্ষা করে দেখা হবে এই পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে। ইমিগ্রেশন এপ্লিকেশনগুলোতে ব্যবহারের জন্য যে বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়াগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তা আরো উন্নত করাই নতুন এই পদ্ধতির মূল লক্ষ্য – এমনটাই বলছে হোম অফিস।
পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগে যারা অংশ নিচ্ছে, তাদের জ্ঞাতার্থে প্রদত্ত প্রাইভেসি নোটিশে ইউকের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বলছে, এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো যুক্তরাজ্যে আগত সকল ভিজিটর ও ইমিগ্রেন্টদেরকে তাদের বায়োমেট্রিক ফেসিয়াল ইমেজ ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রদানের মাধ্যমে একটি একক বৈশ্বিক ইমিগ্রেশন পদ্ধতি গড়ে তোলা।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন থেকে ইউকে চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে আসার পর যুক্তরাজ্যে আসতে আগ্রহী যারা ভিসা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস প্রক্রিয়া যেতে চায়না, তাদের জন্য একটি ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) চালুর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ২৬টি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র থেকে আগত লোকজন এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। তবে আইরিশ নাগরিকরা এখনো অবাধে এদেশে ভ্রমণ করতে পারে। এটা অনেকটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা-মওকুফ কর্মসূচি ইএসটিএ এর অনুরূপ। আমেরিকার মত যদি ব্রিটেনও এই ইটিএ চালু করে, তাহলে বছরে ৩০ মিলিয়ন লোকের বায়োমেট্রিক তথ্য ডিজিটালি সংগ্রহ করবে।
গত জুলাই মাসে হাউজ অব কমন্সে উত্থাপিত ন্যাশনালিটি এন্ড বর্ডারস্ বিল, যা এখন কমিটি স্ক্রুটিনি করছে, সেখানে এয়ারলাইন্স এবং প্যাসেঞ্জার শিপিং লাইনস্কে প্রয়োজন অনুযায়ি ইটিএ মঞ্জুর করার মূল দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং তারা যদি এক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তবে তাদেরকে জরিমানা করার বিষয়টি বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে যে, ডিজিটাল ভিসা স্কিমের আইনী বাস্তবায়ন সক্ষম করতে শিগগিরই সেকেন্ডারি আইন প্রবর্তন করবে সরকার।
যারা এই পরীক্ষামূলক স্কীমে অংশ নিচ্ছে, তাদের ডাটা ১৭টি সরবরাহকারী ও ৯ টি উপ-সরবরাহকারী কোম্পানীর এক বা একাধিকের সাথে শেয়ার করা হবে। তবে সকল তথ্য হোম অফিস সর্বোচ্চ ৬ বছর পর্যন্ত পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষণ করবে। সকল সাপ্লায়ারকেও হোম অফিসের সাথে আইনগতভাবে প্রয়োগযোগ্য অপ্রকাশ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে হয়েছে। অর্থাৎ কোন অবস্থাতেই কারো ব্যক্তিগত তথ্য কেউ প্রকাশ করতে পারবে না।