বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশি ‘টিম মহাকাশ’

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্কঃ 

Manual3 Ad Code

দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের ১৬২টি দেশের ৪৫৩৪টি দলকে হারিয়ে নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২১-এর বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ‘নাসা বেস্ট মিশন কনসেপ্ট’ ক্যাটাগরিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের খুলনা থেকে চ্যাম্পিয়ন হিসাবে নাসাতে মনোনয়ন পাওয়া দল ‘টিম মহাকাশ’।

Manual2 Ad Code

 

Manual8 Ad Code

 

টিম মহাকাশের উদ্ভাবিত টুলস ‘ARSS-Advanced Regolith Sampler System’ মূলত মহাকাশচারীরা ভিন গ্রহের পৃষ্ঠে অভিযানের সময় মুক্তভাবে উড়তে থাকা ধূলিকণা নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে পারবে। চাঁদে বিগত মানব মিশনগুলোতে মহাকাশচারীরা পৃষ্ঠতলে উপস্থিত ধূলিকণার মধ্যে কাজ করতে সমস্যার সম্মুখীন হয় বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। কম গ্রাভিটিতে মূলত ধূলিকণাগুলো সহজেই উৎক্ষিপ্ত হয়ে ভাসতে থাকে, ফলে নমুনা সংগ্রহ করতে কষ্ট হতো মহাকাশচারীদের, একই সঙ্গে মহাজাগতিক রেডিয়েশনের কারণে আয়নিত হওয়ায় তা স্পেসস্যুট-এর গায়ে লেগে থেকে স্যুট ড্যামেজ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করত। টিম মহাকাশ এই সমস্যার কার্যকর একটি সমাধান বের করে একটি টুলসেট উদ্ভাবন করে যেটি এই ধুলিকণাগুলোকে আবদ্ধ চেম্বারে আটকে ফেলে এবং ধূলিকণাগুলোকে ভেসে থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে দেয় না।

এ বিজয়ে উচ্ছ্বাসিত টিম মহাকাশের দলনেতা সুমিত চন্দ্র যুগান্তরকে বলেন, ‘নিজের দেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারাটা সবসময় গর্বের। আমরা এমন একটা সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করেছি যেটা নিয়ে নাসাসহ পৃথিবীর বড় বড় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এখনো গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা চাইলেই পৃথিবীর বড় বড় সমস্যার সমাধান বের করে ফেলতে পারে সেটা আবারও দেখিয়ে দিয়েছি আমরা। গত বছর থেকে আমরা এ প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি যার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান বেসিসের। লক্ষ্য অর্জন করার জন্য প্রত্যক্ষ মেন্টরশীপের মাধ্যমে তারা আমাদের সহায়তা করেছে সবসময়। এ অর্জনের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ পাশাপাশি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক, সম্মানিত মেন্টর অভিজিৎ ভৌমিক স্যার এবং সিনিয়রদের কাছে ঋণী কেননা তারাই আমাদের শিখিয়েছে সমস্যা ধরে এগিয়ে গিয়ে কিভাবে দক্ষতা কাজে লাগিয়ে সমাধান করতে হয়। নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২১তে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

পলক বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মিত হচ্ছে আমাদের তরুণদের হাত ধরে। তরুণদের নিয়ে গড়া খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) সম্মিলিত টিম মহাকাশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করেছে। বাংলাদেশে বেসিস, বেসিস স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে এ আয়োজন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের দল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আমি টিম মহাকাশকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এ অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার আরেকটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার এবারের আসরে বাংলাদেশ থেকে আট শতাধিক প্রকল্প জমা পড়েছিল। অসম্পূর্ণ প্রকল্প বাতিল করার পর যাচাই-বাছাই শেষে ১২৫টি প্রকল্পের প্রতিনিধিরা ৪৮ ঘণ্টাব্যাপী হ্যাকাথনে অংশ নেয় এবং সেরা ২৭টি প্রকল্প নাসার জন্য বাংলাদেশ থেকে মনোনীত করা হয়। বাংলাদেশের ৯টি শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং কুমিল্লা) এর আয়োজন হয়।

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code