নিউজ ডেস্কঃ একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন রুপ। প্রতিশ্রুতি গোটা বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের তথ্য আর বিনোদনের চাহিদা পূরণের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে ১৬ ডিসেম্বর লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট হোটেলের বলরুম যেন সেই ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে রইলো। যা কিছু চাই,সব একই পর্দায় এই শ্লোগান নিয়ে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে যাত্রা শুরু করলো আইবিটিভি।
এ যেন আইবিটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মাসুদের দীর্ঘ দিনের লালিত একটি স্বপ্নের কাঙ্খিত বাস্তবরুপ। বাংলাদেশের জাতীয় এবং অ্যামেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সেই স্বপ্নের যাত্রা। সাপ্তাহিক আজকাল এবং কালারস ম্যাগাজিন যেমন জনপ্রিয়তার শীর্ষে তেমনি আইবিটিভিকে সেই শীর্ষ স্থানে পৌঁছানোর অঙ্গীকার করলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মাসুদ এবং চেয়ারপারসন মিলা হোসেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষার অন্যতম কথা সাহিত্যিক, সাহিত্য সমালোচক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক মনজুর আহমদ, আইবিটিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সাপ্তাহিক আজকালএর সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ, আইটিভির চেয়ারপারসন মিলা হোসেন এবং আইবিটিভির হেড অব নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়াসর্ নূপুর চৌধুরী।
উদ্বোধনী বক্তৃতায় শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তীতে নতুন এই যাত্রা নি:সন্দেহে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি মেলে ধরে বিশেষ একজায়গা দখল করে নিবে আইবিটিভি ।
সাপ্তাহিক আজকালের প্রধান সম্পাদক মনজুর আহমদ বলেন, ক্রমবর্মান বাঙ্গালীদের চাহিদা এবং স্বপ্ন পূরণে আইবিটিভি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাপ্তাহিক আজকাল যে কাজটি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
আইবিটিভি‘র চেয়ারপারসন মিলা হোসেন শুভ নতুন এই যাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন। স্বপ্নের এই বাস্তবায়নে দুইজনের স্বপ্ন মিলে গেছে বলেও জানান চেয়ারপারসন।
বিজয়ের ৫০ বছরে আইবিটিভির সম্প্রচার শুরু হচ্ছে। অ্যামেরিকাসহ গোটা বিশ্বে আইবিটিকে জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মাসুদ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।সবার মতামত নিয়ে সুস্থধারার একটি চ্যানেল প্রতিষ্ঠিত করার আশ্বাস দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
আইবিটিভি‘র যাত্রালগ্নে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, শ ম রেজাউল করিম, সাংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবু, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আখতার হোসেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতেমা। এছাড় াকংগ্রেস ওম্যান গ্রেস মেং, স্টেট সেনেটর জন লু, জেসি কারামোস, কুইন্স কাউন্টি জাজ সোমা সাঈদ, সিটি কাউন্সিল মেম্বর শাহানা হানিফ।
২য় পর্বে শুরু হয় সাংস্কৃতিক এবং আইবিটিভির পরিচিতি অনুষ্ঠান। এইসময় আইবিটিভি এবং আজকালের হেড অব কমাশিয়াল আবুবক্কর সিদ্দিক সবার সহযোগিতা নিয়ে আজকাল যেমন শীর্ষে অবস্থান করছে আইবিটিভিকেও তেমনি শীর্ষে পৌঁছাতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সহযোগিতার হাত প্রথম দিনেই বাড়িয়ে দেন কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা। মূলধারার রাজনীতিবিদরা অনেকে শুভেচ্ছা জানান আইবিটিভিকে। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ-অ্যামেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন বাপা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, লায়ন্স ক্লাব ও অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা। স্টেট সেনেটর জন লু এবং কুইন্স কাউন্টি জাজ সোমা সাঈদ এই সময় আইবিটিভিকে শুভেচ্ছা জানান।
সংগীত পরিবেশ করেন কিংবদন্তী সংগীত শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, তপন চৌধুরী, শফী মন্ডল, তাজুল ইমাম, সুলতানা লায়লা, কাবেরী দাশ, জোহরা আলীম, চন্দ্রা রায়, শিমুল খান, নামীরা প্রিয়দর্শনী, চন্দন চৌধুরী, লেমন চৌধুরী, কামরুজ্জামান বকুল, শামীম সিদ্দিকী, শাহ মাহবুব, কৃষ্ণা তিথি, শেখ নীলিমা শশী, রোকসানা মির্জা, তৃণিয়া হাসান। নাচ পরিবেশন করে নৃত্যাঞ্জলির শিল্পীরা। একটি বিশেষ পর্বে অংশ নেন বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক নয় বছর বয়সী সুবর্ণ আইজ্যাক। অনুষ্ঠান পরিচালনায় নূপুর চৌধুরীর সাথে আরো ছিলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় উপস্থাপক দেবাশীষ বিশ্বাস এবং সাজু খাদেম।
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আইবিটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান গোলাম সারওয়ার হারুন, উর্বা মুখাজী, তন্দ্রা দাশ এবং এ আর সুমন। অ্যামেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে মাটি।
অভিষেক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা এবং তত্বাবধানে ছিলেন আইবিটিভির অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান গোলাম সারোয়ার হারুন, সাপ্তাহিক আজকালের হাসানুজ্জামান সাকী এবং আইবিটিভি ইউএসএর বার্তা প্রধান নূপুর চৌধুরী। এছাড়াও সহায়তা করেন হাসান মাহমুদ, ফাহমিদা লিনা, মোহসিন আবীর, এনাম চৌধুরী, মইনুল হাসান সজল ইশতিয়াক ফিরোজ ইফাত, মোহাম্মদ এন গণি নজরুলসহ আজকাল এবং আইবিটিভি পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।
