নিউজ ডেস্কঃ দখল করে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপে এবং ইউক্রেইনের কাছে সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে রাশিয়া কীভাবে শক্তি বাড়িয়েছে তা ধরা পড়েছে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান স্যাটেলাইটে এই ছবি তুলেছে। এই শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রাশিয়া নিরাপত্তা ইস্যুতে নিশ্চয়তা চেয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ম্যাক্সার টেকনোলজিসের ঐ স্যাটেলাইট ছবি নিরপেক্ষ সূত্রে যাচাই করা যায়নি।
ক্রেমলিন শুক্রবার তাদের পুরোনো কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে যে কোনো জায়গাকে ঠিক মনে করলে সেখানে নিজেদের সেনা মোতায়েনের অধিকার তাদের রয়েছে। আর পশ্চিমা দেশগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ও ইউক্রেনের নেতারা এর আগে অভিযোগ করে বলেছিলেন, এপ্রিলে স্বল্প পরিসরে সেনা সমাবেশের পর রাশিয়া আবার গত অক্টোবর থেকে ইউক্রেইন সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে। এপ্রিলেও মাক্সার টেকনেলোজিতে ওঠা ছবি প্রকাশ পেয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও অন্যান্য পশ্চিমা নেতাদের অভিযোগ, মস্কো ইউক্রেইনে আগামী মাসেই হামলা চালাতে পারে। তবে এমন অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে মস্কো।
শনিবার রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা এক খবরে বলেছে, ১০ হাজারের বেশি রুশ সেনা ইউক্রেইনের কাছে মাসব্যাপী মহড়া শেষ করে তাদের স্থায়ী ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। ইন্টারফ্যাক্স জানায়, ক্রিমিয়াসহ ইউক্রেইনের কাছে কয়েকটি অঞ্চলে মহড়া চালানো হয়েছিল। এছাড়া, রাশিয়ার দক্ষিণ অঞ্চল রোস্তোভ এবং কুবানেও মহড়া হয়েছে।
ইউক্রেইনের উত্তর, পূর্ব এবং দক্ষিণে রাশিয়ার এই হাজার হাজার সেনা মোতায়েন নিয়েই এ কয়েক দিনে কিয়েভ এবং পশ্চিমা দেশগুলো আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। মস্কো ইউক্রেইনে হামলা পরিকল্পনা করছে বলে আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যায়, ২০১৪ সালে ইউক্রেইনের কাছ থেকে রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপে গত ১৩ ডিসেম্বর শত শত সশস্ত্র গাড়ি ও ট্যাংক টহল দিতে দেখা গেছে। অথচ অক্টোবরেই তোলা স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, ঐ একই ঘাঁটির অর্ধেক ফাঁকা। ম্যাক্সার বলছে, ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার ঐ ঘাঁটিতে সামরিক যান, ট্যাংক, স্বচালিত কামান, বিমান প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।
এক বিবৃতিতে ম্যাক্সার বলেছে, গত মাসে তাদের স্যাটেলাইটে দেখা গেছে, ক্রিমিয়ায় নতুন রুশ সেনা মোতায়েন হয়েছে। ইউক্রেইন সীমান্তে রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে বেশ কয়েকটি সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। ম্যাক্সার আরো জানায়, ক্রিমিয়ার তিনটি এলাকায় ও রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি এলাকায় সামরিক কর্মকাণ্ড বেড়েছে।
