

বিশেষ প্রতিবেদন: বিশ্ব চরম খাদ্য সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাই এই সাবধানবার্তা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে খাদ্যপণ্যের দাম। এই খাদ্যপণ্যের জোগান দিতে দেশে দেশে ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও দেশের অর্থনীতি খানিকটা বেসামাল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশেও ডলারের দাপট শুরু হয়েছে। দাম বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী ডলার মিলছে না। ফলে একদিকে কমছে টাকার মান। অন্যদিকে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাড়ছে পণ্যের দাম। এতে মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে চিড়ে চ্যাপ্টা হচ্ছে মানুষ। তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বের এই অর্থনৈতিক সংকটকালেও বাংলাদেশের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো আছে। এর প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে ডলারের দামের সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানে।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের তুলনায় ভারত, চীন ও পাকিস্তানে ডলারের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। এমনকি যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় অর্থনীতির দেশেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণ। ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণে দুনিয়াজুড়ে স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশেও তিন শতাংশের মতো অবমূল্যায়ন হয়েছে টাকা। অর্থনীতিবিদদের অনেকে এ নিয়ে সমালোচনাও করছেন।
তবে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব অর্থনীতিতে ইতিবাচকভাবে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ডলারের দাম বেশি হওয়ায় আমদানি কিছুটা নিরুৎসাহিত হবে। এছাড়া রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে। সে সুবাদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতসহ পৃথিবীর সবদেশই তাদের মুদ্রার ব্যাপক অবমূল্যায়ন করছে। এখন আমরা যদি না করতাম, তাহলে প্রতিযোগিতা থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তাম। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই টাকার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।