

সম্পাদকীয়: ছুটির দিনে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার। এর মধ্যে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। এ কারণে ৮০ টাকা লিটারের ডিজেল এখন ১১৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আশ্চর্যজনক হলো, মাত্র নয় মাস আগে অর্থাৎ গত বছরের ৩ নভেম্বর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করেছিল সরকার। সে সময় ২৬ শতাংশ হারে ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও এবার এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি ঘটেছে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডিজেলের দাম। বিষয়টি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে অর্থনীতির সব সূচকে বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে, তা বলাই বাহুল্য। যখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে, ঠিক সে সময় এর মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠেছে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্তের কথা বলা হচ্ছে। অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল থেকে ঋণ পেতেই সরকার তাদের শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়েছে।
তবে ভুলে গেলে চলবে না, জ্বালানি এমন একটি পণ্য-যার মূল্য বাড়লে সবকিছুর দামই বেড়ে যায়। কাজেই এর প্রভাবে অনিবার্যভাবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। পণ্যের উৎপাদন ব্যয় ও বিপণন খরচ বেড়ে যাবে। বাড়তি দামে পণ্য উৎপাদন করে আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পারলে কৃষক বা উদ্যোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এ প্রেক্ষিতে তারা উৎপাদন কমিয়ে দিলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকট দেখা দেবে এবং এতে বাজার অস্থির হয়ে উঠবে, যা মোটেই কাম্য নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না এ বাস্তবতা সামনে রেখে জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের যথেষ্ট সতর্ক থাকা উচিত ছিল; কারণ, দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে পেট্রোল ও অকটেনের প্রভাব অনেক কম হলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় সর্বক্ষেত্রে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। অথচ উদ্বেগজনক হলো, এক্ষেত্রে সরকারের মধ্যে কোনো সতর্কভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না।