অভিনব পদ্ধতিতে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী পদক্ষেপ কাম্য নয়

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual4 Ad Code

সম্পাদকীয়: অভিনব পদ্ধতিতে খুচরা বাজারে ওষুধের দাম বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে মুঠোফোনে ফার্মেসি মালিকদের কাছে খুদে বার্তা প্রেরণ করে খেয়ালখুশিমতো ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আশ্চর্যজনক হলো, প্রায় এক বছর যাবৎ একাধিক প্রতিষ্ঠান বিপণন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এভাবে অবৈধ পন্থায় দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকলেও সরকারের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এর কিছুই জানে না বলে জানিয়েছে। তাদের এমন যুক্তি হাস্যকর।

Manual3 Ad Code

কোনো ওষুধ বাজারে চলে যাওয়ার পর মুঠোফোনে খুদে বার্তা প্রেরণ করে সেটির দাম বাড়ানোর এখতিয়ার কোনো কোম্পানির নেই; দাম বাড়ানোর আগে অবশ্যই অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে।

গত বছরের ৩০ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির ৫৮তম সভায় ‘প্রাইস ফিক্সেশন পলিসি’ অনুসারে ২০টি জেনেরিকের ৫৩টি ওষুধের পুনর্র্নিধারিত দাম অনুমোদন করেছিল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

Manual2 Ad Code

দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে তখন ওষুধের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বছর না গড়াতেই সেই একই খোঁড়া যুক্তি সামনে এনে গোপনে মুঠোফোনে খুদে বার্তা প্রেরণ করে মূল্যবৃদ্ধির খেলায় মেতে ওঠা অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ড, যা শক্ত হাতে রোধ করা প্রয়োজন।

Manual8 Ad Code

উদ্বেগজনক হলো, বর্তমানে একজন রোগীর মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশই ওষুধ ক্রয়ে খরচ হচ্ছে। এমন বিপর্যয়মূলক স্বাস্থ্য ব্যয়ের কারণে বছরে অন্তত ৮৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, গত বছরের মে মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩০ শতাংশ; পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ক্রমাগতভাবে যার উল্লম্ফন ঘটেছে। বস্তুত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতির প্রভাব নিুআয়ের মানুষকে চরম দুরবস্থায় নিপতিত করেছে। এমনিতেই করোনার কশাঘাতে চাকরিহারা, বেকার ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া জনগোষ্ঠী দৈনন্দিন খরচের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code