

ডেস্ক রিপোর্ট: পৃথিবী যতই এগিয়ে যাচ্ছে নানারকম ফিতনা ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। পরিস্থিতি এতই বিপদসংকুল যে, ঈমানের উপর অবিচল থাকা জলন্ত অঙ্গার হাতের রাখার চেয়েও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা আর অরাজকতা সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েই চলছে। অনিয়মই হয়ে যাচ্ছে নিয়ম। ধর্মভীরুতা হয়ে যাচ্ছে আনস্মার্টনেস। কঠিন কবিরা গুনাহের কাজগুলো হয়ে যাচ্ছে প্রগতিশীলতা। আর সর্বত্রই চলছে সুদ, ঘুষ, চুরি, ডাকাতি, আর গিবতের এক ভয়াবহ মহড়া।
ফিতনায় পড়ার কারণ:- দ্বীন সম্পর্কে সঠিক বুঝ না থাকায় অনেকই এসব ফিতনায় জড়িয়ে যাচ্ছে। প্রবৃত্তির অনুসরণ করে নিজেদের দুনিয়া আখেরাত উভয়টাকেই বরবাদ করে দিচ্ছে। আবার অনেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া সবধরনের মানুষের কথা আমলে নিয়ে, সবধরনের সংবাদে কান দিয়ে ফিতনার সহজ শিকারে পরিণত হচ্ছে।
ফিতনা থেকে মুক্তি পেতে করণীয়:
ফিতনা থেকে মুক্তি পেতে জনসাধারণের যেমন কিছু করণীয় আছে, তেমনি আছে আলেমসমাজেরও কিছু করণীয়। জনসাধারণের কর্তব্য হচ্ছে, অহং ও শৈথিল্য বর্জন করে সঠিক দ্বীনী ইলমের অন্বেষণ ও অনুসরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাওয়া এবং দ্বীনী ইলমে পারদর্শী মুত্তাকী ব্যক্তিত্বের সন্ধানে প্রবৃত্ত হওয়া।
উলামায়ে কেরামের সাহচর্যের মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক ইলম অর্জন করে সে অনুযায়ী জীবন ও কর্মকে সজ্জিত করার চেষ্টা করা।
আর উলামায়ে কেরামের করণীয় হচ্ছে, এসব মানুষদের দ্বীনের পথে উঠিয়ে আনার জন্য প্রাণান্ত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা, যেকোনো দ্বীনি মজলিসে স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে মানুষের মধ্যে দ্বীনি চেতনা আর ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টি করার পাশাপাশি ফিতনার ব্যাপারে অবহিত করা।
ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যম:
১- কুরআন সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা। কুরআন এবং সুন্নাহর বিধানকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করা। কারণ যে ব্যাক্তি কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে সে কখনো গোমরাহ হবে না।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুই বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ তা ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তার নবীর সুন্নত।’ ( মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস : ৩১৯)
২- বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিহার করা, কারণ বিচ্ছিন্নতাবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের নির্দেশনা হচ্ছে সমাজবদ্ধ থাকা এবং মুসলিমদের জামাত আঁকড়ে ধরা। যারাই সঠিক দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে তারাই খুব সহজে ফিতনায় পড়ে যাবে।