গরুর মাংসের দাম নাগালে থাকছে না

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

বিশেষ প্রতিবেদন: সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে গরুর মাংস প্রতিকেজি
৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়।
পবিত্র মাহে রমজানের আগেই গরুর মাংসের এই বাড়তি দাম কেন, তার
সদুত্তর দিতে পারেননি কোনও বিক্রেতা। তবে বাড়তি দামে গরুর মাংস
বিক্রির নানা অজুহাত দিয়ে যাচ্ছেন তারা।
গতকাল বুধবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গরুর মাংসের মূল্য
বৃদ্ধির নানা কারণ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গরুর মাংস
বিক্রির বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য জানা গেছে। কোনও সিন্ডিকেট নয়, গরু
কেনার ওপরেই নির্ধারণ হয় মাংসের দাম। অনেকে বলছেন, গরুর মাংস
বিক্রেতারা মিলেই এক দামে মাংস বিক্রি করেন। আবার কেউ কেউ বলছেন,
কত টাকা দরে মাংস বিক্রি করা হবে, তা নির্ধারণ হয় পেছনের কারও
দ্বারা। আর অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না চললে ভবিষ্যতে
বিপদে পড়তে হবে, সেই শঙ্কা আর লোভেই বেড়ে যায় গরুর মাংসের দাম।

Manual5 Ad Code

বাজারে গরুর অভাব না থাকার পরও মাংসের দাম বেড়েছে কেন, জানতে চাইলে
রায় সাহেব বাজারের মাংস বিক্রেতা মনোয়ার হোসেন মনা একটু উত্তেজিত
হয়ে বলেন, দাম কেন বাড়লো, এ প্রশ্ন আমাকে জিজ্ঞেস না করে শেখ
হাসিনাকে (প্রধানমন্ত্রী) জিজ্ঞেস করেন। ২০ থেকে ৩০ টাকা পেঁয়াজের
দাম যখন ২০০ থেকে ২৫০ হইছে, সেখানে মানুষ কিছু বলে না। মানুষ শুধু
মাংসের দাম নিয়ে কথা বলে। মাংস না খাইলেও তো চলে, কিন্তু দৈনন্দিন
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া তো চলে কি?
নিউ মার্কেট কাঁচা বাজারের মাংসের দোকানদার জিয়া উদ্দিন বলেন, গরুর
মাংসে দাম বাড়ছে। আগের চেয়ে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় আমরা এক সপ্তাহ

Manual4 Ad Code

আগেও ৬৫০ টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু এখন গরু অনেক বেশি দাম দিয়ে
কিনতে হচ্ছে। তাই দাম বেড়েছে মাংসের।

‘আমাদের যদি গরু বেশি দামে কিনতে হয়, তাহলে দাম বাড়বে।’ রমজান মাসে
গরুর মাংসের দাম আর বাড়ার আশঙ্কা আছে কিনা, এমন প্রশ্নে বলেন, যদি
কম দামে কিনতে পারি তাহলে কেন বাড়াবো?

Manual4 Ad Code

নাজিরাবাজারের মাংস বিক্রেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, গরু কিনতে
হচ্ছে বেশি দামে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। আগে গরুর দাম কম
ছিল, তাই কম দামে বিক্রি করেছি।

Manual2 Ad Code

কলতাবাজার এলাকায় কলিজা, ফুসফুসসহ এক কেজি গরুর মাংস ৬০০ টাকা
বিক্রি করা হয়। তবে এক কেজিতে কলিজা-ফুসফুস ও হাড়ের পরিমাণ থাকে
প্রায় ৪৫০ গ্রাম।

হঠাৎ গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধিতে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা। রায়
সাহেব বাজারে মাংস কিনতে আসা তানজিম হাসান বলেন, বাসায় মেহমান
এসেছে, তাই গরুর মাংস কিনতে এসেছি। কিছু দিন আগে শুনেছি রায় সাহেব
বাজারে মাংসের দাম ৬০০ টাকা। এখন এসে দেখি ৭০০ টাকা। দাম বেশি কেন
জিজ্ঞেস করলে দোকানদার রেগে গিয়ে বলে, ‘কিনলে কিনেন, না কিনলে যান,
এত কথা কীসের? আমাদের খরচ বেশি, তাই আমরা বেশি দামে বিক্রি
করতেছি।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code