অপচয় রোধ করা প্রয়োজন - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, রাত ৯:২০, ১২ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

অপচয় রোধ করা প্রয়োজন

editorbd
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৪
অপচয় রোধ করা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়: দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থার বিষয়টি
বহুল আলোচিত। কোনো প্রকল্প অনুমোদনের আগে যেমন যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা
করা দরকার, তেমনি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টি
নিশ্চিত করা উচিত। তা না হলে সেই প্রকল্প জনস্বার্থে কাজে আসে না। যেমনটা
হয়েছে ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে।

সাধারণত ৫০ থেকে ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কে এক্সপ্রেসওয়ে করা হয়। অথচ
পূর্বাচল সড়কে এক্সপ্রেসওয়ে করা হয়েছে মাত্র ১২ কিলোমিটার সড়কে, যার দুই
প্রান্তে রয়েছে আবার সরু সড়কও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অদূরদর্শী এমন পরিকল্পনায়
সরকারের ক্ষতি হয়েছে অন্তত ৫২৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ ৭৬৪ কোটি টাকায় তৈরি ওই সড়ক রাজধানীর সড়কের আদলে নির্মাণ করলে
খরচ হতো সর্বোচ্চ ২৪০ কোটি টাকা। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, তড়িঘড়ি নির্মাণ
করা রাজউকের এ এক্সপ্রেসওয়ে চলতি বছরের মাঝামাঝিতে মেট্রোরেল-১-এর
নির্মাণকাজের কারণে আবার ভাঙতে হবে। সেটি হলে অতিরিক্ত খরচে নির্মিত এই
এক্সপ্রেসওয়ের অপচয়ের হিসাব আরও বাড়বে।

জানা যায়, পূর্বাচল সড়কের সংস্কার ও আধুনিকায়নের নামে ২০১৩ সালে সেখানে ৩০০
কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ লেনের সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৫ সালে ব্যয় বাড়িয়ে
৪২৪ কোটি টাকায় নির্মাণকাজ শেষ করা হয়। এর তিন বছর পর কুড়িল-পূর্বাচল লিংক
রোডের উভয় পাশে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন এবং উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়
পূর্বাচল সড়ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়।

ওই প্রকল্পে পূর্বাচলের নতুন সড়ক ভেঙে ৭৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এক্সপ্রেসওয়ে
নির্মাণ করা হয়। এখন এ সড়ক মেট্রোরেলের কাজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে
রাজউককে আবারও প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে; তখন নানা অনুষঙ্গ যুক্ত করে মোট
ব্যয় দাঁড়াতে পারে হাজার কোটি টাকা।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।