গাজার আরো একটি স্কুলে বোমা মেরেছে ইসরাইল - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, দুপুর ১২:০৯, ২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

গাজার আরো একটি স্কুলে বোমা মেরেছে ইসরাইল

editorbd
প্রকাশিত জুন ৮, ২০২৪
গাজার আরো একটি স্কুলে বোমা মেরেছে ইসরাইল

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসরাইলি সেনাবাহিনী শুক্রবার কেন্দ্রীয় গাজা উপত্যকায় তার আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে। তারা বলেছে যে, তারা কয়েক ডজন কর্মীকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে কয়েকজনসহ যারা এ অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরিত জাতিসংঘের একটি সাবেক স্কুল ভবনে ব্যারিকেড দিয়েছিলেন। সেনাবাহিনী বলছে, তারা মধ্য গাজা শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা আল-শাতির একটি স্কুল কমপ্লেক্সে হামাস যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে। নিহতের সংখ্যা স্পষ্ট নয়। অভিযানের পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘হামাস পরিকল্পিতভাবে, ইচ্ছাকৃতভাবে এবং কৌশলগতভাবে তার অবকাঠামো স্থাপন করছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন এবং গাজার বেসামরিক মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে বেসামরিক এলাকার মধ্যে থেকে কাজ করছে’। শুক্রবারের আক্রমণটি নুসাইরাতের কাছাকাছি অনুরূপ একটি স্কুল কমপ্লেক্সে অভিযানের একদিন পরে হয়েছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক লোকেরা আশ্রয় নিয়েছিল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অভিযানে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। শুক্রবার ইসরাইল বৃহস্পতিবারের অভিযানের একটি দৃঢ় প্রতিরক্ষার প্রস্তাব দিয়ে বলেছে যে, তার বাহিনী ২০ থেকে ৩০ জন জঙ্গিকে টার্গেট করেছে যারা তাদের ভাষায় সাবেক বিদ্যালয়ের তিনটি শ্রেণীকক্ষ একটি ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করছিল। মধ্য গাজায় জাতিসংঘের কম্পাউন্ডে হামলা ইসরাইলের সেই অঞ্চলগুলোকে পুনরায় শান্ত করার কঠোর প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে যেখানে কর্মকর্তারা আগে বলেছিলেন যে, হামাসকে ব্যাপকভাবে দমন করা হয়েছে। এদিকে গাজা উপত্যকায় ১৫ হাজারের বেশি শিশু হত্যার অভিযোগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে শিশুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধীদের একটি বৈশ্বিক কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। গাজায় সশস্ত্র সংঘাতে শিশু হত্যার বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের বার্ষিক প্রতিবেদনে ইসরাইলকে তালিকায় রাখা হয়েছে, যা আগামী শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। একটি কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ছাড়াও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদকেও তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। গাজায় আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫ হাজার শিশুসহ সাড়ে ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ, সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের বিরুদ্ধে নিপীড়নকারী দেশগুলোর জাতিসংঘের বার্ষিক কালো তালিকাতে ইসরাইলকে যুক্ত করাকে স্বাগত জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে আলবেনিজ বলেন, শিশুদের অধিকার রক্ষা না করার বিষয়টি সত্যিই লজ্জাজনক। গাজায় ১৫ হাজারের বেশি শিশুকে হত্যা ও অসংখ্য আহত এবং ২০ হাজার শিশুকে এতিম করা উচিত ছিল না। গাজা যুদ্ধে ইসরাইল বাহিনী যেভাবে শিশুদের হত্যা করেছে তাতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসে যে পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন তা যথোপযুক্ত। এদিকে জাতিসংঘে এ পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরাইল। জাতিসংঘে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান তার অফিস থেকে একটি ভিডিও বার্তায় জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে আইডিএফকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিক সেনাবাহিনী’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একমাত্র যিনি আজ কালো তালিকাভুক্ত হয়েছেন তিনি হলেন মহাসচিব, যার সিদ্ধান্ত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এবং তার আগেও সন্ত্রাসীদের পুরস্কৃত করছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য শিশুদের ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে… তার জন্য লজ্জাজনক!’উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এদিন ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্ত দিয়ে ইসরাইলে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালায় হামাস যোদ্ধারা। পাশাপাশি ইসরাইল থেকে প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যায় হামাস।
তারপর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। পরে ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থল বাহিনীও। চার মাসের বেশি সময় ধরে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ৩৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭০ শতাংশেরও বেশি নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৮২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস, আলজাজিরা, সিএনএন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।