বিপুল ব্যয়ের ৭ মেগা প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়ন হবে - BANGLANEWSUS.COM
  • নিউইয়র্ক, বিকাল ৩:৫৯, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ


 

বিপুল ব্যয়ের ৭ মেগা প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়ন হবে

editorbd
প্রকাশিত জুলাই ১, ২০২৪
বিপুল ব্যয়ের ৭ মেগা প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়ন হবে

ডেস্ক রিপোর্ট: বিপুল ব্যয়ের নতুন ৭ মেগা প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) আসছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে মেট্রোরেল লাইন-২, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং কনস্ট্রাকশন অব আউটার রিংরোড প্রকল্প, ইমপ্রুভমেন্ট অব চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার, কমলাপুর মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ, কনস্ট্রাকশন অব বে-টার্মিনাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট। আগামী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) উন্নয়ন বাজেটে (এডিপি)এসবসহ চলমান ও নতুন মিলে ৭৯টি প্রকল্প যুক্ত করা হচ্ছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা দেশে পিপিপির অগ্রগতি এবং সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পিপিপির জন্য সরকার যথেষ্ট লজিস্টিক উন্নয়ন করেছে। পিপিপি আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, অফিস আছে এবং প্রয়োজনীয় জনবলও আছে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি হয়নি। এখনো উল্লেখযোগ্য সফল প্রকল্প বাস্তবায়নও হয়নি। এ ক্ষেত্রে পিপিপি কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও নির্ভরযোগ্য পার্টনার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বেসরকারি অংশ পেলেও সরকারের এবং তাদের কার কত অংশ হবে, এ নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। কারণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা চান কতটা সুবিধা সরকারের কাছ থেকে বের করে নেয়া যায়। এ মানসিকতার ফলে অনেক ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত আর প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে পারে না। পিপিপির প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে। এখানে পরিকল্পনা কমিশনের খুব বেশি ভূমিকা রাখার সুযোগ নেই। সূত্র জানায়, এডিপিতে যুক্ত হওয়া পিপিপি প্রকল্পের মধ্যে অনেকগুলোর কার্যক্রম বেশ এগিয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি প্রকল্প রয়েছে প্রকিউরমেন্ট (দরপত্র) পর্যায়ে। এ ছাড়া চুক্তি স্বাক্ষর-পরবর্তী শর্ত প্রতিপালনাধীন পর্যায় রয়েছে ৪টি, অপারেশনাল পর্যায়ে দুটি, বিস্তারিত সমীক্ষা চলছে ২৫টি, চুক্তি স্বাক্ষর পর্যায়ে রয়েছে ছয়টি প্রকল্প। আরো আছে নীতিগত অনুমোদন-পরবর্তী প্রাথমিক পর্যায়ে নয়টি, নির্মাণাধীন পর্যায়ে আটটি এবং পরামর্শক নিয়োগ পর্যায়ে ছয়টি প্রকল্প। মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল লাইন-২ রাজধানীর গাবতলী থেকে নিউমার্কেট-গুলিস্তান-কমলাপুর-সাইনবোর্ড হয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর পর্যন্ত সম্ভাব্য মেইন লাইন তৈরি করা হবে। এরপর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত ব্রাঞ্চ লাইন তৈরি করা হবে। সব মিলিয়ে উড়াল ও পাতাল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার মেট্রোরেল তৈরি হবে। ২৯ হাজার ৫৭১ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রকল্পটি নিয়ে বর্তমানে বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ চলছে। সূত্র আরো জানায়, ঢাকা ম্যাস রেপিড ট্রানজিট কোম্পানি (ডিএমটিসিএল) লিমিটেড পিপিপির অর্থ খোঁজার পাশাপাশি প্রকল্পে অর্থায়ন করতে বৈদেশিক ঋণেরও চেষ্টা চলছে। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর সেটি পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়। নীতিগত অনুমোদনের পর ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট প্রকল্পটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এটি নীতিগত অনুমোদন-পরবর্তী প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কনস্ট্রাকশন অব আউটার রিংরোড প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এটির বিস্তাারিত সমীক্ষা চলছে। ইমপ্রুভমেন্ট অব চট্টগ্রাম টু কক্সবাজার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। এটির বিস্তারিত সমীক্ষা চলমান রয়েছে। কমলাপুর মাল্টিমোডাল হাব নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ২২ হাজার ৫৭ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে পরামর্শক নিয়োগ পর্যায়ে আছে। কনস্ট্রাকশন অব বে-টার্মিনাল প্রকল্পটির ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। এটির জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা চলমান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্টটি বাÍবায়নে ব্যয় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। এটি নীতিগত অনুমোদন-পরবর্তী প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। মেগা প্রকল্পের বাইরে পিপিপির আরো কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হচ্ছে- মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা। এটি নির্মাণে বিস্তারিত সমীক্ষা চলমান। গাবতলী-সাভার-নবীনগর চার লেন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। এটির জন্য বিস্তারিত সমীক্ষা চলমান। ঢাকা (জয়দেবপুর)-ময়মনসিংহ হাইওয়েতে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। এটির জন্য পরামর্শক নিয়োগ পর্যায়ে রয়েছে। হাতিরঝিল-রামপুরা-বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-আমুলিয়া-ডেমরা হাইওয়ে সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, এটির ব্যয় হবে ২ হাজার ২১৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চুক্তি স্বাক্ষর-পরবর্তী শর্ত প্রতিপালনাধীন পর্যায়ে আছে।

সুত্র:এফএনএস ডটকম

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।