

ডেস্ক রিপোর্ট: শিশুরা স্বাভাবিকভাবেই দুরন্ত হয়। কোনও একটি বিষয়ের উপর দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না তারা। ফলে পড়াশোনা হোক কিংবা অন্যান্য কাজ, শিশুকে বসিয়ে রাখাটাই যেন একটা চ্যালেঞ্জের কাজ হয়ে যায়। শিশুর মনোযোগ ও আত্নবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য কিছু কাজ করতে পারেন। সারাদিনের রুটিন করে দিন শিশুকে। কখন ঘুম থেকে উঠবে, কতক্ষণ পড়বে,কত সময় ধরে খেলবে সেটা ঠিক করুন। ঠিক কতক্ষণ টিভি দেখবে তারও সময় থাকা জরুরি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে পড়াবেন না। বিরতি দিন।
রুটিন করলেও কড়া নিয়মের বেড়াজালে বাঁধবেন না। শিশুকে নিজের মতোও কিছুটা সময় দিন। তাতে মনোযোগ বাড়বে।
লক্ষ্য স্থির করে দিন শিশুকে। শিশু কোন কাজে বেশি উৎসাহী তা খেয়াল করুন। পড়াশোনায় যদি দুর্বল হয়, তা হলে বোঝাতে হবে যে কাজ সে ভালোবাসে তা করতে হলে পড়াশোনা করা কতটা জরুরি। পড়াশোনার বাইরে সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দিন। যে কাজে বেশি পারদর্শী সেই দিক নিয়েও এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিন। শিশুর বয়স কত, তার উপরেও নির্ভর করবে তার মনোযোগ। ৪-৫ বছরের শিশু ও ৮-১০ বছরের শিশুর মনোযোগ এক হবে না। মনোযোগ বাড়াতে হবে অভ্যাসের মাধ্যমে।
রোজ অন্তত এক ঘণ্টা ছোটাছুটি করে খেলার জন্য বরাদ্দ করে দিন। এতে ঘাম ঝরবে। শরীরে এনডরফিন বেশি পরিমাণে নিঃসৃত হবে ও মনোযোগ বাড়বে। শিশুর হোমওয়ার্ক হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের ‘ব্রেন গেম’ খেলতে দিন। বিল্ডিং ব্লকস, পাজলস ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের খেলা আছে শিশুদের জন্য। স্মার্টফোনের বদলে এই ধরনের খেলা বা বই ওর হাতে তুলে দিলে মনোযোগ
অনেকটাই বাড়বে। একঘেয়েমিও কাটবে। শিশুর পড়াশোনার পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। শিশুর
পড়ার জন্য আলাদা জায়গা বা ঘর নির্দিষ্ট করে দিন। সেখানে যেন টিভি না চলে বা গ্যাজেট না থাকে। শিশু যখন পড়বে আপনিও পাশে থাকুন। তবে স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন না।