ঢাকা ডেস্ক
জামায়াত-শিবির কর্তৃক সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল বিষয়ক সম্পাদক ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি বিশ্বজিৎ নন্দীকে নির্যাতন ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ ও সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন ২৯ মে এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সারাদেশে বামপন্থী-প্রগতিশীল ছাত্রনেতৃবৃন্দের উপর হামলা-আক্রমণের অংশ হিসেবে বিশ্বজিৎ নন্দীকে নির্যাতন করেছে সন্ত্রাসী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের লোকজন।
বিবৃতিতে বলা হয় “২৮ মে রাতে মৌলভীবাজার শহরে বাসায় ফেরার সময় জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা তার পথরোধ করে। সে সময় তাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং কেন রাজাকার আজহারের বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছে তা নিয়ে বচসা শুরু করে। বিশ্বজিৎ এর প্রতিবাদ জানালে এবং কোনভাবেই সেই পোস্ট মুছে দিতে রাজি না হলে শিবির সন্ত্রাসীরা তাকে থানায় পুলিশের কাছে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। রাত আড়াইটা অবধি আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় তাকে এবং এক পর্যায়ে পুলিশও তাকে ঘটনা না বাড়িয়ে ফেসবুক পোস্ট এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে চাপ দেয়। বিশ্বজিৎ তাতেও সম্মত না হলে এবং সে যখন বলে আপনারা মামলা করলে করেন এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই তখন এক পর্যায়ে তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।”
নেতৃবৃন্দ বলেন, এধরণের ঘটনা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনামলে আমরা দেখেছি ছাত্রলীগ ভিন্নমতের মানুষকে নির্যাতন-নিপীড়ন করে থানায় দিয়ে আসত। আজকে একই ভূমিকায় নেমেছে ছাত্র শিবির। বিশ্বজিৎ নন্দীর নেতৃত্বেই জুলাই আন্দোলনে মৌলভীবাজারে ছাত্রদের প্রথম প্রতিরোধ সংঘটিত হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে ওই অঞ্চলে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্বজিৎ। শুধু জুলাই আন্দোলন নয়, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলেও বারবার তাকে ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
অভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে ক্রমাগত বাম-প্রগতিশীল-গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা-আক্রমণ এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, মব সৃষ্টি করে হেনস্তার ঘটনায় সামিল রয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যার সহযোগী এই সংগঠন। বামপন্থী-গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী এই শক্তির আক্রোশ নতুন কিছু নয়। সন্ত্রাসের দীর্ঘ ঐতিহ্য বহন করা ছাত্রশিবিরের স্বরূপে আবির্ভূত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে অঙ্কুরেই মূলৎপাটন করে দিতে হবে। নেতৃবৃন্দ একই সাথে পুলিশের এই মব সন্ত্রাসীদের পক্ষাবলম্বন করার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং প্রশ্ন তোলেন রাষ্ট্র আসলে কে চালাচ্ছে? সরকার নাকি এই উগ্র ধর্মান্ধ ফ্যাসিস্ট মব সন্ত্রাসীরা?
নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে বিশ্বজিৎ নন্দীকে নির্যাতন ও হেনস্তার ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।