

সংগ্রাম দত্ত
চা-বাগান, বন ও পাহাড়ে ঘেরা শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একই দিনে দুইটি পৃথক স্থান থেকে বিশাল আকৃতির দুই অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়ালেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সাপগুলো নিরাপদে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরতলির জে.টি. রোডের দেবনাথ সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঝোপঝাড়ের ভেতর নড়াচড়ার শব্দ পান। কাছে গিয়ে তারা একটি বিশাল অজগর দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে শ্রমিকরা স্থান ছেড়ে দেন এবং খবর দেন বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে।
সংগঠনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অজগরটি উদ্ধার করেন। সজল দেব জানান, অজগরটির ওজন প্রায় ২৪–২৫ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট।
একই দিন ভোররাতে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের পূর্ব নোয়াগাঁও গ্রামের ন্যাজারিন মিশনের সামনে এক বাড়ির আঙিনায় কুকুর ও গরুর চেঁচামেচিতে এলাকাবাসী ছুটে এসে আরেকটি অজগর দেখতে পান। পরে পুনরায় ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্বপন দেব ও রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত দুই অজগরকেই সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, আবাসস্থল ধ্বংস, খাদ্য সংকট ও মানুষের উপস্থিতি বাড়ার কারণে অজগরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী মাঝে মাঝে জনবসতিতে ঢুকে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব-প্রকৃতি সংঘাত এড়াতে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বড় সাপ দেখলে নিজে থেকে ধরার চেষ্টা না করা, পোষ্য ও গৃহস্থালি পশু নিরাপদ স্থানে রাখা, দ্রুত বনকর্মী বা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংস্থাকে খবর দেওয়া এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা—এসব সতর্কতা মেনে চললে এ ধরনের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
শ্রীমঙ্গলে একই দিনে দুটি অজগর উদ্ধারের ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতি ও মানুষের সংস্পর্শ যত বাড়ছে, ততই সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সমন্বিত উদ্যোগেই ভবিষ্যতে মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর সুরক্ষাও নিশ্চিত করা যাবে।