

ডেস্ক রিপোর্ট
অপমান আর আর্তনাদ নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস করেছেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে তাঁর (রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের) ছবি অপসারণের ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছেন তিনি নিজেই।
বুধবার, ১ অক্টোবর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চিঠিটি প্রকাশ করেন তিনি।
চিঠিতে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন এবং দায়িত্ব পালনরত দেশের রাষ্ট্রপতি যেন অপদস্ত না হয় সেজন্য কি কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া যেত না?
তিনি লিখেছেন, কূটনৈতিক মিশন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি এক রাতের মধ্যে সরানো শুধু গণমাধ্যমেই আলোচনার বিষয় হয়নি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এতে আমার ব্যক্তিগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি অপমাণিত।
চিঠির একেবারে শেষে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন, এ ঘটনায় আমার কোনো অনুযোগ নেই, শুধু আর্তনাদ আছে।
একই চিঠিতে তিনি (রাষ্ট্রপতি) আরও লিখেছেন, আমি সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি এবং সরকারকে সহযোগিতা করছি। স্বাধীনতার পর থেকে এতগুলো অর্ডিন্যান্স জারি করে সরকারকে আইনগত সহযোগিতা করেছি। সরকার আইনগতভাবে শক্তিশালী অবস্থায় আছে। তবু কেন এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো? ৫ আগস্ট থেকে ৮ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত দেশের সংকটকালে আমার কার্যক্রমও প্রনিধানযোগ্য। পরবর্তী সময়ে সরকারের উত্থাপিত সকল কার্যক্রমে আমার অবস্থান স্বতঃস্ফূর্ত এবং ইতিবাচক। তবে কেন? ছবি অপসারণের ক্ষেত্রে এরূপ দৃষ্টিকটু উদ্যোগ নেওয়া হলো।
জিরো পোর্ট্রেট নীতি সরকার অনুসরণ করছে, এতে রাষ্ট্রপতির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি তো আবদার করি নাই যে আমার ছবিকে দায়মুক্তি দেওয়া হোক। আমার ছবি অপসারণের ক্ষেত্রে এই নীতি কৌশলে বাস্তবায়ন করলে গণমাধ্যমের খোরাক হওয়া এড়ানো যেতো, এক্ষেত্রে মানসিকভাবে আমার পূর্ণ সহযোগিতা থাকতো।
প্রকাশিত চিঠিতে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। তবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সেটি হাতে পেয়েছেন কিনা—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।