যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে হামলা: ২ ইহুদি নিহত

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual3 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট

Manual8 Ad Code

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে ইয়োম কিপুর উপলক্ষে আয়োজিত উপাসনার সময় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ইহুদি সম্প্রদায়ের অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং আরও চার থেকে পাঁচজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের (জিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী গাড়ি চালিয়ে উপাসনাকারীদের ভিড়ের দিকে ধেয়ে যায় এবং নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। তার শরীরে বিস্ফোরক সদৃশ একটি ভেস্ট বাঁধা ছিল, তবে তা অকার্যকর ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। মাত্র সাত মিনিটের মধ্যে সশস্ত্র পুলিশ গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে নিস্তেজ করে।

প্রত্যক্ষদর্শী এঞ্জেলা ক্রশো বলেন, তিনি দেখেছেন তিনজন পুলিশ সদস্য হামলাকারীকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন, কিন্তু সে অমান্য করলে পুলিশ তাকে গুলি করে।

Manual8 Ad Code

হামলার পরপরই বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তোলে।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের প্রধান কনস্টেবল স্যার স্টিফেন ওয়াটসন বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের দুইজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে সাহসী নিরাপত্তাকর্মী ও উপাসনাকারীদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে হামলাকারী সিনাগগের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।”

তিনি জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ঘটনাস্থলের ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে না ছড়িয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠানোর অনুরোধ করেন।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের সহকারী কমিশনার লরেন্স টেলর বলেন, “ইহুদি সম্প্রদায়ের পবিত্রতম দিন ইয়োম কিপুরে এমন ভয়াবহ হামলা হওয়া বেদনাদায়ক। ঘটনাটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা ঘোষণা করা হয়েছে এবং তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলছে।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার কোপেনহেগেনে চলমান একটি ইউরোপীয় সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে জরুরি “কোবরা” বৈঠক আহ্বান করেন। বৈঠকে মেট পুলিশের প্রধান মার্ক রাউলি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি উপস্থিত ছিলেন। স্টারমার ঘোষণা দেন যে, সারাদেশের সব সিনাগগে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

তিনি বলেন, “ইয়োম কিপুরের দিনে এমন একটি হামলা কেবল ভয়াবহই নয়, অত্যন্ত মর্মান্তিকও। নিহতদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, “ইহুদি ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পবিত্র দিনে এমন হামলার খবর শুনে আমি গভীরভাবে মর্মাহত।”

রাজা চার্লস তৃতীয় এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লন্ডনে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাস এটিকে “অত্যন্ত জঘন্য ও মর্মান্তিক” আখ্যা দিয়ে ম্যানচেস্টারের ইহুদি সম্প্রদায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।

Manual6 Ad Code

ম্যানচেস্টারের এই হামলা যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো গেলেও, এ ঘটনায় ইহুদি সমাজসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code