

ডেস্ক রিপোর্ট
গাজা উপত্যকায় মঙ্গলবার রাতের ভয়াবহ ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সেখানকার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে ৪৬ শিশু ও ২০ নারী রয়েছেন, আর ২৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এই হামলা চালানো হয়েছে “হামাসের সন্ত্রাসী ঘাঁটি ও যোদ্ধাদের” লক্ষ্য করে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, গাজায় হামাসের এক আক্রমণে একজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন এবং হামাস চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে মৃত জিম্মিদের দেহ ফেরত না দেওয়ার অপরাধ করেছে। তবে হামাস জানায়, ওই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তারা যুদ্ধবিরতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, “কোনো কিছুই বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলবে না,” তবে তিনি সতর্ক করে দেন, “ইসরায়েল তার সেনাদের ওপর আক্রমণের জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতভর গাজা সিটির আকাশে আগুন ও ধোঁয়ার বিশাল স্তম্ভ উঠে যায়। ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজা সিটি, বেইত লাহিয়া, বুরেইজ, নুসেইরাত এবং খান ইউনুসে বসতবাড়ি, স্কুল ও আবাসিক ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামাস নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গাজা সিটির সাবরা এলাকার আল-বান্না পরিবারের বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে আবু শারার পরিবারের পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং খান ইউনুসের কাছে একটি সড়কে বিমান হামলায় আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।
এই হামলার পর গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে।