ডিআরকঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলা জোরদারে ডব্লিউএইচও প্রধানের আহ্বান

লেখক: Rumie
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া এবং সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের উন্নত সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস।বুধবার ডিআর কঙ্গো সফরে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডিআর কঙ্গো গত ১৫ মে দেশটিতে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করে।ডব্লিউএইচও’র প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ প্রাদুর্ভাবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮৭৪ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।মঙ্গলবার কিনশাসায় পৌঁছান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস। তার এক মুখপাত্র বুধবার এএফপিকে জানান, তার প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদির সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।প্রতিক্রিয়া কার্যক্রমে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকের পর টেড্রোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমাদের প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের চেয়ে দ্রুত গতিতে প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই কয়েকটি হটস্পটে নতুন রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সব প্রচেষ্টা জরুরি ভিত্তিতে এবং ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এর অর্থ হলো, নিরাপত্তাহীনতা ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে হবে। সমন্বয় জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা, নজরদারি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ দাফনের ব্যবস্থা দ্রুত সম্প্রসারণ করতে হবে।’

এর আগে মে মাসের শেষ দিকে টেড্রোস উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশ সফর করেছিলেন। দেশটিতে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ ইবোলা রোগী এ প্রদেশেই পাওয়া গেছে।পূর্বাঞ্চলের আক্রান্ত পাঁচটি প্রদেশে সরকারের উপস্থিতি দুর্বল। স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোও সেখানে ব্যাপকভাবে অনুপস্থিত।

ইবোলা নিয়ন্ত্রণে চলমান সংকটের চিত্র এ সপ্তাহে ইতুরির খনিশহর মংবওয়ালুতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থা ওসিএইচএ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় ১০০ শয্যার একটি নতুন ইবোলা চিকিৎসাকেন্দ্র চালু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতেই কেন্দ্রটি চালু করা হয়েছে।শরীরের তরলের সংস্পর্শে ইবোলা ছড়ায়। এতে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হয়। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এ রোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

Manual3 Ad Code

-টিকা ও চিকিৎসা-
বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাস। এ ধরণের ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।

মঙ্গলবার কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্নাকে বুন্ডিবুগিও ভাইরাসের সম্ভাব্য টিকার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুরু করার অনুমতি দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

গত জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি আরেকটি সম্ভাব্য টিকার প্রথম ডোজ এক স্বেচ্ছাসেবককে দেওয়া হয়েছে। এ টিকাটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

এ ছাড়া সিঙ্গাপুরভিত্তিক হিলেম্যান ল্যাবরেটরিজ বুন্ডিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৃতীয় একটি সম্ভাব্য টিকার মানবদেহে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।ডব্লিউএইচওর মতে, এটিই সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক। কারণ এতে একই আরভিএসভি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছে, যেটি বর্তমানে অনুমোদিত একমাত্র ইবোলা টিকা এরভেবো-তে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে এরভেবো জাইর নামে ভিন্ন একটি ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর।

Manual5 Ad Code

ইতুরিতে নিশ্চিত ইবোলা রোগীদের ওপর বর্তমানে দু’টি সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতির পরীক্ষা চলছে। এগুলো হলো মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি এমবিপি১৩৪ এবং অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির। ওষুধ দু’টি পৃথকভাবে ও সমন্বিতভাবে প্রয়োগ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।এদিকে নিশ্চিত বুন্ডিবুগিও ইবোলা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের ওপর মুখে খাওয়ার অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ ওবেলডেসিভিরেরও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ ইতুরিতে চলছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code