

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক জীবনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এর ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন হয়রানি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, পেজ ও আইডি হ্যাক হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জটিলতাসহ সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সমস্যাও প্রকট হচ্ছে। প্রযুক্তির এই অন্ধকার দিক ও সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় ব্যবহারকারীদের নিরলস সহযোগিতার পাশাপাশি তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে আলো ছড়াচ্ছেন সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার এক তরুণ সাইবার এক্সপার্ট আবদুল সুবহান খালেদ। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের বাসিন্দা খালেদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে অবস্থান করলেও, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও দেশের মানুষের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানে নিজের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইতোমধ্যে তিনি বহু ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করেছেন। সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং দায়িত্বশীলভাবে সমাধানের পথে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করছেন।
তবে শুধু ব্যক্তিগতভাবে সাইবার সমস্যা সমাধানেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই তরুণ। দেশের তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে তিনি নিয়েছেন বিশেষ প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার উদ্যোগ। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তরুণরা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের নিয়মনীতি, নিরাপত্তা, সমস্যা সমাধানের আধুনিক পদ্ধতি এবং অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন বিষয়ে সম্যক ধারণা লাভ করছেন। খালেদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া অনেকেই বর্তমানে স্বাধীনভাবে কাজ করছেন। আবার কেউ কেউ তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন টিমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এই টিমগুলো অনলাইন হয়রানির শিকার ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়ানো, ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্টিং, হারানো পেজ ও অ্যাকাউন্ট উদ্ধার এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সমস্যা সমাধানে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, খালেদের কাজের অন্যতম প্রশংসনীয় দিক হলো সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি নতুনদের বাস্তব কাজের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যদের কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কেসগুলোর তদারকিও করেন তিনি। এতে প্রশিক্ষণ নেওয়া তরুণরা বাস্তব পরিস্থিতিতে কাজ করার ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, যা তাদের কর্মসংস্থানেও ভূমিকা রাখছে।
সেবা নেওয়া কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যবহারকারী জানান, অনলাইন-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় যখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন, তখন প্রয়োজনের সময় খালেদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সহযোগিতা পেয়েছেন। সমস্যা বুঝে দ্রুত সমাধান করা এবং ব্যবহারকারীদের সঙ্গে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ ও সংবেদনশীল আচরণ তার কাজের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক বলে তারা উল্লেখ করেন। বর্তমান সময়ে সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি অনলাইন নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়গুলো জানা জরুরি হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় তরুণদের প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনবল তৈরি এবং ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ডিজিটাল সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়ে অনন্যনজির স্থাপন করেছেন আবদুল সুবহান খালেদ। ডিজিটাল খাতে তার এই দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও কাজের মান তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি একটি নিরাপদ, সচেতন ও সুস্থ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।